রাজারহাট উপজেলার বৈদ্যের বাজার, ঘড়িয়ালডাঙ্গা, সোনাবার,নাজিম খানসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে পুরোদমে। কোথাও প্রতিমার কাঠামোতে মাটির প্রলেপ দেওয়া হচ্ছে,কোথাও চলছে রং ও সাজসজ্জার কাজ। লক্ষ্মী,সরস্বতী,কার্তিকসহ সহগামী প্রতিমাগুলোর কাজ প্রায় শেষ। তবে মূল প্রতিমা দেবী দুর্গার কাজ এখনো চলছে। শেষ মুহূর্তের কাজ সম্পন্ন করতে কারিগরদের ব্যস্ততা যেন বেড়েই চলেছে।
কারিগরদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রতিমার চাহিদা কিছুটা বেড়েছে। কাঠামোর উচ্চতা, নকশা ও কাজের ধরন অনুযায়ী প্রতিটি প্রতিমা তৈরিতে খরচ পড়ছে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত। চাহিদা বাড়ায় এ বছর প্রতিমার দামও কিছুটা বেড়েছে।
প্রতিমা কারিগররা জানান,একটি প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু থেকে শেষ করতে বেশ কয়েকটি ধাপ পার হতে হয়। বাঁশ ও কাঠ দিয়ে কাঠামো তৈরি, খড় দিয়ে অবয়ব তৈরি,মাটির প্রলেপ,শুকানো,রং করা এবং অলংকরণ—প্রতিটি কাজেই প্রয়োজন সময় ও দক্ষতা। এবার অর্ডার বেশি থাকায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব প্রতিমার কাজ শেষ করাই তাদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর উপজেলায় ১৩২টি পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ১৬
অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে শেষ হবে শারদীয় দুর্গোৎসব। পূজামণ্ডপগুলোতে আলোকসজ্জা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণের আয়োজন থাকবে।
পূজাকে ঘিরে গ্রাম-গঞ্জ থেকে শুরু করে শহরজুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসবের আমেজ। প্রতিমা তৈরির পাশাপাশি পূজামণ্ডপ সাজানো,আলোকসজ্জা ও অন্যান্য প্রস্তুতিতেও ব্যস্ত সময় পার করছেন সংশ্লিষ্টরা। ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ—সবাই অপেক্ষা করছেন আনন্দঘন এই উৎসবের। আর কারিগরদের হাতের নিপুণ ছোঁয়ায় পূর্ণতা পাচ্ছে দেবী দুর্গার প্রতিমা।