


ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে নাড়ীরর টানে বাড়ীতে এসে এবার কর্মের টানে ছুটতে হচ্ছে । যে যার মতো গন পরিবহনে ছুটলেও ট্রেনের চিত্র ভিন্ন। গাইবান্ধার সদরের ত্রিমোহনী , বাদিয়াখালি, সাঘাটা, ফুলছড়ি উপজেলার মানুষরা দেশের গুরত্বপূর্ন রেলওয়ে ষ্টেশন বোনারপাড়া থেকে ঢাকায় রওনা দেয় । গতরাতে বোনারপাড়া রেলওয়ে স্টেশনের চিত্র অনেকটা ভিন্ন যেন মানুষ আর মানুষ। সবার লক্ষ কর্ম স্থলে যাওয়া। শনিবার মধ্যরাতে রংপুর থেকে ছেড়ে আসা ঢাকা গামী রংপুর এক্সপ্রেস। বোনার পাড়া রেল স্টেশনে পৌছার পরে ট্রেনের ভিতরে যায়গা না থাকায় লোকজন ট্রেনের ছাদে উঠে ।
সরেজমিনে দেখা যায়, রংপুর এক্সপ্রেস, বুড়িমারী এক্সপ্রেস, লালমনি এক্সপ্রেস ও করতোয়া এক্সপ্রেস এই সব ট্রেনের ভেতরে ও বাহিরে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়ে যেন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। ছাদে বিপদজ্জনকভাবে ভ্রমণ করতেও দেখা গেছে কয়েক হাজার যাত্রীদের। ট্রেনের বেহাল দশা দেখে অনকেই আবার বাইপাস রাস্তা দিয়ে ঢাকা যাচ্ছেন।
কমলাপুর স্টেশনে গামীূ যাত্রী রাকিবুল হাসান রকি । যারা এখন ঢাকা ফিরছেন তারা সবাই কর্মজীবী। ১০ দিন ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফিরতে হচ্ছেন কর্মজীবীদের এতে মানুষের বাড়তি চাপ সৃষ্টি হওয়ায় ব্যাপক ভোগান্তির মুখেই কর্মস্থলে ফিরতে হচ্ছে সবার। হাইওয়ে মহাসড়কে প্রতিদিন এক্সিডেন্ট হচ্ছে। তাই আমাদের নিরাপদ জার্নি হিসাবে ঢাকা পৌঁছানোর একমাত্র আস্থা ট্রেন।
ঢাকার বিমান বন্দর গামী যাত্রী সাবিনা ইয়াসমিন জানায়, আমি আমার দুই ছেলে ও স্বামী নিয়ে গাজীপুরে থাকি ওখানে একটা গার্মেন্টসে চাকরি করি।ট্রেনের টিকিট তো পাওয়া যায় না, ট্রেনের ভিতরে এত পরিমান ভিড় স্বামী বাচ্চা সহ আমরা সবাই ট্রেনের ছাদে উঠৈছি।
কমলাপুর স্টেশন গামী যাত্রী রহিমা বেওয়া জানায়, আমার ছেলে ও আমার ছেলের বউ ঢাকায় চাকরি করে। আমার স্বামী মারা যাওয়ার পর আমি আমার নাতি দের দেখাশোনা করি ঢাকায়। ট্রেনে এত পরিমাণ ভিড় যে আমাদের জীবনে ঝুঁকি নিয়ে ঢাকায় পৌছিতে হচ্ছে। ভিড়ের কারণে ট্রেনের ভিতরে একটু বসারও যায়গা নেই। দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে ৭ থেকে ৮ ঘন্টা। তবে নিরাপদে ঢাকায় পৌঁছাতে পারলেই এই কষ্ট আর থাকবে না বলেও জানান লালমনি এক্সপ্রেস এর রহিমা বেওয়া শহ আরও অনেকেই।
বোনার পাড়া রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার প্রদীপ কুমার মহন্ত জানায়, ছুটি দীর্ঘ হওয়ার ঈদে যাত্রীদের চাপ বেশি। এ কারণে যাত্রী উঠানামা করতে একটু সময় লাগছে বেশি। এতে নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে কিছুটা দেরিতে ট্রেনগুলো গন্তব্যে পৌঁছাতেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সিডিউল বিপর্যয় নেই। আজ রাত রংপুরএক্সপ্রেস ১ঘন্টা ৩৫ মিনিট, বুড়িমারী এক্সপ্রেস ১ ঘন্টা ১১ মিনিট ও দুপরের লালমনি এক্সপ্রেস ২ ঘন্টা ৩৬ মিনিট বিলম্বে ঢাকার উদ্দেশ্য রওনা দেয় ।
ঢাকা মুখী ট্রেন যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয় বোনার পাড়া রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ খাইরুল ইসলাম তালুকদার জানায়, রেলওয়ে জেলা সৈয়দপুরের পুলিশ সুপার স্যারের সার্বিক নির্দেশনায় ঈদের পরবর্তী সময়ে বোনারপাড়া রেলওয়ে থানায় এলাকার আইন শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স মোতায়ন করা হয়েছে ৷ যাত্রীদের মাঝে সচেতন মূলক লিফলেটও বিতরণ করা হয়েছে, যাত্রীদের ভ্রমণে নির্বিঘ্নে নিরাপদে রেল ভ্রমণ করতে পারে সেই লক্ষ্যে আমরা সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছি। রেলওয়ে থানাধীন এখন পর্যন্ত কোন রকমের চুরি ছিনতাই বা যাত্রীদের হয়রানির কোন খবর পাওয়া যায়নি। যাত্রীদের সেবায় আমাদের মূল লক্ষ্য।