1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
ফুলছড়িতে বিদ্যালয়ের সভাপতির বাড়িতে হামলা প্রতিবাদে দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা | দৈনিক সকালের বাণী
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৫ অপরাহ্ন

ফুলছড়িতে বিদ্যালয়ের সভাপতির বাড়িতে হামলা প্রতিবাদে দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

ফুলছড়ি (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
  • আপলোডের সময় : বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৯ জন দেখেছেন
গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার গুনভরি দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মোজাম্মেল হকের বাড়িতে শিক্ষার্থীদের হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিদ্যালয় চত্বরে বিক্ষোভ করেন অভিভাবক ও এলাকাবাসী। এতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা প্রায় দুই ঘণ্টা বিদ্যালয়ের ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিকেল চারটার দিকে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
বুধবার দুপুর একটার দিকে বিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী সভাপতির পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে তাঁর বাড়িতে যায়। সেখানে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে দরজা-জানালার কাচ ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন মোজাম্মেল হক।
এ ঘটনার খবর পেয়ে অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজন বিদ্যালয়ে জড়ো হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একপর্যায়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ের কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখার ঘটনাও ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
পরে বিকেল ৪টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোস্তাফিজুর রহমান ও ফুলছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসরাকুল ইসলাম বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হলে প্রায় দুই ঘণ্টা পর শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয় থেকে বের হতে পারেন।
স্থানীয় অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি এবং শিক্ষার্থীদের পাঠদান নিশ্চিত করতে সভাপতি মোজাম্মেল হক সম্প্রতি শিক্ষকদের ওপর চাপ প্রয়োগ করছিলেন। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের একটি অংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। পরে তাঁর পদত্যাগের দাবিতে মিছিল বের করা হয়।
অন্যদিকে কয়েকজন অভিভাবক বলেন, সভাপতি দায়িত্ব নেওয়ার পর বিদ্যালয়ের পাঠদানের বিষয়ে নজরদারি বেড়েছে। তাঁর উদ্যোগে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নিয়মিত ক্লাস হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও পড়াশোনায় মনোযোগ বেড়েছে বলে তাঁদের দাবি।
তাঁদের ভাষ্য, আগে টিফিনের সময় কিছু শিক্ষার্থী বাড়িতে চলে যেত। বর্তমানে নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকা এবং শিক্ষকদের পাঠদানের বিষয়ে কঠোরতা থাকায় বিদ্যালয়ের পরিবেশে পরিবর্তন এসেছে।
অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মোজাম্মেল হক বলেন, বিদ্যালয়ে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। ব্যাংক হিসাব ও লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হলেও প্রধান শিক্ষক তা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন বলে তাঁর অভিযোগ। তিনি বলেন, আইসিটির ল্যাপটপ ও কম্পিউটার খাতা কলমে থাকলেও বাস্তবে সবগুলো নেই। এর ফলে শিক্ষার্থীরা কম্পিউটার শিক্ষার প্রয়োজনীয় জ্ঞান থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
অভিভাবকদের কয়েকজন প্রধান শিক্ষক মতলুবুর রহমান বুলু ও আইসিটি শিক্ষিকা ফেরদৌসী বেগমের আচরণ এবং পাঠদানের পরিবেশ নিয়েও অভিযোগ করেন। তাঁরা সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
তবে শিক্ষার্থীদের দিয়ে মিছিল করানোর বিষয়ে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শিক্ষকরা। এবিষয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, গত মঙ্গলবার সাংবাদিক নিয়ে এসে সভাপতি আমাদের শিক্ষকদের অপমান করেছেন। এর প্রতিবাদে আমরা বিক্ষোভ মিছিল করেছি, ভাঙচুর করিনি।
শিক্ষার্থী অভিভাবক সজল মিয়া বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। শিক্ষার্থীদের কোনো বাড়িতে হামলা বা ভাঙচুরের ঘটনায় জড়ানো ঠিক নয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকায় প্রধান শিক্ষক মতলুবুর রহমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার বিষয়ে আইসিটি শিক্ষিকা ফেরদৌসী বেগম বলেন, আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে তার সত্যতা নেই। আইসিটি ক্লাস নিয়মিত হয় এবং সকল উপকরণ যথাযথ আছে।
ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )