


২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ মাঠে গড়ানোর মাত্র কয়েক দিন আগে নতুন এক বাণিজ্যিক উদ্যোগ নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। এবার বিশ্বকাপের ফাইনালের অফিশিয়াল সংবাদ সম্মেলন (প্রেস কনফারেন্স) দেখার জন্য সাধারণ দর্শকদের কাছে টিকিট বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। শুক্রবার নিউ ইয়র্কে এই সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এবারের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। সংবাদ সম্মেলনে দুই ফাইনালিস্ট দলের প্রতিনিধি ছাড়াও উপস্থিত থাকবেন ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ানি ইনফান্তিনো।
পূর্ববর্তী বিশ্বকাপগুলোর নিয়মের তোয়াক্কা না করে, এবার নির্দিষ্ট মূল্যের টিকিটের বিনিময়ে সাধারণ দর্শকদেরও এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত থাকার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এজন্য একজন দর্শককে গুণতে হচ্ছে ৮০ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৯ হাজার ৫০০ টাকা। মূলত ‘ফ্যানাটিকস’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের সাথে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে নিউ ইয়র্কের জাভিটস সেন্টারে ভক্তদের জন্য একটি উৎসবের আয়োজন করেছে ফিফা। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় ম্যাচের আগে ভক্তদের জন্য নিজেদের জাতীয় দলের খেলোয়াড় ও প্রতিনিধিদের কাছ থেকে দেখার এটি একটি বিরল সুযোগ।
তবে বাণিজ্যকরণের দৌড় কেবল সংবাদ সম্মেলনেই সীমাবদ্ধ নয়। এই উৎসবে সাবেক ফুটবলার ও তারকাদের উপস্থিতিতে আরও কিছু পেইড সেশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যেমন, ফিফা অ্যাম্বাসেডর ও সাবেক ইংলিশ ডিফেন্ডার রিও ফার্দিনান্দের সঙ্গে ছবি তোলার জন্য ভক্তদের গুণতে হচ্ছে ১৬৮.৯৫ ডলার (প্রায় ২০ হাজার টাকা)।
এছাড়া সাবেক বেসবল তারকা আলেক্স রদ্রিগেজের সঙ্গে একটি ছবির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩২১ ডলার (প্রায় ৩৮ হাজার ৫০০ টাকা)। ব্রিটিশ গণমাধ্যম ‘দ্য টাইমস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাবেক ফুটবল তারকা ডেভিড বেকহ্যামও এই উৎসবের একটি প্যানেল আলোচনায় অংশ নিতে পারেন। চলতি বিশ্বকাপে ফিফার এমন মারমুখী বাণিজ্যিক কৌশল এবারই প্রথম নয়। এর আগে ম্যাচ চলাকালীন ফুটবলারদের ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ বা পানি পানের বিরতিকে বিজ্ঞাপনের স্লটে রূপান্তর করায় তীব্র সমালোচনা সইতে হয়েছিল ফিফাকে। আমেরিকান ব্রডকাস্টাররা এই বিরতিগুলোতে দেদারসে বিজ্ঞাপন বিক্রি করেছে। ইংলিশ গণমাধ্যমের দাবি, ফক্স স্পোর্টস বিশ্বকাপের সম্প্রচার স্বত্ব কিনতে যে ৪৮৫ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছিল, তার অর্ধেকেরও বেশি তারা তুলে নিয়েছে কেবল এই হাইড্রেশন ব্রেকের বিজ্ঞাপন বিক্রি করে।
এদিকে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার ফাইনাল ম্যাচের টিকিটের আকাশচুম্বী দাম নিয়েও সমালোচনা চলছে। মার্কিন গণমাধ্যমের তথ্যমতে, মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ফাইনালের গড় টিকিট মূল্য ঠেকেছে ১১ হাজার ডলারে (প্রায় ১৩ লাখ ৩৫ হাজার টাকা), যা যুক্তরাষ্ট্রের ক্রীড়া ইতিহাসের অন্যতম ব্যয়বহুল ইভেন্টে পরিণত হয়েছে।
এখানেই শেষ নয়, ফাইনাল খেলা শেষে স্টেডিয়ামের ব্যবহৃত ঘাস বা টার্ফ কেটে টুকরো টুকরো করে তা-ও বিক্রি করার পরিকল্পনা করেছে ফিফা। প্রতি টুকরো ঘাসের দাম ধরা হয়েছে ৪৫০ ডলার (প্রায় ৫৪ হাজার টাকা)। মাঠের সব ঘাস বিক্রি করতে পারলে এই খাত থেকেই ফিফার পকেটে আসবে আরও প্রায় ১১ মিলিয়ন ডলার। বিশ্বকাপের মতো মহোৎসবকে এভাবে বাণিজ্যিক রূপ দেওয়া এবং সাধারণ ভক্তদের আবেগকে পুঁজি করে অর্থ উপার্জনের এই আগ্রাসী নীতিকে ফুটবল প্রেমী ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো ‘অর্থ আত্মসাৎ’ বা ‘চাঁদাবাজি’র শামিল বলে অভিহিত করছে।