1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
হাটের সড়কে কাঁদা, দুর্ভোগে জনসাধারণ | দৈনিক সকালের বাণী
বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:০৮ অপরাহ্ন

হাটের সড়কে কাঁদা, দুর্ভোগে জনসাধারণ

ফয়সাল হক, চিলমারী (কুড়িগ্রাম)
  • আপলোডের সময় : বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১২ জন দেখেছেন
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সাপ্তাহিক জোড়গাছ হাট—যেখানে কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মিলনমেলা বসে—সেই হাটে যাওয়ার প্রধান সড়কটি আজ চরম দুরবস্থার শিকার। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কজুড়ে সৃষ্টি হচ্ছে কাঁদার সাগর, কোথাও কোথাও হাটুর সমান কাঁদা জমে থাকায় পথচারীদের চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে হাটে আসা-যাওয়া করা হাজারো মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভরা বর্ষা মৌসুম না আসতেই সামান্য বৃষ্টিতে হাঁটু সমান কাঁদায় ডুবে যায় এলাকার প্রধান হাটের সড়কটি। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে সড়কটির বেহাল দশা এখন চরম আকার ধারণ করেছে। এতে করে হাটে আসা ক্রেতা-বিক্রেতাসহ সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এই হাটে যাওয়ার প্রায় আধাঁ কিলোমিটার সড়কজুড়ে বড় বড় গর্ত ও কর্দমাক্ত কাদা জমে আছে। সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো রাস্তা পানিতে তলিয়ে যায়, ফলে পথচারীদের হাঁটু কাঁদা মাড়িয়ে চলাচল করতে হয়। তাছাড়া মাঝেমধ্যেই যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই হাট ইজারা হয় কোটি টাকার উপরে তবে বহুদিন ধরে সড়কটির সংস্কারের কোনো ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ইট-বালু বিছিয়ে কিংবা পাকা করার কথা থাকলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। এদিকে বর্ষা মৌসুম শুরু হলেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, রোগী বহনকারী যানবাহন, এমনকি নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনকারী গাড়ি গুলোকেও এই সড়ক ব্যবহার করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আব্দুল করিম বলেন, “প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে হাটে আসতে হয়। কাঁদার কারণে মালামাল আনা-নেওয়া করতে অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে।” একই অভিযোগ করেন একাধিক কৃষক ও দোকানদার।
হাটে আসা কৃষক মাজেদুল ইসলাম জানান, “আমরা কষ্ট করে ফসল ফলাই, কিন্তু হাটে নিয়ে আসতে গিয়ে কাদার মধ্যে পড়ে অনেক সময় পণ্য নষ্ট হয়ে যায়। এতে আমাদের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। রাস্তার এমন অবস্থা থাকলে কিছুদিন পর ক্রেতারা হাটে আসতে চাইবে না।
স্থানীয় বাসিন্দা রাশিদুল ইসলাম নোবেল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের নজরে পড়লেও রাস্তা সংস্কারের এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এদিকে বর্ষা মৌসুম না আসতেই আমাদের দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। ঐতিহ্যবাহী এই হাটের সড়কটি সংস্কারের অভাবে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ছে এবং এতে জনদুর্ভোগ বাড়ছে। এ ধরনের সমস্যার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে তিনি মনে করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, গ্রামীণ অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র হলো এসব হাট-বাজার। সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত না হলে কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। শুধু ব্যবসা-বাণিজ্য নয়, স্বাস্থ্যসেবাও ব্যাহত হয় এইসব সড়কের কারণে।
রমনা মডেল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম আঁশেক আঁকা জানান, সড়কটি যেহেতু উপজেলা এলজিইডির তত্ত্বাবধায়নে সেহেতু এ ব্যাপারে আমরা তাদেরকে অবগত করেছি তারা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে করবেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও মাহমুদুল হাসান কে মুঠোফোনে ফোন দিলে জায়গার নাম শুনে কোন ধরনের মন্তব্য না করেই মোবাইল ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )