


কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নে জেলা পরিষদের জায়গা লিজ নিয়ে শর্ত ভঙ্গ করে ওই জায়গায় পাকা স্থাপনা করে দখল করার অভিযোগ উঠেছে এক আওয়ামীলীগ নেতার বিরুদ্ধে। এর প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রশাসক, জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন স্হানীয়রা।
তবে ওই আওয়ামীলীগ নেতার দাবী তিনি পারিবারিক সূত্রে আওয়ামীলীগ করতেন গত সাত বছর আগে আমি আওয়ামীলীগ বাদ দিয়েছেন। লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের পাগলারহাট বাজারের তহশীল অফিস সংলগ্ন উত্তর ছাট গোপালপুর মৌজার জেএল নং ২৬ খতিয়ান নং ২২৬ ও দাগ নং ৯৬৭ এর ০.০১ একর জমি বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বাংলা ১৪২০ সনের জন্য লিজ নেন শিলখুড়ি ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের নেতা মোশারফ হোসেন রঞ্জু। লিজকৃত জায়গায় সে তখন থেকে ঘর তুলে ব্যাবসা করে আসছেন।
সেই লিজের মেয়াদ ১ যুগ আগে শেষ হলেও সরকারি জায়গাটি নিজের দখলে রেখেছেন তিনি। নতুন করে লিজ না নিলেও সরকারি জমিতে তার দোকান ঘরের দেয়াল ও ভূমি অফিসের সীমানা প্রাচীর ভেঙ্গে একত্রিত করে আরসিসি পিলার দিয়ে অবৈধ পাকা স্থাপনা নিমার্ণ করে দখলে নেন মোশাররফ । যা সরকারী সম্পত্তি দখলের পায়তারা এবং বেআইনি বলে জানিয়েছেন স্হানীয়রা।
অভিযোগে আরো জানাযায়, উক্ত জায়গাটি তহশীল অফিসের মেইন ফটকের সাথে লাগানো এবং পাগলারহাট বাজারের একটা অংশ প্রতি হাটবারে উক্ত জায়গায় ধান,গম,ভুট্টা,ও সরিষাসহ বিভিন্ন কৃষি পণ্য বেচা কেনা হয়। এই জায়গাটি ব্যক্তি দখলে চলে গেলে এলাকার মানুষের অনেক দূর্ভোগের সম্মুখীন হতে হবে। তাই এলাকাবাসী জায়গাটির লিজ বাতিল করে দখলমুক্ত রেখে জনগনের সুবিধার্থে উম্মুক্ত রাখার দাবিতে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা নিবার্হী অফিসার সহ বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ করেছেন। কিন্তু রহস্যজনক কারণে পাকা স্থাপনার কাজটি চলমান রয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,উক্ত জায়গাটি তহশীল অফিসের মেইন ফটকের সাথে লাগানো।স্হানীয়রা জানান, পাগলারহাট বাজারের একটা অংশ প্রতি হাটবারে উক্ত জায়গায় ধান,গম,ভুট্টা,ও সরিষা বেচা কেনা হয়। এই জায়গাটি ব্যক্তি দখলে চলে গেলে এলাকার মানুষের অনেক দূর্ভোগের সম্মুখীন হতে হবে। তাই তারা জায়গাটির লিজ বাতিল করে দখলমুক্ত রেখে জনগনের সুবিধার্থে উম্মুক্ত রাখার দাবীতে জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগকারী ইমরান জানান, রন্জু বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের একজন দাপটি নেতা হওয়ায় তার দাপট খাটিয়ে সরকারী জায়গা দখল ও বিরোধী দলের নেতা কর্মীদের উপর দমন নিপিড়ন করেছেন। তাই তারা জায়গাটি সরকারের আওতায় এনে ভূমি অফিসের পাকা ওয়াল ভাঙ্গার ব্যাবস্হা গ্রহন ও সরকারী জায়গা দখল মুক্ত করে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবী জানান।
বিষয়ে মোশাররফ হোসেনের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ভূমি অফিসের ওয়াল ভাঙ্গার কথা অস্বীকার করেন।রাতের আঁধারে কে কারা ভেঙ্গে এখন আমার দোষ দিচ্ছে। আমার বাবা-দাদারা আওয়ামীলীগ করতেন। সেই সূত্রে আমি আমার ওয়ার্ডের আওয়ামীলীগের সদস্য ছিলাম। আমি দীর্ঘ সাত বছর আগে আমি আওয়ামীলীগ বাদ দিয়েছি।এখন আমি কোন রাজনৈতিক দলের সদস্য না। এবিষয়ে ডিসি স্যারের সাথে কথা বলার জন্য বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) কুড়িগ্রাম যাব। তবে জেলা পরিষদ আমার লিজকৃত জায়গা ফেরত চাইলেই আমি ফেরত দিয়ে দিব।
শিলখুড়ি ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন জানান, ভূমি অফিসের পাকা বাউন্ডারী ওয়াল আমি আসার পূর্বে কিছু ভেঙ্গেছে। আমি গত ২৬ সেপ্টম্বর/২৪ তারিখে যোগদানের পর আরও কিছু অংশ ভেঙ্গেছে। সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাহমিদুল ইসলাম বলেন অভিযুক্ত রন্জু জেলা পরিষদ থেকে লিজ গ্রহণ করে ১৪২০ বাংলা সন পর্যন্ত লিজমানি পরিশোধ করেছেন। পরবর্তী সময়ে লীজ নবায়ন বা অবকাঠামো নির্মাণের অনুমোদনের বিষয়ে তিনি কোন প্রকার কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। পাকা স্থাপনা ভাঙ্গাসহ তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা পরিষদে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম ফেরদৌস বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর সরজমিনে তদন্তে এর সত্যতা পাওয়া গেছে। এই বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে পাঠানো হয়েছে। জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফিরুজুল ইসলাম বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়ে ইউএনও কে তদন্ত করতে দেওয়া হয়েছিল । অভিযোগের তদন্তের সত্যতার প্রতিবেদন পেয়েছি।ডিসি স্যারকে বিষয়টি অবহিত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।