


রংপুরের পীরগাছা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল নিবন্ধনে অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সাব-রেজিস্ট্রার বার্নার্ড মার্ডী এবং তাঁর কার্যালয়ের মহোরার আঙ্গুরার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেছেন সেবা নিতে আসা একাধিক ভুক্তভোগী। অভিযোগ রয়েছে, দিনের বেলায় ইচ্ছাকৃতভাবে দলিলে নানা ত্রুটি দেখিয়ে আপত্তি দেওয়া হয়। পরে ঘুষের বিনিময়ে রাত পর্যন্ত অফিস খোলা রেখে সেই দলিলই নিবন্ধন করে দেওয়া হয়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্তও দলিল রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
লোকজন ঘুম ঘুম চোখে অপেক্ষা করছে দলিল রেজিস্ট্রি করার জন্য। রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল নিবন্ধন সরকারি অফিস সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন হওয়ার কথা। অথচ নিয়ম ভেঙে গভীর রাত পর্যন্ত অফিস কার্যক্রম চলায় প্রশ্ন উঠেছে আইনের শাসন ও প্রশাসনিক নজরদারি নিয়ে। স্থানীয় কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিয়ম মেনে কাজ করতে গেলে নানা অজুহাতে দলিল ফেরত দেওয়া হয়। কিন্তু অতিরিক্ত টাকা দিলে সেই দলিলই দ্রুত সম্পন্ন হয়ে যায়। এতে সাধারণ মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং বাধ্য হয়ে বাড়তি অর্থ দিতে হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক দলিল লেখক জানান, বণ্টননামা, নাদাবী ও সংশোধনী দলিল সমঝোতা সাপেক্ষে শতক প্রতি ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় নিবন্ধন সম্পাদন করা হয়। হেবা ঘোষণাপত্র দলিলে অফিস খরচ ২১০০ থেকে ৩৫০০ টাকা ছাড়াও শতক আন্ডার ভ্যালু হিসেবে প্রতি ১৫ থেকে ২৮ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। সাফ কবলা ও দানপত্র দলিলে অফিস খরচ নেওয়া হয় ১৭৬০ টাকা করে।
তাদের অভিযোগ, মহোরার আঙ্গুরা পীরগাছা অফিসে যোগদানের পর থেকেই দলিল প্রতি সরকারি ফির নামে অতিরিক্ত ঘুষের টাকা আদায় করে আসছেন। একজন ভুক্তভোগী কৃষক জানান, দুই শতক জমির একটি দলিল করতে গিয়ে সারাদিন অফিসে ঘুরেও কাজ হয়নি। শেষ পর্যন্ত তিন হাজার টাকা দেওয়ার পর রাত ১১টায় ডেকে এনে দলিল সম্পন্ন করা হয়। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে মহোরার আঙ্গুরাকে দলিল সম্পাদনের বিনিময়ে ঘুষ গ্রহণ করতে দেখা যায় বলে দাবি করা হচ্ছে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দলিল লেখক বলেন, এখানে নিয়মের চেয়ে ঘুষই বড় হয়ে গেছে। টাকা না দিলে দিনের পর দিন দলিল আটকে রাখা হয়। মানুষ বাধ্য হয়ে রাতে এসে কাজ করাচ্ছে। এ বিষয়ে মহোরার আঙ্গুরাকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, আমরা ফি আদায় করি এটা সবাই জানে। তবে কিছু বেশি নেওয়া হয়, সেটা দিয়ে আমাদের কর্তৃপক্ষসহ সবাইকে ম্যানেজ করতে হয়। আপনি যা পারেন লেখেন, আমার কিছু হবে না। আমি পরে দেখে নেব। অভিযোগের বিষয়ে সাব-রেজিস্ট্রার বার্নার্ড মার্ডীকে ফোন করা হলে তিনি কোনো বক্তব্য না দিয়ে বলেন, ভাই, নিউজ করার আগে অফিসে আসেন। সাক্ষাতে কথা হবে।
পীরগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবাশীষ বসাক বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।