সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অধ্যাদেশ জারির পর পরবর্তী সংসদ অধিবেশনের প্রথম বৈঠকে তা উত্থাপন করতে হয়। উত্থাপনের ৩০ দিনের মধ্যে সংসদ কর্তৃক অনুমোদিত না হলে অধ্যাদেশটির কার্যকারিতা লোপ পায়। সেই হিসেবে আগামী ১২ এপ্রিলের মধ্যে এই ১৬টি অধ্যাদেশ ল্যাপস হয়ে যাবে। ১২টি অধ্যাদেশের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর তিন সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ও গাজী নজরুল ইসলাম ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা ভিন্নমত দিয়েছেন।
গত (বুধবার) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে শুরু হওয়া অধিবেশনে বিশেষ কমিটির রিপোর্টটি উত্থাপন করেন কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি অধ্যাদেশ বর্তমান আকারেই পাসের জন্য সুপারিশ করেছে বিশেষ কমিটি। অবশিষ্ট ১৫টি সংশোধিত আকারে এবং ৪টি অধ্যাদেশ রহিতকরণ ও হেফাজতের জন্য এখনই বিল আকারে উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে।
তবে ১৬টি অধ্যাদেশ এখনই সংসদে না পাঠিয়ে আরও সময় নিয়ে যাচাই-বাছাইয়ের পক্ষে মত দিয়েছে কমিটি। এই তালিকায় রয়েছে– গণভোট অধ্যাদেশ-২০২৫; জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ-২০২৫গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ-২০২৫; দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫; তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৬; রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ-২০২৫ (ও সংশোধন); মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫; কাস্টমস (সংশোধন) ও আয়কর (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৫; বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৬; বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২৬; মানবদেহে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সংযোজন অধ্যাদেশ-২০২৫ এবং মাইক্রো ফাইন্যান্স ব্যাংক অধ্যাদেশ-২০২৬।
জামায়াতের সদস্যরা জেলা পরিষদ, উপজেলা, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা সংশোধন সংক্রান্ত চারটি অধ্যাদেশের বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন। রিপোর্টে বলা হয়েছে, সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদ এবং সুপ্রিম কোর্টের ‘কুদরত-ই-ইলাহী পনির বনাম বাংলাদেশ’ মামলার রায়ের আলোকে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহে অনির্বাচিত প্রশাসক নিয়োগ সংবিধানবিরোধী ও বেআইনি।
উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ১৩ সদস্যের এই বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটি পরপর তিনটি বৈঠকে ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ের কাজ সম্পন্ন করে।





















