1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
ফুটবল ইতিহাসের জীবন্ত জাদুঘর: মেক্সিকোর ঐতিহাসিক অ্যাজটেকা স্টেডিয়াম | দৈনিক সকালের বাণী
শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ০১:৫৫ অপরাহ্ন

ফুটবল ইতিহাসের জীবন্ত জাদুঘর: মেক্সিকোর ঐতিহাসিক অ্যাজটেকা স্টেডিয়াম

স্পোর্টস ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬
  • ১৬ জন দেখেছেন

দরজায় কড়া নাড়ছে ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬। বিশ্বকাপের এবারের আসরকে সামনে রেখে ইতোমধ্যেই ফুটবল উন্মাদনায় মেতে উঠতে শুরু করেছেন ফুটবলপ্রেমীরা। কানাডা, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এবারের আসরের সহ আয়োজক দেশ মেক্সিকো। তিন দেশের ১৬টি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ৪৮ দল নিয়ে বিশ্বকাপ। মেক্সিকোর নাম আসতেই বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মনে যে নামটি সবার আগে ভেসে ওঠে, তা হলো এস্তাদিও অ্যাজটেকা বা অ্যাজটেক স্টেডিয়াম।

ফুটবল বিশ্বে এই স্টেডিয়ামের মর্যাদা কোনো সাধারণ মাঠের মতো নয়; এটি ফুটবল রোমাঞ্চ, ইতিহাস আর কিংবদন্তিদের পদধূলিতে ধন্য এক তীর্থভূমি। ফুটবলের ইতিহাসে এই একটিমাত্র মাঠের ঘাস স্পর্শ করেই পেলে এবং দিয়েগো ম্যারাডোনা- দুজনই বিশ্বজয়ের মুকুট মাথায় পরেছিলেন। ২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এই ঐতিহাসিক স্টেডিয়ামের গৌরবময় অতীত এবং বর্তমান অবস্থা নিয়ে আজকের বিশেষ প্রতিবেদন।

কেন এই স্টেডিয়াম ফুটবল ইতিহাসে এত বিখ্যাত?
ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত ও কালজয়ী ঘটনাগুলোর নীরব সাক্ষী এই অ্যাজটেকা স্টেডিয়াম। এটি কেন বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে আইকনিক স্টেডিয়াম, চলুন তা জেনে নেয়া যাক আগে:
পেলের রাজকীয় বিদায় (১৯৭০): ১৯৭০ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে এই মাঠেই ইতালিকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে ব্রাজিল তাদের তৃতীয় বিশ্বকাপ জিতেছিল। ফুটবল সম্রাট পেলে তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ ট্রফিটি এই মাঠের আকাশেই উঁচিয়ে ধরেছিলেন।

ম্যারাডোনার সেই বিখ্যাত ৪ মিনিট (১৯৮৬): ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার সেই ঐতিহাসিক কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচটি এই মাঠেই হয়েছিল। একই ম্যাচে দিয়েগো ম্যারাডোনার হাত দিয়ে করা বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অফ গড’ গোল এবং ফুটবল ইতিহাসের সেরা ‘শতাব্দীর সেরা গোল’- দুটিরই সাক্ষী এই অ্যাজটেকার সবুজ ঘাস।
শতাব্দীর সেরা ম্যাচ: ১৯৭০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইতালি ও পশ্চিম জার্মানির মধ্যকার সেই শ্বাসরুদ্ধকর ৪-৩ ব্যবধানের ম্যাচটিকে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ম্যাচ বলা হয়, যা এই মাঠেই অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

অনন্য এক হ্যাটট্রিক: ২০২৬ সালের ১১ জুন এই স্টেডিয়ামেই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ। এর মাধ্যমে বিশ্ব ফুটবল ইতিহাসের প্রথম স্টেডিয়াম হিসেবে তিনটি ভিন্ন বিশ্বকাপে (১৯৭০, ১৯৮৬ এবং ২০২৬) ম্যাচ আয়োজন করার অনন্য এক ‘হ্যাটট্রিক’ কীর্তি গড়তে যাচ্ছে অ্যাজটেকা।
ধারণ ক্ষমতা ও সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতার চ্যালেঞ্জ

অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামটি মেক্সিকো সিটির কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। ১৯৬৬ সালে যখন এটি প্রথম উন্মোচন করা হয়, তখন এর ধারণ ক্ষমতা ছিল ১ লাখ ৫ হাজারেরও বেশি। মেক্সিকো বনাম ব্রাজিলের এক প্রীতি ম্যাচে সর্বোচ্চ ১ লাখ ১৯ হাজার দর্শক উপস্থিতির রেকর্ড রয়েছে এই মাঠে।
তবে পরবর্তীতে ফিফার কঠোর নিরাপত্তা নীতি ও ভিআইপি বক্স তৈরির কারণে আসন সংখ্যা কিছুটা কমিয়ে আনা হয়। বর্তমানে এর অফিসিয়াল ধারণ ক্ষমতা প্রায় ৮৭,৫২৩ জন, যা এটিকে লাতিন আমেরিকার অন্যতম বৃহত্তম এবং উত্তর আমেরিকার সবথেকে বড় ফুটবল স্টেডিয়ামে পরিণত করেছে।

এই মাঠের আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর ভৌগোলিক অবস্থান। স্টেডিয়ামটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭,২০০ ফুট (২,১৯৫ মিটার) উঁচুতে অবস্থিত। এত উঁচুতে বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ কম থাকায় বিদেশি খেলোয়াড়দের জন্য এখানে পুরো ৯০ মিনিট খেলা চরম শারীরিক পরীক্ষা ও ক্লান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

বর্তমান অবস্থা: ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য মহাপ্রস্তুতি
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে গত কয়েক বছর ধরে অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে বিশাল সংস্কার কাজ চালানো হয়েছে। মেক্সিকোর এই গর্বের প্রতীককে আধুনিক ফুটবলের সবরকম সুযোগ-সুবিধার উপযোগী করে তুলতে ফিফার গাইডলাইন অনুযায়ী নতুন রূপ দেওয়া হচ্ছে। আধুনিকায়ন: স্টেডিয়ামের ভেতরের আসন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ নতুন করে সাজানো হয়েছে। খেলোয়াড়দের ড্রেসিংরুম, মিডিয়া সেন্টার এবং হসপিটালিটি বক্সগুলো আন্তর্জাতিক মানের করা হয়েছে।

প্রযুক্তি ও পরিবেশ: স্টেডিয়ামের লাইটিং সিস্টেমে আনা হয়েছে আমূল পরিবর্তন, যুক্ত করা হয়েছে আধুনিক এলইডি ফ্লাডলাইট এবং বিশাল জায়ান্ট স্ক্রিন। তবে এর ঐতিহাসিক যে মূল কাঠামো বা নকশা, তা অক্ষুণ্ন রাখা হয়েছে যাতে এর ঐতিহ্য হারিয়ে না যায়। “অ্যাজটেকা স্টেডিয়াম কেবল মেক্সিকোর নয়, পুরো বিশ্বের ফুটবলের একটি ঐতিহ্যবাহী মন্দির। ২০২৬ সালের উদ্বোধনী ম্যাচে যখন এখানে আবার বল গড়াবে, তখন ইতিহাস এক নতুন রূপ নেবে”, ঐতিহ্যবাহী এই ভেন্যু নিয়ে এমন মন্তব্যই করেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।

ফুটবলপ্রেমীদের কাছে মারাকানা বা ওয়েম্বলি যদি ফুটবলের থিয়েটার হয়, তবে অ্যাজটেকা হলো ফুটবলের স্বর্গ। আর মাত্র কিছুদিন পর, ২০২৬ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেই এই ঐতিহাসিক মাঠের গ্যালারি যখন আবার মেক্সিকান ওয়েভে মেতে উঠবে, তখন আরও একবার বিশ্ব দেখবে কেন এই স্টেডিয়ামকে ফুটবলের চিরন্তন রাজধানী বলা হয়।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )