


অধ্যক্ষ খন্দকার ফখরুল আনাম বেঞ্জু। ১৯৫৮ খৃষ্টাব্দের ২৮ ডিসেম্বর রংপুর জেলার পীরগাছা উপজেলার অন্নদানগর ইউনিয়নের হারোডাঙ্গা গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা খন্দকার আব্দুল করিম মিঞা ছিলেন পঞ্চায়েত প্রধান, ইউনিয়ন বোর্ড প্রেসিডেন্ট, ইউনিয়ন কাউন্সিল চেয়ারম্যান এবং জজকোর্ট রংপুরের জুরি রোর্ডের সদস্য। আর মা মজিদা করিম এলাকায় একজন মানবিক মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁকে গ্রামের সকলে ‘দাদি আম্মা’ বলে ডাকতেন। মানুষের বিপদে সাহায্যে হাত বাড়িয়ে পাশে দিতেন মজিদা করিম।
খন্দকার ফখরুল আনাম বেঞ্জু ১৯৭৬ খৃষ্টাব্দ অন্নদানগর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি দ্বিতীয় বিভাগে পাস করেন। এরপর ভর্তি হন ঐতিহ্যবাহী কারমাইকেল কলেজে, সেখান থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় (ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ) দ্বিতীয় বিভাগে পাস করেন। কলেজে অধ্যায়নকালে শাব্দিক সাংস্কৃতিক সংসদের সদস্য ছিলেন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাণিজ্য বিভাগে স্নাতক সম্মান দ্বিতীয় বিভাগ এবং স্নাতকোত্তরেও দ্বিতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ হন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় রংপুর জেলার শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের নিয়ে রংপুর সমিতি পুনঃগঠন করেন এবং শুরুতে তিনি আহবায়ক ছিলেন। ১৯৮৭ খৃষ্টাব্দ ঢাকায় মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানীতে (বাংলাদেশ হোটেল লিমিটেড) প্রশাশনিক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৯৯ খৃষ্টান্দে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তার সহধর্মিণী নাজনীন নাহার নিপা। তিনি হোম ইকোনমিক্স কলেজ ঢাকা থেকে স্নাতক সম্মান অর্জন করেন, তিনি অনলাইন ব্যবসা করেন। খন্দকার ফখরুল আনাম বেঞ্জু তাকে ময়না বলে ডাকেন।
খন্দকার ফখরুল আনাম বেঞ্জু ২০০০ খৃষ্টাব্দে ইউবেক UBEC (যৌথ মালিকানা) নামে আমদানি রফতানি ব্যবসা শুরু করেন ব্রাজিল থেকে ক্যাফে পেলে কফি জার্মানী-জাপান হাঙ্গেরি থেকে খাদ্যপণ্য আমদানি হ্যান্ডিক্রাফ্ট রফতানি করতেন, এরমধ্যে ঢাকার কচুক্ষেত এলাকায় শিশু সংগঠন উত্তরসূরি গড়ে তোলেন ২০০২ খৃষ্টাব্দে তার প্রথম কন্যা সন্তান নামিরা খন্দকার জন্ম গ্রহন করেন। নামিরা খন্দকার বাংলাদেশ আর্মি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক সন্মান প্রথম শ্রেণি অর্জন করেন তিনি বর্তমানে স্নাতকোত্তর পড়ছেন।
২০০৫ খৃষ্টাব্দ খন্দকার ফখরুল আনাম বেঞ্জু তার বাবার নামে নিজ গ্রামে খন্দকার আব্দুল করিম মিঞা বিএম কলেজ স্থাপন করেন এবং কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন। ২০০৬ খৃষ্টাব্দে তার দ্বিতীয় সন্তান খন্দকার তাহজিব করিম অর্পন জন্মগ্রহন করে। সে রংপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করেন। অর্পন রংপুরের ব্যান্ড সংগঠন রামবার কার্যকরী কমিটির সদস্য, অভলিভিয় ব্যান্ড গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং রংপুর বিভাগের মধ্যে প্রথম সারির গিটারিস্ট। বর্তমানে সে স্মাতকে পড়ছে।
খন্দকার ফখরুল আনাম বেঞ্জু তার এলাকায় সড়কপাকাকরণ ও পানি নিষ্কাশনের জন্য খালখনন, বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এছাড়া খেলাধুলা, মাদকমুক্ত সমাজ, বাল্যবিবাহ, নারী-শিশু নির্যাতন বন্ধে কমিটি পুলিশিং ও পীরগাছা উপজেলায় বিভিন্ন ওয়ার্ডে কমিটি গঠনে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন।
রংপুর শহরের প্রতিবন্ধীদেরও জন্য কাজ করছেন। তিনি দৃষ্টি সংস্থার কার্যকারি কমিটির সদস্য, পুলিশ লাইন্স স্কুল এন্ড কলেজর পরিচালনা পর্ষদে ১৬ বছর সদস্য ছিলেন। তিনি দীর্ঘসময় জিবি সদস্য হিসেবে অবকাঠামো নির্মাণ ও শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। কে.আলী বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউটের পরিচালনা পর্ষদের ১২ বছর থেকে সদস্য আছেন। তিনি লায়ন্স ক্লাব অব রংপুর সিটির চার্টার প্রেসিডেন্ট হিসেবে সিটি লায়ন্স ক্লাব গঠন করেন।
ফখরুল আনাম বেঞ্জু আন্তর্জাতিক রেডক্রস এবং বাংলাদেশ ক্রিসেন্টের সোসাইটির, সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক, রংপুর পাবলিক লাইব্রেরি, রঙ্গপুর সাহিত্য পরিষদের বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন, রংপুর বিভাগ সমিতি ঢাকা’র আজীবন সদস্য, কারমাইকেল কলেজ প্রাক্তন ছাত্র সমিতির সদস্য, রাবিয়ান রংপুর জেলা এর উদ্যোক্তা আহবায়ক। তিনি এক দশক রংপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সদস্য ছিলেন। তিনি গ্রামীণ ফোনের কমিউনিটি বিল্ডার হিসাবে এক বছর কাজ করেন এবং সন্মাননা স্মারক লাভ করেন।
খন্দকার ফখরুল আনাম বেঞ্জু দি এশিয়া ফাউন্ডেশনে সাথে এক বছর এবং বিভিন্ন জাতীয় আন্তর্জাতিক এনজিওর সাথে কাজ করেছেন। বাংলাদেশ মেডিয়েশন সোসাইটি BIMS এর বাংলাদেশ অঞ্চলের কান্ট্রি ডিরেক্টর ছিলেন তিনি। বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও সাহিত্য সংগঠনের উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করছেন। বর্তমানে রংপুর শহরে স্বাস্থ্যসেবামূলক প্রতিষ্ঠান উইশ হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। খন্দকার ফখরুল আনাম বেঞ্জু শিক্ষা, সমাজসেবা ও মানবাধিকারে বিশেষ অবদান রাখায় বিভিন্ন সংগঠন ও সংস্থা থেকে সম্মানিত হবার পাশাপাশি বিভিন্ন পদক অর্জন করেছেন।