1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
ভোরের পাখি স্কুল ডুবে যাওয়ার পর জিওব্যাগ, ক্ষুব্ধ সবাই | দৈনিক সকালের বাণী
বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:২২ পূর্বাহ্ন

ভোরের পাখি স্কুল ডুবে যাওয়ার পর জিওব্যাগ, ক্ষুব্ধ সবাই

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
  • আপলোডের সময় : বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৮ জন দেখেছেন

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে তিস্তা নদীভাঙনে ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একাংশ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পর জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগ ফেলা শুরু করেছেন।
তবে বিদ্যালয়টি রক্ষায় আগে থেকে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকসহ স্থানীয়রা। গতকাল বুধবার সকাল থেকে জিও ব্যাগ ফেলানোর কাজ শুরু করা হয়েছে। এর আগে গত মঙ্গলবার ভোর রাত থেকে ভাঙ্গন শুরু হয়। এতে বিদ্যালয়টির এক তৃতীয়াংশ নদীতে যায়। নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়া হয়েছে বাকি অংশ।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যালয়টি তিস্তার ভাঙনের ঝুঁকিতে ছিল। বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানানোসহ বিদ্যালয় রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছিল। তারই প্রেক্ষিত ইউপি চেয়ারম্যান, স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা ও জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা এলাকা পরিদর্শনও করেছিলেন। সর্বশেষ গত ৮ আগস্ট পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। এরপর বিদ্যালয়টি রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগের প্রত্যাশা করেছিলেন স্থানীয়রা।

কিন্তু কয়েক দিনের ব্যবধানেই বিদ্যালয়ের একটি অংশ নদীতে বিলীন হয়ে যায়। বিদ্যালয়টি নদীতে বিলীন হওয়ার পর জিও ব্যাগ ফেলার উদ্যোগকে ‘দেরিতে নেওয়া পদক্ষেপ’ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রশ্ন, ভাঙনের ঝুঁকির সময় জিও ব্যাগ ফেলা হলে বিদ্যালয়টি রক্ষা করা যেত কি না। এখন স্কুল হারানোর পর শুরু হওয়া এই তৎপরতা তাই নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, অবশিষ্ট অংশ রক্ষার পাশাপাশি দ্রুত নিরাপদ স্থানে বিদ্যালয়টি পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ নিতে হবে।

একই সঙ্গে তিস্তার ভাঙনপ্রবণ এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জনবসতি রক্ষায় আগাম ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. মেহেদী হাসানের অভিভাবক মো. মোজাম্মেল হক ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, এখন হামার স্কুলেই নাই আর ওমরা আইসছে ব্যাগ নিয়া। এ্যালানিয়া কি করি হামরা ওমার জিও ব্যাগ। ওমাক কন ওমরা ওমার ব্যাগ নিয়া যাউক। প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুর রহমান মন্ডল ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, আজকে টলারে টলারে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। এই কাজটা যদি ওনারা আর দুইদিন আগে ফেলতো তাহলে এতোবড় বিপদ দেখতে হতো না আমাদের। অথচ বহুদিন বহু জায়গায় অভিযোগ দিয়েছিলাম। কেউ গুরুত্ব দেননি এতোদিন। সবকিছু শেষ হয়ে যাওয়ার পর ওনারা এসেছেন।

খুব দ্রুত সময়ে নিরাপদ স্থানে স্কুলটি সরিয়ে নেওয়া হবে জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, ‘ভাঙ্গন শুরু হওয়ায় স্কুলের সবকিছু খুলে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য চেয়ারম্যানকে বলেছিলাম। তারা সে কাজটিও করেছেন। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এর আগেও ভাঙন দেখা দিলে আমি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানিয়েছিলাম।’ জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ভাঙনের খবর পাওয়ার পরপরই জিও ব্যাগ ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে কাজ চলছে। কতো ব্যাগ ফেলানো হবে সেটি স্টিমিট করা হয়নি। তবে স্কুলটি রক্ষা করতে যা লাগে তা ফেলানো হবে।’ বিদ্যালয়টি বিলীন হওয়ার আগে কেন জিও ব্যাগ ফেলা হয়নি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ইতোপূর্বে ওই এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছিল। গত সোমবারও সেখানে ভাঙন ছিল না। ভাঙন না থাকলে জিও ব্যাগ ফেলার অনুমতি নেই।’

জিও ব্যাগ ফেলার সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক মো. মাজেদুর রহমানের প্রতিনিধি ও উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মো. শহিদুল ইসলাম সরকার মঞ্জু, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মো. সামিউল ইসলাম, ভোরের পাখি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুর রহমান মণ্ডল, পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও স্থানীয়রা। জিও ব্যাগ ফেলানোর কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মো. শহিদুল ইসলাম সরকার মঞ্জু বলেন, নেতৃবৃন্দসহ প্রায় ঘন্টা তিনেক ছিলাম।

আপাতত অস্থায়ী সমাধানে জিও ব্যাগ ফেলানো হচ্ছে। তবে স্থায়ী সমাধানের বিষয়ে মাননীয় সংসদ সদস্যের সাথে কথা হয়েছে।’ এ বিষয়ে কথা হয় স্থানীয় সাংসদ অধ্যাপক মো. মাজেদুর রহমান সরকারের সাথে। আরও আগে জিও ব্যাগ ফেলানো হলো হয়তবা স্কুলটির এতবড় ক্ষতি হতো না বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, স্থায়ী সমাধানে আমি কাজ করছি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে নিয়মিত যোগাযোগও রাখছি। আশা করছি খুব অল্প সময়ের মধ্যেই একটা কিছু হবে ইন্শ আল্লাহ।’

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )