


নীলফামারীর সৈয়দপুরে বিয়ের মেহেদীর রং না মুছতে লাশ হতে হয়েছে নববধূ মোছা. মুক্তাকে (২৪)। রোববার (৫ জানুয়ারি) ভোরে তাঁর শ্বশুর বাড়ির নিজের শয়নকক্ষ থেকে ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই সাইদুল ইসলাম বাদী হয়ে সৈয়দপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, সৈয়দপুর শহরের পশ্চিম কুন্দল এলাকার মৃত. মোস্তফা কামালের মেয়ে মুক্তা। সে (মুক্তা) শহরের একটি বিউটি পার্লারে কাজ করতেন। গত ১৫ দিন আগে শহরের কাজীপাড়ার মৃত. বাবুল ইসলামের ছেলে মো. রানার (২৫) সঙ্গে বিয়ে হয় তার (মুক্তার)। বিয়ের পর থেকেই রানার সঙ্গে তার স্ত্রী মুক্তার বনিবনা হচ্ছিল না। এ নিয়ে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ দেখা দেয়। কারণে অকারনে তাঁর ওপর নির্যাতন করতে থাকে স্বামী রানা। ঘটনার দিন রাতেও তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহের জের ধরে তুমুল বাক বিতন্ডা হয়। এর পর নিজের শয়নকক্ষের ঘুমিয়ে পড়ে নববধূ মুক্তা। গভীর রাতে তাকে মৃত্যু অবস্থায় দেখতে পান পরিবারে লোকজন।
ভোর আনুমানিক চারটার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। পরে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। ওই দিন ভোরেই ঘটনাস্থল থেকে মুক্তার স্বামী রানাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত মুক্তার বড় ভাই বাদী হয়ে বোন জামাতা রানাকে প্রধান আসামী করে সৈয়দপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
মুক্তার বড় ভাই মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, তাঁর বোনকে বোন জামাই পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি তাঁর বোনের হত্যাকারী রানার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানান। সৈয়দপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আকতার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রানা তার স্ত্রী মুক্তাকে গলাটিপে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নীলফামারী সদর আধুনিক হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে।