


গত ২২ জুলাই দৈনিক সকালের বাণী পত্রিকায় প্রকাশিত “ঘোড়াঘাটে করতোয়ার নির্মম ভাঙনের মুখে আশ্রয়ণসহ শতাধিক ঘরবাড়ি” শীর্ষক সংবাদের পর দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে করতোয়া নদীর ভাঙনকবলিত মানুষের মধ্যে ফিরেছে স্বস্তির পরশ।
সংবাদের প্রেক্ষিতে ঘোড়াঘাট উপজেলা প্রশাসন ও দিনাজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নদীভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিং কার্যক্রম শুরু করেছে।
উপজেলার বুলাকীপুর ইউনিয়নের কুলনন্দনপুর (নাপিতপাড়া) এলাকায় করতোয়া নদীর তীব্র ভাঙনে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরসহ শতাধিক বসতবাড়ি হুমকির মুখে পড়ে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম আতঙ্ক দেখা দেয়। বিষয়টি নিয়ে জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
রোববার (২৬ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর ঝুঁকিপূর্ণ অংশে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ডাম্পিং করে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চলছে। শ্রমিকরা দিনভর নদীর তীরে জিও ব্যাগ ফেলছেন। এতে আপাতত ভাঙনের গতি কিছুটা কমেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। স্থানীয়দের আশা, জরুরি ভিত্তিতে নেওয়া এই উদ্যোগ ভাঙনের তাৎক্ষণিক ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হবে। তবে করতোয়া নদীর ভাঙন থেকে স্থায়ীভাবে জনপদ রক্ষায় দ্রুত টেকসই নদীতীর সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তারা।
আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা গোলাপ মিয়া (৪৮) বলেন, “সংবাদ প্রকাশের পর উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড খুব দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। জিও ব্যাগ ফেলায় আমরা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছি। তবে স্থায়ী বাঁধ না হলে আবারও ভাঙনের আশঙ্কা থেকেই যাবে।”
নাপিতপাড়া এলাকার নদীতীরবর্তী স্থায়ী বাসিন্দা জমিলা বেগম বলেন, “নদীর ভাঙনে আমরা কয়েকদিন ধরে আতঙ্কে ছিলাম। এখন জিও ব্যাগ ফেলায় কিছুটা সাহস ফিরে পেয়েছি। প্রশাসন দ্রুত কাজ শুরু করায় আমরা কৃতজ্ঞ। তবে স্থায়ী সমাধান না হলে ভবিষ্যতে আবার একই সমস্যা হবে।”
স্থানীয় সমাজসেবক মাহফুজার রহমান লাভলু বলেন, “সংবাদ প্রকাশের পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ধন্যবাদ জানাই। জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের ফলে আপাতত ভাঙন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে করতোয়া নদীর এই অংশে স্থায়ী তীর সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা এখন সময়ের দাবি।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ড দিনাজপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী ফারুক আহমেদ জানান, বর্তমানে কুলানন্দপুর নাপিতপাড়া এলাকায় বালুর বস্তা ফেলার যে কার্যক্রম চলছে, তা সম্পূর্ণ একটি আপদকালীন ও জরুরি ব্যবস্থা। বর্ষা মৌসুমে তাৎক্ষণিক ভাঙন রোধ করতেই বর্তমানে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সর্বমোট ৩ হাজার ৩০৮ টি জিও ব্যাগ ডাম্পিং করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে এগুলো ফেলানো হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার পর নদী ভাঙন স্থায়ীভাবে রোধ করার জন্য সিসি ব্লক বা রিভেটমেন্ট কাজের মাধ্যমে একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।
ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবানা তানজিন বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়েছে। নদীভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে বালুভর্তি বস্তা ফেলার কাজ শুরু করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।