এখনো জনপ্রিয়তায় হাজার বছরের গ্রামীন ঐতিহ্যের পিঠালী মজলিস। আটার ডাইল (পিঠালি) ও ভাত একত্রে গণ খাবারের মজলিস। সুস্বাধু এই খাবার থেকে ভোরের আলো ফোটার আগেই হাজারো মানুষের জমায়েত। যেন কে কার আগে আসে । মজলিস গ্রামীন চিরচেনা পরিবেশ হাজার বছর থেকে চলে আসছে। এক সময় কলার গাছের পাতায় করে সোজা লাইনে হাজারো মানুষ এক সাথে বসে খাবার খেত। আর মজলিসের উপস্থিত সবাই মুনাজাত করতেন আল্লাহর দরকারে। কিন্তু বর্তমানে আধুনিকতার ছোয়ায় অনটাইম প্লেটে খাবার পরিবেশন করা হয় ।
সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের রাঘরপুর গ্রামে আব্দুল কাফি ব্যাপরী (৩০ ডিসেম্বর সোমবার সকাল ৭ টার দিকে ) খাবার মজলিসের আয়োজন করেন।
৮০ বছর বয়সী আব্দুল কাফি ব্যাপর জানান, আসলে আমি ছোটথেকে বড় হইছি কখনো মনের মতো করে কাউকে খাওয়াতে পারিনি। আজ ২টি গরু জবেহ করে ৪ মণ মাংসের সাথে ১ মণ আটা দিয়ে পিঠালি ও ৮ মণ চালের রান্না করা ভাতসহ খাবার পরিবেশন করার আয়োজন করেছি।
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলা কাঠ ব্যবসায়ী মতিয়ার রহমান বলেন, বোনারপাড়ার রাঘরপুর গ্রামে আমি আটার ডাইলের পিঠলির মজলিসে এসেছি । পরিবেশ বেশ ভাল । আসলে আমরা এই খাবারটি আনন্দের সাথে খেয়ে থাকি ।
সাঘাটা উপজেলার তেলিয়ার গ্রামের রাব্বী মিয়া জানান, আমি অনেক ছোটতে বাবার হাত ধরে মজলিস খেতে আসতাম। আচ মজলিস খেতে আসার পরে ছোট বেলার কথা মনে পওে গেল । সামাজিক ভাবে মানুষের বসবাসে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে মসলিস গ্রামীন ঐতিহ্য বহন করে আসছেন।
কবি ও সাংবাদিক প্রতিক ওমর বলেন, শুনকো খরের উপরে কলায় পাতায় পিঠালী ও ভাত খেতে বেশ ভাললাগে। মজলিস এখনো গ্রামের মানুষের মাঝে সুসম্পর্ক ধরে রেখেছেন। কবি ও লেখকরা তাদের লেখনীতে মজলিস নিয়ে বিভিন্ন লেখা তুলে ধরে থাকেন ।
কৃষি গভেষক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম জানান, ১৯৭১ সালের আগেও আমরা মসজিসে যেতাম খাবার খেতে । এখন ২০২৪ সালে আমরা একই পরিবেশে মজলিসে খাবার খেয়ে থাকি । আসলে গ্রামের মানুষ দাওয়া বললে মজলিসের দাওয়াতেই বেশী আনন্দ পেয়ে থাকে ।