
আওয়ামীলীগ সরকার বলতেন গণতন্ত্রের দরকার নেই, উন্নয়ন হলেই চলবে। উন্নয়ন করতে গিয়ে তারা রডের বদলে বাশ দিয়েছে, সিমেন্টের সাথে ছাই মিশিয়ে দিয়েছেন। বাংলাদেশ থেকে তারা ২৬ লাখ কোটি টাকা চুরি করে বিদেশে পাচার করেছে। যখনই তারা অন্যায় করেছে আমরা অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছি। আমাদেরকে মিটিং মিছিল করার সুযোগ দেওয়া হয়নি। কিন্তু তাই বলে আমরা বসে থাকিনি। যখনই দেশ এবং জনগনের বিপক্ষে সরকার অবস্থান নিয়েছে আমরা প্রতিবাদ জানিয়ে রাস্তায় নেমেছি। আমরা যখনই একটা মিছিল করতাম আমরা বুঝতাম আমাদের কেউ গ্রেপ্তার হবে কেউ মারা যাবে কেউ গুম হতে পারে। গুলি করে পঙ্গু বানায় ফেলতে পারে। মামলা দিয়ে জেলে দিতে পারে। এরপরও শুধু আল্লাহকে পরোয়া করেছি এসবকে আমরা পরোয়া করি নাই।
শনিবার (২৫ জানুয়ারি) দিনাজপুরে জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সম্মেলনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান আরো বলেন, আমরা বাংলাদেশের মানুষের সাথে ছিলাম। যেখানেই খরা দুর্ভিক্ষ বন্যা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এসেছে মজলুম সংগঠন হিসেবে সবার আগে মানবিক দায়িত্ব পালনের জন্য আমরা আমাদের ভাইবোনদের কাছে পৌছে গেছি। আমরা চেষ্টা করেছি পুরো সাড়ে ১৫ বছর ধরে আমরা এভাবেই তিলে তিলে সহায্য করেছি। ওরা আমাদের সহ্য করতে পারেনি বিভিন্ন জায়গায় আমাদের হুমকি ধামকি দিয়েছে। বন্যায় দেশ ভাসছে ওরা কিছু করেনা মানুষ জনগনের কাছে যাবে ভালোবেসে সহানুভুতি নিয়ে সেটাও সহ্য করেনা। আমরা বলেছি জনগণের পাশে দাড়ানোর জন্য যদি আমাদেরকে গ্রেপ্তার করে করুক আমরা পরোয়া করিনি। এই ধরনের আচরণ পুরোটা সময় জুড়ে করেছে। আমরা দমে যাইনি। সাম্য আর সৌহার্দ্যের বাংলাদেশ গড়তে আমি সবার সহযোগিতা চাই।
জামায়াতের আমির সাবেক বিচারপতি এনায়েতুর রহিমকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তিনি নিজেকে শপথ বদ্ধ রাজনীতিবিদ হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিয়েছিলেন। আমি তাকে বলি আপনি শপথভঙ্গ রাজনীতিবিদ। আপনি যখন বিচারকের শপথ নেন সেই শপথে লিখা ছিলো কোন রাগ অনুরাগের বসবর্তী হয়ে আপনি কোন রায় দিবেন না। অথচ আপনি একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষ নিয়েছিলেন। আপনি পক্ষপাত দুষ্ট ছিলেন। অতত্রব আপনি আপনার শপথ ভঙ্গ করেছেন। এই শপথ ভঙ্গের কারনে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হতে পারে। এইভাবে তারা বিচার বিভাগকে ধ্বংস করেছে, নির্বাচন কমিশনকে বশীভুত করে গোলাম বানিয়েছে, বাংলাদেশের মানুষকে তারা তাদের গোলাম বানাতে চেয়েছিল।অতীতে যারা আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে ভাবছিলেন আঘাত দিয়ে কষ্ট দিয়ে আমাদেরকে নিশ্চিহ্ন করে দেবেন আমি তাদেরকে বলতে চাই যত ষড়যন্ত্র করবেন যত আঘাত দিবেন আল্লাহ তালা তত এই সংগঠনকে আগায় দিবেন। কারণ আমরা মানবতার জন্য কাজ করি। আমাদের একটা মানবিক হৃদয় আছে।
তিনি আরো বলেন, কর্মী সম্মেলনে সনাতন ধর্মী একজনের বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ওই ভাই বলেছেন এমন একটা বাংলাদেশে আমরা বসবাস করতে চাই, যে বাংলাদেশে আর আতঙ্কে থাকতে হবেনা। আমি তাদেরকে বলি কারা আতঙ্কমুক্ত বাংলাদেশ দিতে পারবে সেই দলটাকে খুঁজে বের করুন। যারা এই ৫৪ বছর আপানাদের জমি জমা অবৈধভাবে দখল করে নাই, আপনাদের সম্পদ লুণ্ঠন করে নাই, আপনাদের ইজ্জিতের উপরে হাত দেয় নাই সেই দলটিকে আপনারা খুঁজে পাবেন। একটু বিবেকের চক্ষু দিয়ে খুঁজলে পেয়ে যাবেন।৫ আগস্ট এই দেশে একটা যুগান্তকারী পরিবর্তন হয়েছে। কেউ বলেছে গণ বিপ্লব, কেউ বলছে গণ অভ্যুত্থান। যে যেভাবেই বলুক আমরা প্রথম দিন থেকে সচেতন ছিলাম একটা কুচক্রী মহল বরাবর যাদের খাসলত খারাপ তারাই আবার সমাজে একটি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। এজন্য আমরা আমাদের সহকর্মীদের এবং দেশবাসীকে আহবান জানিয়েছিলাম ধৈর্য ধরুণ শান্ত থাকুন। শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা করুণ।
ডা. শফিকুর রহমান আরো বলেন, বিগত দিনে আওয়ামীলীগের ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন, আওয়ামীলীগ ক্ষমতা থেকে বিদায় নিলে তাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হাতে দুই দিনের ভিতরে তাদের পাঁচ লাখ নেতাকর্মী খুন হবে। তাদের পাঁচজন নেতাকর্মীও খুন হয় নাই। তাদের হাত মানুষের রক্তে লাল থাকতে পারে, তাদের চোখ খুনের নেশায় সবসময় মাতাল হতে পারে কিন্তু বাংলাদেশের জনগন তাদের মত নয়। এদেশের জনগন তাদের দেশকে ভালোবাসে, মাটিকে ভালোবাসে। এজন্য দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে। এরপরও দুই একটি খুনের ঘটনা ঘটেছে। আমরা সেগুলোর বিচার দাবি করেছি। কেউ দোষী হলে বিচারের মাধ্যমে হবে। অবশ্যই বিচারের নামে অবিচারের মাধ্যমে নয়। সুবিচারের মাধ্যমে কেউ যদি অপরাধ করে তাকে শাস্তি দিবে। বিগত সরকার সুবিচারকে নির্বাসনে পাঠিয়েছিল। এইজন্যই বিচারপতিরা দম্ভ করে বলেছিল আমরা শপথবদ্ধ রাজনীতিবিদ। এই কথার যারা প্রতিবাদ করেছিল সেই আইনজীবীদের পরবর্তীতে হেনস্তা করা হয়েছিল। অথচ এই আইনজীবীদের পুরস্কৃত করার কথা ছিলো।
যারা বরাবর বলে আসছে সাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ নয় অসামম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে চায়। যারা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়বে তারা কেন বিভিন্ন সময় মানুষের জাগয়াজমি দখল করে, তারা কেন লুণ্ঠন করে, কেন ইজ্জতের উপর হাত দেয়, এরা কেন আমাদের ভাইবোনদেরকে ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করে। এরা অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের প্রবক্তা নয়, এরা হচ্ছে বাংলাদেশের স্বীকৃত ডাকাত।বর্তমান সরকারের প্রতি আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, অনেকগুলো সংস্কারের বিষয়ে আপনারা হাত দিয়েছেন। যতটা সম্ভব করুন, তবে আরেকটা বিষয়ে হাত দেন, একটা নিরপেক্ষ সরকার এটা পারবে, দলীয় সরকার হয়তো এটা করবেনা। গত ৫৪ বছরে বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ যাদের হাতে নির্যাতিত হয়েছে, যাদের উপর জুলুম করা হয়েছে, সেটা খুন ধর্ষন লুট, দখল, চাঁদাবাজি যাই হউক এদের নামের কালো তালিকা প্রকাশ করে দেন। এরা কারা জনগন এদের চিনুক।
কোন জায়গায় কোন কিছু ঘটলেই জামাতে ইসলামীকে দোষ দেয়। এটা এদের বদ খাসলত। এরা জাগরণেও জামাতকে ভয় পায়, এরা ঘুমের মধ্যে জামাতকে ভয় পায়। জামাতের নীতি আদর্শকে ভয় পায়। এই ভয়ের জায়গা থেকে আমাদেরকে তারা ঘায়েল করতে চায়। নিজেরা অপকর্ম করে তার দায় আমাদের উপরে চাপাতে চায়। রংপুরের পীরগঞ্জে সনাতন ধর্মীয় ভাইবোনদের বাড়িতে গরু চুরি, সম্পদ লুণ্ঠন করে আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল। অথচ কোন বাছ বিচার না করে ক্ষমতার সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে বলা হলো এটা জামাত শিবিরের লোকেরা করেছে। কোন তদন্ত পরযন্ত করার প্রয়োজন মনে করলো না। মাত্র তিনদিনের মধ্যে সেই সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বলে দিলো জামাত শিবির এখানে আসেনি এসব করেনি। যুবলীগের নেতার নেতৃত্বে এই ঘটনা ঘটেছে। এই মামলা চলে গেলো সাইবেরিয়ার হিমাগারে।
যেখানেই কোন অপকর্ম সেখানে নিজেরা জড়িত তার দায় দেয়া হয় জামাত নেতাকর্মীদের ঘাড়ে। তারা দফায় দফায় আমাদেরকে বিনা টিকিটে বাইরের দেশে যাবার জন্য বলতো। টিকেট ভিসার ব্যবস্থা না করে বলতো অমুক দেশে চলে যাও। এখন আপনারা কোন দেশে এবং কোন টিকেট নিয়ে দেশ থেকে চলে গেলেন। আমরাতো কখনো বলি নাই দেশ থেকে চলে যান, আমরা এটাও বলবোনা। বাংলাদেশের সকল নাগরিকের এদেশে বসবাস করার বৈধ অধিকার রয়েছে।
এদেশে বিভিন্ন ধর্মের ভাইবোনেরা আছেন তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, আমরা বাংলাদেশে কোন মেজরিটি মাইনরিটি মানিনা। আমরা বিশ্বাস করি এদেশে যে জন্ম গ্রহন করেছেন বাংলাদেশের সংবিধান তাকে সমান অধিকার দিয়েছেন। সুতরাং মর্যাদার দিক থেকে তিনি একজন মর্যাদাপূর্ন বাংলাদেশী নাগরিক। আপনারা কখনো নিজেকে মাইনরিটি মনে করবেন না। এই মাইনরিটি বলে বলেই আপনাদের উপরে এতদিন এত অত্যাচার হয়েছে। আপনারা আমাদের ভাইবোন আমরা সকলে একসাথে গর্বের সাথে বাংলাদেশে বসবাস করতে চাই।
নারী সমাজকে ভয় দেখিয়ে তারা বলে জামাত ইসলামী ক্ষমতায় গেলে নারী সমাজকে ঘরের ভিতরে আটকায় ফেলবে। ঘর থেকে বের হতে পারবেনা। আজকে দেখেন িএই সম্মেলনে নারীদের উপস্থতি। তারা ঘর থেকে বের হয়ে আসছে। আমরা বলতে চাই, আমাদের মা বোনেরা ঘর থেকে বের হয়ে আসছে, পেশাগত দায়িত্ব পালন করছে। সেদিন বাড়তি দুটি জিনিস নারীরা করবে। আনন্দের সাথে, মর্যাদার সাথে এবং নিরাপত্তার সাথে কাজ করবে নারীরা। এখন তাদের সামাজিক মর্যাদাও কম নিরাপত্তা একবারই নাই। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
আমরা প্রতিশোধের রাজনীতি বিশ্বাস করি না। আমরা বলেছি যতটা খুন হয়েছে ততটা খুনের বিচার হতে হবে। খুনের বিচার না হলে খুনের সাংস্কৃতিক বন্ধ হবে না। লুটপাটের বিচার যদি নায় হয় তাহলে লুটপাট বন্ধ হবে না। চাঁদাবাজদের যদি বিচার না হয় তাহলে চাঁদাবাজি বন্ধ হবে না।ঘুষখোরের যদি বিচার না হয় ঘুষ বন্ধ হবে না। সুতরাং সকল অন্যায়ের বিচার হোক।
Related