1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে স্বাবলম্বী হওয়ার পথে লালমনিরহাটের ১০০ নারী | দৈনিক সকালের বাণী
শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৪৫ পূর্বাহ্ন

বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে স্বাবলম্বী হওয়ার পথে লালমনিরহাটের ১০০ নারী

লালমনিরহাট অফিস
  • আপলোডের সময় : শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬
  • ৩২ জন দেখেছেন
প্রশিক্ষণ শেষে হাতে এসেছে সেলাই মেশিন। এবার ঘরে বসেই কাজ করে আয় করার সুযোগ তৈরি হয়েছে লালমনিরহাটের ১০০ নারীর। বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে তিন মাসের বিনা মূল্যের প্রশিক্ষণ শেষে জেলার পাঁচ উপজেলার এসব নারীকে একটি করে সেলাই মেশিন উপহার দেওয়া হয়েছে। এতে নিজেদের স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি পরিবারে আর্থিকভাবে অবদান রাখার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে তাঁদের।
গত ২৫ অক্টোবর দুপুরে লালমনিরহাট জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে নারীদের হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হয়। এ সময় সুবিধাভোগী নারীদের অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তাঁদেরই একজন কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারীর গৃহবধূ সাজেদা বেগম।
সেলাই মেশিন হাতে পেয়ে সাজেদা বেগম বলেন, ‘আমি খুশি, অনেক অনেক খুশি। আমার আজ যে কত ভালো লাগছে সেটা বলে বোঝাতে পারব না। আমার একটা স্বপ্ন পূরণ হলো। আমি এখন বাড়িতে বসে আয় করে সংসারে অবদান রাখব এবং তিন ছেলেমেয়ের লেখাপড়ায় সহযোগিতা করতে পারব।’
বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে ‘অসচ্ছল নারীদের স্বাবলম্বী করার’ কর্মসূচির আওতায় পাঁচ উপজেলার ১০০ নারীকে সেলাই মেশিন দেওয়া হয়। এর আগে তাঁদের তিন মাস বিনা মূল্যে সেলাই প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণ শেষে কাজ শুরু করার জন্যই তাঁদের প্রত্যেকের হাতে একটি করে সেলাই মেশিন তুলে দেওয়া হয়েছে।
জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে আয়োজিত সেলাই মেশিন বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মুহা. রাশেদুল হক প্রধান। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হক। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রধান ও বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন বসুন্ধরা শুভসংঘের পরিচালক জাকারিয়া জামান, লালমনিরহাট শুভসংঘের উপদেষ্টা অধ্যক্ষ এন্তাজুর রহমান ও সুনীল কুমার সূত্রধর, সভাপতি জামাল হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক নাঈম ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন লালমনিরহাট শুভসংঘের উপদেষ্টা তন্ময় আহমেদ নয়ন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মুহা. রাশেদুল হক প্রধান বলেন, একসঙ্গে এতজন নারীকে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ অনুপ্রেরণাদায়ক। শুভসংঘের দেশব্যাপী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের কার্যক্রম সরকারি উদ্যোগকেও এগিয়ে নিতে সহায়তা করছে। লালমনিরহাটের ইতিহাসে একসঙ্গে এতগুলো সেলাই মেশিন বিতরণের ঘটনা বিরল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, সরকারের পাশাপাশি বসুন্ধরার এ ধরনের উদ্যোগ দেশের অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখবে।
জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হক বলেন, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে বসুন্ধরার উদ্যোগ প্রশংসনীয়। সারা বছরই প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্নভাবে মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বসুন্ধরা শুভসংঘের প্রধান ও বসুন্ধরা গ্রুপের উপদেষ্টা ইমদাদুল হক মিলন বলেন, লালমনিরহাটে দ্বিতীয় দফায় ১০০ নারীকে সেলাই মেশিন দেওয়া হলো। এ উদ্যোগ তাঁদের জন্য আনন্দের। অর্থের অভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে না পারা তিন হাজার শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে বসুন্ধরা শুভসংঘের লাইব্রেরি রয়েছে। শুভসংঘ ও বসুন্ধরা গ্রুপ বিভিন্নভাবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে কাজ করে যাচ্ছে। প্রশিক্ষণ শেষে সেলাই মেশিন পাওয়া নারীরা নিজেদের কাজের পাশাপাশি অন্য নারীদেরও প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে তুলতে পারবেন। নারীরা সব ক্ষেত্রেই এগিয়ে থাকেন। মনোবল নিয়ে তাঁদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সেলাই মেশিন পাওয়া আদিতমারী উপজেলার তিস্তাতীরবর্তী মহিষখোচা এলাকার হিমু আক্তার বলেন, অর্থাভাবে তাঁর কলেজের পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। ঠিক সেই সময়ে বসুন্ধরা শুভসংঘ তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছে। এখন সেলাই মেশিনে অন্যের পোশাক তৈরি করে আয় করে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে তাঁর।
তিনি বলেন, ‘আমি এখন সেলাই মেশিনে অন্যের কাপড় সেলাই করে রোজগার করে লেখাপড়া চালিয়ে নিতে পারব। বসুন্ধরাকে অনেক ধন্যবাদ জানাই।’
আরেক সুবিধাভোগী শিউলী রানী বলেন, অসুস্থ স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে সংসার চালাতে তাঁর অনেক কষ্ট হয়। নিজের আয় দিয়ে সংসারে সহযোগিতা করার ইচ্ছা থাকলেও সুযোগের অভাবে তা সম্ভব হচ্ছিল না। বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে সেই সুযোগ তৈরি হয়েছে।
শিউলী রানী বলেন, ‘প্রবল ইচ্ছা ছিল কিছু একটা করে সংসারের হাল ধরতে। বসুন্ধরা শুভসংঘ সেই সুযোগ এনে দিয়েছে। বসুন্ধরার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।’
সেলাই মেশিন হাতে পাওয়া নারীরা আশা করছেন, প্রশিক্ষণে অর্জিত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে তাঁরা ঘরে বসেই আয় করতে পারবেন। এর মাধ্যমে নিজেদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি পরিবারের ব্যয় মেটানো ও সন্তানদের পড়াশোনায় সহায়তা করার সুযোগও তৈরি হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )