1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
বর্ষাতেও পানির সংকট, পাট নিয়ে বিপাকে কুড়িগ্রামের কৃষকরা | দৈনিক সকালের বাণী
সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:২৮ পূর্বাহ্ন

বর্ষাতেও পানির সংকট, পাট নিয়ে বিপাকে কুড়িগ্রামের কৃষকরা

কুড়িগ্রাম অফিস
  • আপলোডের সময় : সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬
  • ২ জন দেখেছেন

ছোট-বড় ১৬ নদ-নদীবেষ্টিত উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামে বর্ষা মৌসুমেও পানির সংকট দেখা দিয়েছে। আবহাওয়া ও জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রভাবে বৃষ্টিপাতের সময়ও পানির অভাব দেখা দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন পাটচাষিরা। বর্ষাকালেও জেলার বিভিন্ন খাল-বিল ও জলাশয়ে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় পাট কাটার পর সময়মতো জাগ দিতে পারছেন না চাষিরা। বাধ্য হয়ে কয়েক কিলোমিটার দূরে পাট নিয়ে যেতে হচ্ছে অনেক কৃষককে। এতে বাড়ছে পরিবহন ও শ্রমিক খরচ। আবার সময়মতো জাগ দিতে না পারায় পাটের আঁশের মান নিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন তারা। এমন পরিস্থিতিতে পাট চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন অনেক কৃষক।

কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় ১৫ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। এরমধ্যে ৯ হাজার ১২৫ হেক্টর জমির পাট কাটা হয়েছে। কয়েক বছর আগেও জেলায় প্রায় ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে পাট চাষ হতো। বর্তমানে তা কমে প্রায় ১৫ হাজার হেক্টরে নেমেছে। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, পানি সংকটের কারণে প্রান্তিক কৃষকরাই বেশি সমস্যায় পড়ছেন। পাট কাটার পর রিবন রেটিং মেশিনের মাধ্যমে আঁশ ছাড়ানোর আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করা গেলেও অনেক কৃষক এ প্রযুক্তি সম্পর্কে জানেন না।

ফলে প্রচলিত পদ্ধতিতে পাট জাগ দিতে গিয়ে তাদের বাড়তি খরচ ও ঝুঁকি নিতে হচ্ছে। দূরের জলাশয়ে পাট নিয়ে জাগ দিলে পরিবহন ব্যয় বাড়ছে। আবার অল্প পানিতে পাট স্তূপ করে রাখলেও আঁশের গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, কৃষিতে আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করা গেলে কৃষকরা অনেক বেশি উপকৃত হতেন। সনাতন পদ্ধতিতে পাট জাগ দেওয়ায় কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত লাভ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তিনি বলেন, পাট কাটার পর যত দ্রুত সম্ভব পর্যাপ্ত ও পরিষ্কার পানিতে জাগ দিতে হবে। পানির সংকট হলে আশপাশের কৃষকদের সঙ্গে সমন্বয় করে গভীর ও পরিষ্কার জলাশয় ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রয়োজন হলে উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে পাট জাগ দেওয়ার পদ্ধতি অনুসরন করতে পারে।

সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, জাগ দেওয়ার উপযুক্ত পানি না পেয়ে কেউ জমির পাশে, কেউ সড়কের ধারে আবার কেউ জলাশয়ের পাড়ে পাটের আঁটি স্তূপ করে রেখেছেন। দীর্ঘ সময় পাট এভাবে পড়ে থাকায় আঁশের স্বাভাবিক রং ও গুণগত মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার টগরাইহাট এলাকার কৃষক আব্দুল মমিন ও বাবু মিয়া বলেন, আগে বাড়ির পাশের খালে পাট জাগ দেওয়া যেত। এবার অনেক জায়গায় পানি নেই। যাদের খাল বা জলাশয় আছে, তারাও অন্যের পাট জাগ দিতে দিতে চান না। ফলে দূরের জায়গায় পাট নিয়ে যেতে হচ্ছে। এতে সময় ও খরচ দুটোই বেড়েছে। রাজারহাট উপজেলার ছিনাই এলাকার কৃষক মোজাম্মেল হক বলেন, পাট কাটার পর দ্রুত জাগ দিতে না পারায় সমস্যায় পড়েছি। পাটগাছ শুকিয়ে যাচ্ছে। এতে ভালো মানের আঁশ পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।

কুড়িগ্রামের রাজারহাট আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঋতুর স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন এসেছে। নির্দিষ্ট সময়ে প্রত্যাশিত বৃষ্টিপাত হচ্ছে না। কখনো বৃষ্টির পরিমাণ কমছে, আবার কখনো অস্বাভাবিক সময়ে বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে বর্ষা মৌসুমেও অনেক এলাকায় পর্যাপ্ত পানি জমছে না। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে কৃষিতে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )