1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
পার্বতীপুরে এলজিইডির উন্নয়নে  বদলে যাচ্ছে গ্রামীণ জীবনযাত্রা | দৈনিক সকালের বাণী
বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৪৬ পূর্বাহ্ন

পার্বতীপুরে এলজিইডির উন্নয়নে  বদলে যাচ্ছে গ্রামীণ জীবনযাত্রা

পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
  • আপলোডের সময় : বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২০ জন দেখেছেন

কেবল রাস্তাঘাট বা সেতু-কালভার্ট নয়, গ্রামীণ উৎপাদিত পণ্য পরিবহন ও সহজ বিপণনের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এখন হাটবাজার সংযুক্ত সড়ক ও বাজার অবকাঠামো নির্মাণ করছে। এর ফলে বদলে যাচ্ছে গ্রামীণ জীবনযাত্রার মানচিত্র। গ্রামীণ সড়ক ও অবকাঠামোর উন্নয়নে শহরের সব নাগরিক সুবিধা এখন মিলছে গ্রামেই। সরকারের দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনার সুফল পৌঁছে যাচ্ছে একদম প্রান্তিক পর্যায়ে।

বর্তমানে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নানামুখী কার্যক্রমের মাধ্যমে দেশজুড়ে অবকাঠামো খাতের এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন ঘটছে, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে গ্রামীণ অর্থনীতিতে। দিনাজপুর অঞ্চলের গ্রামীণ চিত্র বদলে দিতে এই বাস্তবমুখী প্রকল্প গুলো বাস্তবায়ন করছে পার্বতীপুর উপজেলা এলজিইডি।

এদিকে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীদের সংগঠন ‘ভূমি ও বসতভিটা রক্ষা কমিটি’র সভাপতি মো. মতিয়ার রহমান জানান, ‘ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীদের ৭ দফা দাবি নিয়ে আমরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছি। আনন্দের বিষয়, খনি কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে আমাদের ৩ নম্বর দাবিটি পূরণ করেছে। এর আওতায় হামিদপুর ইউনিয়নের ১৫টি গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব করে বৈদ্যনাথপুর থেকে বৈগ্রাম পর্যন্ত সড়কটি পাকা করা হচ্ছে।

আগে রাস্তাটি অত্যন্ত ভাঙাচোরা থাকায় এলাকার মানুষকে ৪-৫ কিলোমিটার পথ ঘুরে চলাচল করতে হতো। বর্তমানে চলমান এই সড়ক উন্নয়ন কাজের গুণগত মান অত্যন্ত চমৎকার। বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির অর্থায়নে এবং এলজিইডির কারিগরি সহায়তায় বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের কাজ আগামী এক মাসের মধ্যেই সম্পন্ন হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।’

৯ নম্বর হামিদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রেজওয়ানুল হক জানান, কয়লাখনির জন্য অধিগ্রহণকৃত এলাকা থেকে খয়েরপুকুর-ফুলবাড়ী সংযোগ সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশের বিকল্প সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ এখন শেষের পথে। প্রকৌশলীদের নিবিড় তত্ত্বাব্বানে এই গুরুত্বপূর্ণ পাকা রাস্তাটি নির্মিত হচ্ছে। রাস্তাটি আগের চেয়ে প্রশস্ত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াতে দারুণ সুবিধা হচ্ছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরে হামিদপুর ইউনিয়নের বৈদ্যনাথপুর থেকে বৈগ্রাম পর্যন্ত রাস্তার সিংহভাগ কাজ ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে এবং বাকি অংশের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। রাস্তাটি এখন এই এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান মাধ্যম এবং একটি দর্শনীয় আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।

গত ৬ মাসে বৃহত্তর রংপুর ও দিনাজপুর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২০ কিলোমিটার গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া ‘প্রায়োরিটি বেসড রুরাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’ (জিওবি)-এর অধীনে আরও ১২ কিলোমিটার রাস্তার উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে, যা আগামী দুই মাসের মধ্যে শেষ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। পাশাপাশি উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬টিতে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নির্মাণকাজ চলছে, যা আগামী তিন মাসের মধ্যে সম্পন্ন হবে। ইতিমধ্যে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে এবং বছিরবানিয়া, গাছুয়াপাড়া থেকে খয়েরপুকুর মতিনের মোড় ও যশাই ব্রিজের কাজ বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন।

এডিবির অর্থায়নে গ্রামীণ সড়ক টেকসইকরণের লক্ষ্যে সোলিং, সিসি ঢালাই, হেরিং বোন বন্ড (এইচবিবি) রাস্তা, পানি নিষ্কাশন ড্রেন এবং পুকুরের গাইড ওয়াল নির্মাণের কাজও শেষ হয়েছে। ফলে এসব গ্রামীণ উন্নয়নের সুফল এখন সরাসরি পৌঁছে যাচ্ছে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায়। উপজেলার ৬ নম্বর মোমিনপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম বলেন, যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নের কারণে এখন শক্তিশালী ও গতিশীল হয়েছে এ উপজেলার গ্রামীণ অর্থনীতি। ছেলেমেয়েরা শহরের স্কুল-কলেজে

আসা-যাওয়া করতে পারছে। এমন সুবিধার কথা উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ কোনোদিন চিন্তাও করতে পারত না। এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মাজহারুল ইসলাম জানান, মাঠ পর্যায়ে দক্ষ প্রকৌশলী ও কার্যসহকারীদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে কাজগুলো বাস্তবায়িত হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এবং কাজের গুণগত মান বজায় রেখে এলজিইডি কাজ করে যাচ্ছে। গ্রামের মানুষের যাতায়াতব্যবস্থা আরামদায়ক ও দুর্ঘটনামুক্ত হচ্ছে। উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামের রাস্তা, ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ করে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন করে চলেছে। উপজেলার ২ নম্বর মন্মথপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আ. ওয়াদুদ শাহ বলেন, এ অঞ্চলের কৃষক তাদের উৎপাদিত পণ্য সহজেই বাজারজাত করতে পারছেন। ফলে স্বল্প সময়ের মধ্যে পৌঁছে যাচ্ছে বিভিন্ন স্থানে। গ্রামীণ অর্থনীতিতেও এসেছে পরিবর্তন।

এ প্রসঙ্গে পার্বতীপুর উপজেলা প্রকৌশলী মো. মানিক মিঞা জানান, গ্রামীণ সড়ক নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করতে ইতিমধ্যে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে রাস্তা, সেতু ও কালভার্ট নির্মাণের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে উপজেলার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের উন্নয়নকাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে, যা স্থানীয় যোগাযোগব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )