অনির্ধারিত আলোচনায় আজ সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, আইনমন্ত্রী সম্ভবত আমার বক্তব্যটি সঠিকভাবে খেয়াল করেননি। তবে আমি বিশ্বাস করতে চাই না যে তিনি এটি উদ্দেশ্যমূলকভাবে করেছেন। মূলত গতকাল আমাদের আলোচনার প্রধান বিষয় ছিল গণভোট এবং সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত প্রস্তাবিত পরিষদের সভা আহ্বান করা।
বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আইনমন্ত্রী মহোদয় তার বক্তব্যে আমার আগের কথার প্রেক্ষিতে নিজের অবস্থান জানিয়েছেন। যেহেতু আমার বক্তব্য আগেই শেষ হয়েছিল, তাই বিষয়টি আমি পুনরায় স্পষ্ট করলাম। এটি জনআকাঙ্ক্ষা ও গণভোটের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যেখানে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের রায়ের প্রশ্ন জড়িত। আমরা আশা করেছিলাম স্পিকারের মাধ্যমে এর একটি সুনির্দিষ্ট প্রতিকার বা সিদ্ধান্ত পাব। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত হলো কি না, তা আমার কাছে স্পষ্ট নয়। আমি আপনার কাছ থেকে এ বিষয়ে একটি পরিষ্কার ব্যাখ্যা প্রত্যাশা করছি।
উত্তরে স্পিকার বলেন, গতকালের প্রস্তাবটি ছিল একটি মুলতবি প্রস্তাব, যা আমার অনুপস্থিতিতে গৃহীত হয়েছিল। বাংলাদেশের ৫৩ বছরের সংসদীয় ইতিহাসে এ পর্যন্ত মাত্র তিনটি মুলতবি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে, যার একটি ছিল আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর, দ্বিতীয়টি গ্রেনেড হামলা এবং তৃতীয়টি নূরুল ইসলাম মণির কোস্টগার্ড সংক্রান্ত প্রস্তাব। সাধারণত বছরের পর বছর পার হলেও সংসদে কোনো মুলতবি প্রস্তাব গৃহীত হয় না। তা সত্ত্বেও, সংসদে প্রাণবন্ত আলোচনার সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হয়েছিল।
বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মাননীয় স্পিকার, আমরা একটি সুনির্দিষ্ট প্রতিকার চেয়েছিলাম। বিষয়টি কোনো বিশেষ দলের স্বার্থে নয়। নির্বাচনের আগে সরকারি ও বিরোধী দল, উভয় পক্ষই এই বিষয়ের পক্ষে একমত হয়ে প্রচারণা চালিয়েছিল। আমরা যেহেতু কোনো প্রতিকার পেলাম না, তাই মনে করছি দেশবাসীর রায়ের সঠিক প্রতিফলন বা মূল্যায়ন এখানে হলো না। বিরোধী দলে থেকে জনগণের এই অবমূল্যায়ন আমরা মেনে নিতে পারি না। এর প্রতিবাদে আমরা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করছি।
উত্তরে স্পিকার বলেন, আপনি তো আমাকে বক্তব্য শেষ করার সুযোগ দিলেন না। আমি আপনার প্রতিটি কথা ধৈর্য ধরে শুনেছি। ওয়াকআউট করা আপনাদের গণতান্ত্রিক অধিকার, তবে আমার অনুরোধ, একটু অপেক্ষা করুন। কিছুক্ষণ পরেই আরেকটি মুলতবি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে, যেখানে আপনারা আপনাদের প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাবেন এবং নিজেদের বক্তব্য পেশ করার অবারিত সুযোগ থাকবে। তাই আমার পরামর্শ হলো, সেই প্রস্তাবটির পরিণতি কী হয়, তা দেখার জন্য অন্তত কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন। এরপরও যদি আপনারা ওয়াকআউট করতে চান, তবে অবশ্যই করতে পারেন।
পরবর্তীতে বিরোধীদলীয় নেতা পুনরায় বলেন, পরবর্তী যে নোটিশটির কথা আপনি বলছেন, সেটি আমাদের নজরে এসেছে। আমাদের মনে হচ্ছে, মূল নোটিশটিকে ধামাচাপা দেওয়ার লক্ষ্যেই এই নতুন নোটিশটি সামনে আনা হয়েছে। তাই মূল বিষয়ের অবমূল্যায়ন এবং এই কৌশলের প্রতিবাদে আমরা সংসদ থেকে আপাতত ওয়াকআউট করছি।
স্পিকার বিরোধীদলীয় নেতার উদ্দেশ্যে বলেন, নোটিশটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপনই করা হয়নি, তার আগেই আপনারা কীভাবে বুঝলেন যে এটি অন্য কোনো বিষয়কে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য আনা হয়েছে? আমি অনুরোধ করছি, একটু ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করুন এবং নোটিশের বিষয়বস্তু শুনুন। এরপর আপনারা চাইলে অবশ্যই ওয়াকআউট করতে পারেন।
উত্তরে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মাননীয় স্পিকার, আপনার অনুপস্থিতিতে এই হাউসে সংশ্লিষ্ট সদস্য নোটিশটি পাঠ করেছেন এবং আমরা তা শুনেছি। আমরা জেনেশুনেই বলছি যে, মূল বিষয়টিকে পাশ কাটানোর এই প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে আমরা সংসদ থেকে ওয়াকআউট করছি।
জবাবে স্পিকার বলেন, সংসদীয় রীতি অনুযায়ী ওয়াকআউট করা আপনাদের অধিকার, আপনারা চাইলে তা করতে পারেন। এরপর এক যোগে বিরোধী দলের সদস্যরা সংসদ ত্যাগ করেন।
পরে বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, উত্থাপিত মুলতবি প্রস্তাবটি প্রক্রিয়াগতভাবে সঠিক ছিল না। সংসদীয় রীতিনীতি অনুযায়ী, যে বিষয় কেবল আইন প্রণয়নের মাধ্যমে নিষ্পত্তিযোগ্য, তা মুলতবি প্রস্তাবের আওতায় আনা যায় না। এ ধরনের প্রস্তাবের ওপর আলোচনার সুযোগ থাকলেও তা নিয়ে ভোটাভুটির কোনো বিধান নেই।
তিনি আরও বলেন, মাননীয় স্পিকার অত্যন্ত উদারতার পরিচয় দিয়ে বিরোধী দলকে আলোচনার সুযোগ দিয়েছেন। কিন্তু আলোচনার পর এই প্রস্তাবের ওপর ভোটের মাধ্যমে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আইনি সুযোগ নেই।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের পর স্পিকার দিনের পরবর্তী কার্যসূচি এগিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেন।


















