বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের মন্থনা বাজার সংলগ্ন মমো জুট মিলের সামনে গঙ্গাচড়া-বড়াইবাড়ী সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, বড়াইবাড়ী থেকে গঙ্গাচড়ার দিকে আসা ঢাকা মেট্রো-ট-১৮-১৯৫৮ নম্বরের একটি ট্রাকের সঙ্গে গঙ্গাচড়া থেকে আলমবিদিতর এলাকায় আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার পথে একটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, সড়কের ওপর শুকাতে দেওয়া খড়ের ওপর মোটরসাইকেলের চাকা পিছলে ট্রাকের সামনে চলে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন পশ্চিম মান্দ্রাইন গ্রামের প্রশান্ত চন্দ্র সরকার (৪০) ও তাঁর বাবা নির্মল চন্দ্র সরকার (৭০)। প্রশান্ত ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত নির্মল চন্দ্র সরকারকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়।
এ সময় মোটরসাইকেলে থাকা প্রশান্তের ছেলে বন্ধন চন্দ্র সরকার (৭) গুরুতর আহত হয়। তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার পর ট্রাকচালক ও তাঁর সহকারী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পুলিশ ট্রাকটি জব্দ করেছে।
এ বিষয়ে গঙ্গাচড়ার সচেতন নাগরিক হেলাল খান বলেন,জনবহুল চলাচলের রাস্তাগুলোতে যেন খড়, ভুট্টা ও ধান শুকাতে না পারে সে বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
দূর্ঘটনার বিষয়ে গঙ্গাচড়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুর ছবুর জানান,এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে ।
এলাকাবাসী ও পথচারীদের দাবী গঙ্গাচড়া – বড়াইবাড়ীগামী রাস্তাটি চড়ম ব্যাস্ততম রাস্তা হওয়া সত্বেও সেই রাস্তায় খড়, ভুট্টা ও ধান শুকানো নিসন্দেহে অপরাধ ও দূর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়িয়ে দিচ্ছে। আজকের মর্মান্তিক দূর্ঘটনা তারই প্রমাণ। শুধু এই রাস্তাটিতেই নয় উপজেলার সকল রাস্তায় যেন পথচারীরা নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে সে বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারী প্রয়োজন।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) হামিদুর ইসলাম বলেন, আজকের বিষয়টি দু:খজনক। আমরা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং প্রয়োজনে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।