উপজেলার সদর ইউনিয়নের কামাত আঙ্গারীয়া গ্রামের (দফাদার পাড়া) মৃত হবিবর রহমানের স্ত্রী নাসিমা (৪৭)। তার স্বামী ৩ বছর আগে মারা যাবার পর ছেলে রাজু মিয়া (২২) তার স্ত্রী, নাতি মিনহাজ (৭) ও ছোট ছেলে লিমন (১৮) কে নিয়ে একই বাড়িতে বসবাস করতো।
বড় ছেলে রাজু মিয়া মাদকাসক্ত হয়ে পড়লে তার নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে স্ত্রী বছর খানেক আগে সন্তান ও স্বামী রেখে ঢাকায় চলে যায়। স্ত্রী ঢাকায় যাবার পর মাদকাসক্ত রাজু আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে। মাদকের টাকার জন্য মায়ের উপর নানা ধরণের অত্যাচার,নির্যাতন ও ঘরের জিনিসপত্র বিক্রি শুরু করে। এ অবস্থায় গত ২ জুন-২০২৬ তারিখে সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল হক ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে অভিযুক্ত রাজুকে একশত টাকা জরিমানা ও ৫ মাসের জেল দেয়।
সে জেলে যাবার পর ছোটভাই লিমন ভয়ে ঢাকায় চলে যায়। ৫ মাস জেল খাটার পর গত রবিবার (১ নভেম্বর) জেল থেকে মুক্তি পেয়েই মোবাইলে মাকে প্রাণ নাশের হুমকি দেয়। কোন উপায় না পেয়ে মা নাসিমা বেওয়া নাতি মিনহাজকে নিয়ে ওইদিনই তার বাপের বাড়ি পাইকেরছড়ায় চলে যায়।
বাড়িতে এস রাজু ঘরবাড়ি ভাংচুর চালায় ও মাকে খুজতে থাকে। এব্যাপারে মা নাসিমা বেওয়া রবিবার রাতে থানায় গেলে থানা পুলিশ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে যোগাযোগ করতে বলে। থানা পুলিশের পরামর্শ মতো সোমবার (০২ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দপ্তরে এসে ঘটনার বর্ণনা দিয়ে প্রাণ বাঁচানোর দাবী জানান মা নাসিমা।
নাসিমা বেওয়া জানান, আমি বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। থানায় গেছি পুলিশের কাছে। পুলিশ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে যেতে বলেছে। উনার কাছে আসলাম ওনি আবার থানায় যেতে বললো। রাজু দেখা পেলে আমাকে মেরে ফেলবে। তিনি তার প্রাণ বাঁচানোর আকুতি জানান।
এব্যাপারে সদর ইউপি চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড মেম্বার আব্দুল লতিফ জানান, খবর পেয়ে রবিবার রাতে আমি তার বাড়িতে গিয়ে রাজুকে বুঝানোর চেষ্টা করি। কিন্তুু সে কোন কথাই শুনতে চায়না। সে তার মাকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে এবং ঘরবাড়ির তালা ও বেড়া ভেঙ্গে ফেলেছে। মাঝে মাঝে রাজু আত্মহত্যার হুমকি দিচ্ছে। প্রাণ ভয়ে তার মা নাতিকে নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমৃত দেব নাথ জানান, অভিযোগকারী মহিলা আমার কাছে এসেছিলো তাকে থানায় জিডি করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
ওসি আজিম উদ্দিন জানান, আমি কোর্টে থাকার কারনে উনি ( নাসিমা) এসেছিলো কিনা জানিনা । উনি আসলে বিষয়টি আমলে নিয়ে জিডি করা হবে।