


নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরে যানজট সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। শহরে প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত অবধি তীব্র যানজট লেগেই থাকে। বর্তমানে যানজট মানুুষের যন্ত্রণা, বিরক্তি ও দৈনন্দিন দুর্ভোগের অন্যতম ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। এতে করে শহরবাসীর জীবন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। ফলে তীব্র যানজটে পড়ে প্রতিদিন মানুষের কর্মঘন্টা নষ্ট হচ্ছে, হারিয়ে যাচ্ছে স্বস্তির চলাচল। বাণিজ্য ও শিল্পে কর্মচঞ্চল নীলফামারীর সৈয়দপুর শহর। এ শহরের আয়তন ৩২.৩৪ বর্গকিলোমিটার। এ শহরে শুধুমাত্র সৈয়দপুর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন কিংবা পৌরসভাবাসী মানুষই আসেন না। উপজেলার আশেপাশের কয়েকটি জেলা ও উপজেলার মানুষও দৈনন্দিন প্রয়োজনে এ শহরে ছুঁটে আসেন। আর এ শহরে প্রবেশের আটটি প্রধান সড়ক রয়েছে। এ সড়কগুলোতে প্রতিদিন লেগে থাকে দীর্ঘ যানজট। বেলা বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে যানজট ভয়াবহ রূপ নেয়। সকাল থেকে তা চলে মধ্যরাত পর্যন্ত। একবার যানজটের সৃষ্টি হলে সহজে তা থেকে মুক্তি মেলে না।
এ কারণে অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল-ক্লিনিক কিংবা বাজার কোথাও সময়মতো পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। শহরের প্রতিটি সড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে যে যার মতো ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত রিকশাভ্যানগুলো দাঁড় করিয়ে রাখায় অন্যান্য যানবাহন চলাচলে মারাত্মক বাঁধার সৃষ্টি হচ্ছে। শহরের ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে তামান্না সিনেমা হল মোড়, শহীদ তুলশীরাম সড়কের দিনাজপুর রোড মোড়, মুন্সিপাড়া মোড়, সবজিবাজার রোডের সোহেল রানা মোড় ও সৈয়দপুর থানা রোড মোড়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত রিক্সাভ্যানের জট লেগেই থাকে। তবে যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশ ও পৌরসভার কর্মচারীরা সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানোর চেষ্টা করলেও জটমুক্ত হচ্ছে না সড়ক। সড়কে ধারণ ক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে সব চেষ্টায় ব্যর্থ হচ্ছে।
এছাড়াও শহরের সড়ক ও ফুটপাত দখল করে মালামাল রাখা ও দোকান বসানোয় পরিস্থিতি আরো চরম আকার ধারণ করেছে। এদিকে, ব্যস্ততম সড়ক মোড়ে যানজট সহনীয় মাত্রায় আনতে সড়কে স্থাপন করা অস্থায়ী ডিভাইডার পাল্টে স্থায়ী ডিভাইডার স্থাপন করা হচ্ছে। শহরের ভিতর দিয়ে ভারী যানবাহনের প্রবেশে কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ জন্য সড়কের ওপর গতিরোধক (ব্যারিয়ার) দেওয়া হলেও যান চালকরা তা অমান্য করে বেরিয়ার ভেঙ্গে ফেলছে। অভিযোগ রয়েছে ট্রাফিক বিভাগের ঢিলেমি ও একটি চক্রের মদদে চালকরা দিনের বেলা তাদের ভারী যানবাহন শহরে প্রবেশ করাচ্ছে। ফলে চালকদের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার প্রবণতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে পৌর প্রশাসন। এসব উদ্যোগ কার্যকর হলে দ্রুত সময়ের মধ্যে যানজটের দুর্ভোগ অনেকাংশে লাঘব হবে।
ভুক্তভোগী শহরবাসীর অভিযোগ, যানবাহন চালকেরা ট্রাফিক আইনের তোয়াক্কা করেন না। সড়কের যত্রতত্র যানবাহন দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানায় স্বাভাবিক যান চলাচল বাঁধাগ্রস্থ করছে। সড়কে ডিভাইডার স্থাপন করলেও পার্কিং স্পেসের অভাবে জট সমস্যা কাটছে না। এমন বিশৃঙ্খলায় সড়কের মোড়ে মোড়ে পৌরসভার কর্মচারী ও স্বেচ্ছাসেবকরা কাজ করায় আশানুরূপ ফল মিলছে না। সৈয়দপুর ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক (টিআই) বলেন, সড়কে যত্রতত্র পার্কিং ও চালকরা শৃঙ্খলা না মানায় যানজট পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। এ সব পয়েন্টে যানবাহন নিয়ন্ত্রণে দেখার কেউ নেই। যার প্রভাব অন্য সড়ক ও সড়ক মোড়ে পড়ায় জটের ধকল পোহাতে হয়। এছাড়াও বেশিরভাগ দোকানিরা রাস্তা ও ফুটপাত দখলে রাখায় বিঘ্নিত করছে যান ও পথচারীর চলাচল । এর সঙ্গে সড়কের ওপর ব্যবসা করা ভ্রাম্যমাণ হকাররা পরিস্থিতি আরও নাজুক করে তুলেছে।
এ অবস্থায় সড়ক, ফুটপাত স্থায়ীভাবে দখলমুক্ত করতে পৌর কর্তৃপক্ষের শক্ত ভূমিকা গ্রহনের দাবি জানান তিনি। সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা জানান, শহরের যানজট নিরসনে সড়কের ওপর অবৈধ দোকান উচ্ছেদ ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে পৌরসভার পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, দিনের বেলা যাতে শহরে ভারী যানবাহন প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে লোহার ব্যারিয়ার দেওয়া হয়েছে। অথচ যানবাহন চালকরা সে সব ভেঙ্গে শহরে প্রবেশ করছে। বিষয়টি নজরে আসার পর ওই পয়েন্টগুলোয় পৌরসভার নিজস্ব জনবল নিয়োজিত করা হয়েছে।