


দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান। অভিনয় দক্ষতার পাশাপাশি মানবিক উদ্যোগ ও জীবনযাপনের দর্শনের কারণেও তিনি দর্শকদের কাছে আলাদা সম্মান অর্জন করেছেন। গতকাল বুধবার এই অভিনেত্রীর জন্মদিন। তবে অনেকের মতো কেক কেটে দিনটি উদযাপন করেন না তিনি। একসময় জন্মদিনে কেক কাটার প্রচলন থাকলেও ২০১৬ সালের হোলি আর্টিজান হামলার পর সেই অভ্যাস বদলে ফেলেন জয়া। এরপর থেকে শুভাকাঙ্ক্ষীদের পাঠানো কেক নিজে না কেটে ভবনের নিরাপত্তাকর্মী, সহায়তাকারী মানুষ এবং আশপাশের মানুষের মধ্যে বিতরণ করে দেন।
শুধু জন্মদিন নয়, পরিবারের সদস্যদের জন্মদিনেও দীর্ঘদিন ধরে পথকুকুরদের খাবার খাওয়ানোর উদ্যোগ নিয়ে আসছেন এই অভিনেত্রী। প্রাণীর প্রতি তার ভালোবাসা ও মানবিক এই উদ্যোগ বরাবরই প্রশংসিত হয়েছে। গোপালগঞ্জে জন্ম নেওয়া জয়ার বাবা এ এস মাসউদ ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং মা রেহানা মাসউদ ছিলেন শিক্ষিকা। ছোটবেলা থেকেই নাচ, গান ও ছবি আঁকার প্রতি তার আগ্রহ ছিলো। পরবর্তী সময়ে শিল্পীজীবনের ভিত্তি তৈরি করে সেই আগ্রহ। অভিনয়ে নিয়মিত হওয়ার আগে তিনি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং একটি সংগীত বিদ্যালয়ও পরিচালনা করতেন। ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৯৮ সালে মডেল ও অভিনেতা ফয়সাল আহসানকে বিয়ে করেন জয়া। ২০১১ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয়। জীবনের নানা উত্থান-পতন পেরিয়ে অভিনয়েই নিজের শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছেন তিনি।
২০০৪ সালে ‘ব্যাচেলর’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হলেও ‘গেরিলা’ সিনেমায় বিলকিস বানু চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক প্রশংসা ও জাতীয় স্বীকৃতি পান জয়া। এরপর একের পর এক ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় করে বাংলাদেশ ও ভারতের বাংলা চলচ্চিত্রে নিজের আলাদা অবস্থান তৈরি করেন। ২০১৩ সালে বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ কান চলচ্চিত্র উৎসবে আমন্ত্রণ পান তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি নারী ও শিশু অধিকার, প্রাণী কল্যাণ এবং বিভিন্ন সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রমেও নিয়মিত অংশ নিয়ে আসছেন এই অভিনেত্রী।
চরিত্র নির্বাচনে বৈচিত্র্য, অভিনয়ের প্রতি নিবেদন এবং নিজেকে প্রতিনিয়ত নতুনভাবে উপস্থাপনের কারণে জয়া আহসান দুই বাংলার অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন।
পাঁচ নায়িকার গ্ল্যামার, রোমান্স আর অ্যাকশনে ভরপুর ইয়াশের ‘টক্সিক’ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি এখন পর্যন্ত পাঁচটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, তিনটি ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডসহ দেশ-বিদেশের অসংখ্য সম্মাননা অর্জন করেছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি তার সরল জীবনযাপন ও মানবিক কর্মকাণ্ডও ভক্তদের কাছে তাকে আরও প্রিয় করে তুলেছে।