


গাইবান্ধার ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে ২০২৬ সালের এইচএসসি বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার ঘটনায় কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট ৯ কর্মকর্তাকে পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ড ঘটনাটিকে চরম দায়িত্বে অবহেলার শামিল উল্লেখ করে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর মো. বোরহান উদ্দিন স্বাক্ষরিত ২ জুলাইয়ের এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। একই সঙ্গে ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেওয়া শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র নিয়ে কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বোর্ডে স্বশরীরে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়, যাতে উত্তরপত্র যথাযথভাবে মূল্যায়নের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন, ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ও কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস. এম. আসাদুল ইসলাম, ট্যাগ অফিসার ও ফুলছড়ি উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন এবং কক্ষ পরিদর্শক শৈলান কুমার, তানজিলা খাতুন, হাসান মাহমুদ, সাইফুল বারী, স্মৃতি আক্তার, গোলাম মোস্তফা আকন্দ ও সরাবান তহুরা।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ফুলছড়ি সরকারি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে অনিয়মিত পরীক্ষার্থী ছিল মাত্র ১১ জন। কিন্তু ভুলবশত ৫০ জন নিয়মিত পরীক্ষার্থীকে ২০২৫ সালের সিলেবাস অনুযায়ী প্রণীত প্রশ্নপত্র দিয়ে বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষা নেওয়া হয়। কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে বোর্ড এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হয়।
চিঠিতে আরও বলা হয়, ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষাসমূহ (অপরাধ) আইন অনুযায়ী এ ধরনের ঘটনা চরম দায়িত্বে অবহেলার শামিল। পরীক্ষা পরিচালনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, ট্যাগ অফিসার, পরীক্ষা কমিটির আহ্বায়ক, কক্ষ পরিদর্শকসহ সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বে গাফিলতির কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে তাদের পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া প্রয়োজন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় কেন্দ্রটির ১০৭ ও ১০৯ নম্বর কক্ষে নিয়মিত ও অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্নপত্র অদলবদল করে বিতরণ করা হয়।
পরীক্ষার সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী বিষয়টি দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জানালেও তাদের পরীক্ষা চালিয়ে যেতে বলা হয়। পরীক্ষা শেষে প্রশ্নপত্র মিলিয়ে দেখার পর বিষয়টি নিশ্চিত হলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দেয়। পরে কলেজ প্রাঙ্গণে অভিভাবকদের ভিড় জমে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ঘটনার পর কেন্দ্র সচিব এস. এম. আসাদুল ইসলাম দাবি করেছিলেন, যে প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে, সেই প্রশ্নপত্র অনুযায়ীই উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হবে এবং কোনো পরীক্ষার্থীর ক্ষতি হবে না। অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছিলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এদিকে শিক্ষা বোর্ডের সর্বশেষ সিদ্ধান্তে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ায় ঘটনাটি নতুন মাত্রা পেয়েছে। একই সঙ্গে ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেওয়া শিক্ষার্থীদের ফলাফল কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে, সে বিষয়ে শিক্ষা বোর্ডের পরবর্তী সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্টরা।