1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
পীরগাছায় স্কাউটস কাব ক্যাম্পুরী মেলার নামে ৩০ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ | দৈনিক সকালের বাণী
বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ১০:৪১ অপরাহ্ন

পীরগাছায় স্কাউটস কাব ক্যাম্পুরী মেলার নামে ৩০ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ

পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি
  • আপলোডের সময় : শনিবার, ১০ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৯৮ জন দেখেছেন

রংপুরের পীরগাছায় বাংলাদেশ স্কাউটসের ব্যানারে আয়োজিত একটি কাব ক্যাম্পুরী মেলাকে কেন্দ্র করে প্রায় ৩০ লাখ টাকা চাঁদাবাজির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব ও ইউএনও’র ভ্রাম্যমাণ আদালতের ভয় দেখিয়ে বিপুল এসব চাঁদা আদায় করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ২৬ ডিসেম্বর থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত কুটিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পাওটানা হাট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত কাব ক্যাম্পুরী মেলার আয়োজন করে বাংলাদেশ স্কাউটস পীরগাছা উপজেলা শাখা। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন উপজেলা স্কাউট সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবাশীষ বসাক। অভিযোগে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে রাসায়নিক সার সংক্রান্ত অভিযোগে পাওটানা বাজার এলাকায় একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার পর ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। সেই আতঙ্ককে পুঁজি করে ‘অপারেশন ডেভিল হান্টথ ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের ভয় দেখিয়ে চাঁদা আদায় করেছে আয়োজক চক্র।

অভিযোগ রয়েছে, এই অর্থ দিয়েই কাব ক্যাম্পুরী আয়োজন সম্পন্ন করা হয়েছে। নৈতিকতা শেখানোর মঞ্চে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের বিষয়ে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, কাব স্কাউট আন্দোলনের নামে মঞ্চে শিশুদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বগুণের কথা বলা হলেও বাস্তবে ভয়ভীতি ও প্রভাব খাটিয়ে অর্থ আদায় করা হয়েছে, যা পুরো আয়োজনের উদ্দেশ্যকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। কাব মেলার স্বাগতিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছাদেকুল ইসলাম জানান, সরকারিভাবে ৩ লাখ ৪৫ হাজার ও জেলা স্কাউটস থেকে ১২ হাজার টাকা পাওয়ার কথা থাকলেও এখনো তা পাওয়া যায়নি। মেলায় অংশগ্রহণকারী বিদ্যালয়গুলো থেকে ১ হাজার টাকা এবং অন্যান্য বিদ্যালয় থেকে ৫০০ টাকা করে মোট ১ লাখ চার হাজার ৫০০ টাকা নেওয়া হয়েছে।

ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুধু রান্নার চাল দেওয়া হয়েছে। পাওটানা হাট ব্যবসায়ী সমিতি দিয়েছে ৫০ হাজার টাকা। তাঁর দাবি, মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ১০ লাখ টাকা। অন্যদিকে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র দাবি করেছে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবাশীষ বসাক ব্যক্তিগতভাবে ১ লাখ টাকা দিয়েছেন। তাম্বুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বজলুর রশিদ মুকুল বলেন, ‘আমাদের কাছ থেকে এখনো কোনো চাঁদা নেওয়া হয়নি, তবে ভবিষ্যতে নিতে পারে। স্থানীয় এক ইটভাটা মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ১৬ ডিসেম্বরের অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন সময়ে স্কাউটের নাম করে আমাদের কাছ থেকে চাঁদা নেওয়া হয়েছে। কত টাকা দিয়েছি, সেটা প্রকাশ করতে ইউএনও অফিস থেকে নিষেধ করা হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, উপজেলার পাওটানা হাটের ব্যবসায়ী, উপজেলার টিসিবি ডিলার, বিসিআইসি ডিলার, ফেয়ার প্রাইস ডিলার, ইটভাটা মালিক, ফিলিং স্টেশন এবং রাজনৈতিক পরিচয়ে পরিচিত ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোট প্রায় ৩০ লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবাশীষ বসাক বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে অনুষ্ঠানের টাকা আদায়ের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )