1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
বোরো বীজতলা নিয়ে বিপাকে কৃষক | দৈনিক সকালের বাণী
শনিবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:২৪ পূর্বাহ্ন

বোরো বীজতলা নিয়ে বিপাকে কৃষক

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
  • আপলোডের সময় : সোমবার, ৫ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ১৫৩ জন দেখেছেন
Oplus_131072

কুড়িগ্রামের উলিপুরে ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতের কারণে বোরো ধানের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বোরো ধানের বীজতলার চারা বিবর্ণ হয়ে হলুদ ও লালচে রং ধারণ করছে। কোল্ড ইনজুরি দেখা দেওয়ায় কারণে চলতি বোরো মৌসুমে চারার সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এ অবস্থায় তাদের কপালে পড়েছে চিন্তার ভাঁজ। চারা রোপণের আগেই শীত ও কুয়াশায় বীজতলার জন্য হুমকি হয়ে পড়েছে। এই অবস্থায় চিন্তায় পড়েছে কৃষকরা। এতে ব্যাহত হতে পারে বোরো চাষের আবাদ। তবে কৃষি অফিস বলছে এ ব্যাপারে তাদের ক্ষতি কমিয়ে আনতে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। গতকাল সোমবার রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উলিপুরে সূর্যের দেখা মেলেনি। দিন-রাত বৃষ্টির মতো ঝরছে কুয়াশা। রাজারহাট আবহাওয়া ও কৃষি পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, সোমবার ভোর ৬টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৩ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে এবং বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল সর্বোচ্চ ৮৯ শতাংশ। আগামী কয়েক দিন এই তাপমাত্রা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তরের হিমেল বাতাস এবং বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় শীতের অনুভূতি আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।

 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পৌরসভার নারিকেলবাড়ি, বাকরের হাট, নাওডাঙ্গা, রাজারামক্ষেত্রী, গুনাইগাছ ইউনিয়নের কাঁঠালবাড়ী, চার গাবেরতল, শুকদেব কুন্ড বজরা ইউনিয়নের কালপানি বজরা, সাদুয়া দামারহাট, তবকপুর ইউনিয়নের বামনা ছড়া, উমানন্দ, বড়ূয়া তবকপুর, হাতিয়া ইউনিয়নের নতুন অনন্তপুর, ভাটিগ্রাম থেতরাই ইউনিয়নের দড়ি কিশোরপুর, গোড়াই পিয়ার সাতদরগাহ, ধরণীবাড়ী ইউনিয়নের দাড়ারপাড়, মধুপুর, মালতি বাড়ি দিঘরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে বোরো ধানের বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২২ হাজার ৫৩০ হেক্টর। বীজতলার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এক হাজার ৩০৬ হেক্টর তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ৪ হেক্টর জমিতে বেশি বীজতলা রোপণ করা হয়েছে। গত কয়েক দিনের ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতের কারণে ১২ হেক্টর বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানায় কৃষি অফিস। ধরণীবাড়ী ইউনিয়নের দাড়ারপাড় এলাকার কৃষক আব্দুর রশীদ জানান, নিজের জমিসহ আদি ভাগে (বর্গা নেওয়া) এক একরের বেশি জমিতে বোরো ধান রোপণ করার জন্য বীজতলায় চারা রোপণ করেছি কিন্তু ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতের কারণে চারাগুলো হলুদ ও লালচে রং ধারণ করছে।

 

এ অবস্থা থাকলে চারা মরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চারাগুলো নষ্ট হলে ক্ষতি মুখে পড়তে হবে। গুনাইগাছ ইউনিয়নের কাঁঠালবাড়ী এলাকার আরেক কৃষক আবদার আলি জানান, এমন শীত ও ঘন কুয়াশা কারণে চারা বড়ো হচ্ছে না। কিছু বীজতলায় ধান থেকে চারা জন্মায়নি। যদিও কিছু চারা গজিয়েছে কিন্তু টানা কয়েক দিনের তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশা কারণে হলুদ ও লালচে রং হয়েছে। এমন পরিস্থিতি বেশি দিন থাকলে চারা নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই বীজতলা নিয়ে চিন্তায় আছি। এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার ও কৃষিবিদ মোশাররফ হোসেন বলেন, কৃষকদের বীজতলার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে জীব সাম, পটাশ, জিংক কুইক ও চিলেটেড জিংক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়াও বীজতলায় সকালে রশি টেনে শিশির ঝরানো, রাতে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা, সন্ধ্যায় পানি জমিয়ে রেখে সকালে নিষ্কাশন করে দেওয়া ও গভীর নলকূপ দিয়ে পুনরায় পানি সেচ দেওয়াসহ বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে এখনো সময় আছে আবহাওয়া পরিবর্তন হলে এই সমস্যার সমাধান হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )