পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, রংপুর-এর বাস্তবায়নে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব ফরহাদ হোসেন আজাদ, এমপি। উদ্বোধন শেষে তিনি বলেন, তিস্তা অববাহিকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা ও সেচ সংকটে ভুগছে। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার ধারাবাহিকভাবে খাল পুনঃখনন ও পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, কৃষকবান্ধব নীতিমালার অংশ হিসেবে কৃষিঋণ মওকুফসহ বিভিন্ন উদ্যোগ ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি গ্রামীণ নারীদের স্বনির্ভর করতে বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। সরকারের এ ধরনের উদ্যোগ মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান হওয়ায় সাধারণ মানুষের আস্থা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ রায়হান সিরাজী বলেন, তিস্তা অঞ্চলের টেকসই উন্নয়নে পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি। এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষকরা সরাসরি উপকৃত হবেন এবং স্থানীয় অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্নে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, “Adaptation Initiative for Climate Vulnerable Offshore Small Islands and Riverine Char Land in Bangladesh Project” এর আওতায় গজঘন্টা ইউনিয়নে এ কাজ বাস্তবায়িত হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ৫.৪০ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন এবং রমাকান্ত পাইপ সুইচ পুনর্বাসন করা হবে।
প্যাকেজ নং পি-০৬/২০২৫-২৬ এবং টেন্ডার আইডি ১১৮৫৫১৫ এর আওতায় পরিচালিত এ কাজের খাল পুনঃখনন অংশের চুক্তিমূল্য প্রায় ২১ লাখ টাকার বেশি। ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়েছে এবং আগামী ৩০ জুন ২০২৬ এর মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করছে ঢাকাভিত্তিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রবি এন্টারপ্রাইজ এবং সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, রংপুর-এর নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর।
অনুষ্ঠানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রবিউল ইসলাম, গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাঃ জেসমিন আক্তার, গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আব্দুর সবুরসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও এলাকার সাধারণ জনগণ উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, খাল পুনঃখনন ও পানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা উন্নত হলে কৃষিতে সেচ সুবিধা বাড়বে, জলাবদ্ধতা কমবে এবং তিস্তা তীরবর্তী মানুষের জীবনযাত্রার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে।