


নির্বাচনী ভোটের মাঠে ধাক্কা খাচ্ছেন মবের নেতারা বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী। শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, জাতীয় পার্টি ছিলো তাই মবের নেতারা ভোটের মাঠে ধাক্কা খাচ্ছে। ইনশা আল্লাহ, যদি সুষ্ঠু ভোট হয়। যারা একাত্তরের চেতনাকে অপমান করেছে। যারা জাতির পিতাকে অপমান করেছে। যারা মব করে সরকারি কর্মকর্তাদের অপদস্ত করেছে, যারা মব করে রাজনৈতিক বীরদের অপমান করেছে, ভোটের মাঠে তারা ধূলিসাৎ হয়ে যাবে ইন্শ আল্লাহ।
গত শুক্রবার সন্ধা ৭ টার দিকে সুন্দরগঞ্জ আবদুল মজিদ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে লাঙ্গল মার্কার অনুষ্ঠিত নির্বাচনী পথসভার সভাপতিত্বের বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। জাপার মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, এই মবের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে সাহস পায়নি। এই মবের বিরুদ্ধে প্রথম কথা বলেছেন জি এম কাদের স্যার। এই মবের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন রংপুরের সাবেক মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা ভাই। এই মবের বিরুদ্ধে কথা বলেছি আমি ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী। জাতীয় পার্টি ছিলো তাই মব কিছুটা দমন হয়েছে। নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে লাঙ্গল মার্কার প্রার্থী শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, সাহস করতে হবে ভায়েরা আমার। একটা ভীতিকর পরিস্থিতি এবং টালমাটাল সময়ের মধ্যে একটা ইন্জিনিয়ারিং ইলেক্শনের পরিকল্পনা ছিলো এই সরকারের।
বাঁধা কোথায়? বাঁধা একমাত্র জাতীয় পার্টি। ক্যানো, কারণ জাতীয় পার্টি সাধারণ মানুষের দল। ক্যানো, কারণ জাতীয় পার্টি একাত্তরের পক্ষের শক্তি। ক্যানো, কারণ জাতীয় পার্টি কখনো কারও উপর নির্যাতন করে নাই। তাই সকলের কাছে ভোট চাইতে পারবে। আর সকলের কাছে ভোট চাওয়া এই দলটিকে ভোটের মাট থেকে বের করে দিতে হবে। সেটার জন্য ইউনুস গভারমেন্টস, আরও দু’একটি দল কিছু কুকুর লেলিয়ে দিলো আমাদের উপর। কিছু রাজনৈতিক দল আমাদের অফিসে ঢিল মারলো ও আগুন দিলো। আমাদের মেয়র মহোদয় (রংপুর সিটি) সেটাকে কটাক্ষ করেছেন এবং গালি দিয়েছেন।
আর মানুষ সেটাকে গ্রহণ করেছে। জাপার মহাসচিব শামীম হায়দার আরও বলেন, আমাদেরকে ব্যান্ড করতে চেয়েছিলো। আমাদের পার্টির চেয়ারম্যানের নামে ১৬ টি মামলা। তার স্ত্রীর নামে মামলা। কি আশ্চর্য? যে ব্যাক্তি একজন বুয়েট পাস করা ইন্জিনিয়ার। যিনি একজন বিখ্যাত মন্ত্রী। একটি দলের চেয়ারম্যান। যিনি আন্দোলনের পক্ষে কথা বলেছিলেন। তাকে আপনারা হত্যা মামলার আসামি করলেন? আপনারা হত্যা মামলার আসামি দিয়ে মামলা মামলা খেলে এই দেশে একটা নব্য স্বৈরতন্ত্র সৃষ্টি করলেন। আর এই মামলা হলো টাকার খেলা।
দশ লাখ টাকা দাও মামলা থেকে তোমার নাম কেটে দিবো। তা-না হলে এ মামলা চলবে। আর আদালত পাড়ায় বিচারপতি তাঁর দরজায় লিখে দিয়েছেন জুলাই আন্দোলনের মামলা শুনিবো না। এটা কি মবতন্ত্র? এটা কি বাংলাদেশ? শপথ নিয়েছেন ন্যায় বিচার করার আর মবের ভয়ে বিচার করতে পারছেন না।
বর্তমান সরকারের আরেকটি নাম হচ্ছে গণপ্রজাতন্ত্রী মব সরকার। এলাকাবাসীর আয়োজনে এ পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান ও রংপুর সিটি করপোরেশনের (রসিক) সাবেক মেয়র মো. মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টির গাইবান্ধা জেলা সভাপতি মো. সরওয়ার হোসেন শাহীন, সাবেক এমপি ও জাপা নেতা আলহাজ্ব মো. ওয়াহিদুজ্জামান সরকার বাদশা, জাতীয় পার্টির উপজেলা সিনিয়র সহসভাপতি মো আনছার আলী সরদার ও সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুল মান্নান মন্ডল।
বেলকা ইউনিয়ন জাতীয় পার্টির সভাপতি মো. রেজাউল ইসলাম রানার সঞ্চালনায় এ সভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় পার্টির বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন সভাপতি মো. রেজাউল হক রেজা, উপজেলা জাতীয় যুব সংহতির সভাপতি মো. সাইদুর রহমান, শ্রমিক পার্টির আহবায়ক মো. আবদুল হামিদ মিয়া, কৃষক পার্টির আহবায়ক মো. আবুল কাশেম, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মো. সরওয়ার হোসেন বাবু ও ছাত্র সমাজের আহবায়ক মো. সাইফুল ইসলামসহ আরও অনেকে।