অনুসন্ধানে গঙ্গাচড়া উপজেলা পরিষদের বরাদ্দসংক্রান্ত নথি সূত্রে দেখা যায় , ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের এডিপির আওতায় শিক্ষার্থীদের জন্য ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণে এডিপি সাধারণ পিআইসি ও রাজস্ব উন্নয়ন এই দুই খাতের তিনটি প্রকল্প রয়েছে। এডিপি সাধারণ পিআইসি খাতের আওতায় রয়েছে একটি প্রকল্প। এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের লক্ষ্যে বিভিন্ন মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফুটবল ও হ্যান্ডবল বিতরণ প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৪২ টাকা। অন্যদিকে রাজস্ব উন্নয়ন স্থানান্তরিত পিআইসি খাতের আওতায় রয়েছে দুটি প্রকল্প।
এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের লক্ষ্যে বিভিন্ন দাখিল মাদ্রাসায় ফুটবল বিতরণ প্রকল্পে বরাদ্দ ২ লাখ টাকা এবং প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের মাঝে ফুটবল বিতরণ প্রকল্পে বরাদ্দ ২ লাখ টাকা। অর্থাৎ, দুই খাতের তিন প্রকল্পে শিক্ষার্থীদের ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণের জন্য মোট বরাদ্দ ৫ লাখ ৯৭ হাজার ৫৪২ টাকা।
প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নের চিত্র জানতে গঙ্গাচড়া উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এসব প্রকল্পের আওতায় এখনো কোন ক্রীড়া সামগ্রী পাননি।
গঙ্গাচড়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এনামুল হক বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানে এ প্রকল্পের আওতায় এখন পর্যন্ত কোনো ফুটবল, হ্যান্ডবল বা খেলাধুলার সামগ্রী দেওয়া হয়নি।
গঙ্গাচড়া সিনিয়র আলীম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. অলিউল্লাহ বলেন, আমরা এখনো কোনো সামগ্রী পাইনি। কবে দেওয়া হবে, সে বিষয়েও আমাদের জানানো হয়নি।
নগর বড়াইবাড়ী আলমবিদিতর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামসুল আরেফিন স্বপন বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানে এখন পর্যন্ত কোনো ক্রীড়া সামগ্রী আসেনি। যদি বরাদ্দের বিপরীতে সামগ্রী বিতরণ হয়ে থাকে, তাহলে আমাদের প্রতিষ্ঠানে তা পৌঁছায়নি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাইলা জেসমিন সায়েদ বলেন, স্কুল ব্যাগ বিতরণ করা হয়েছে, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান দিয়েছেন। তবে ফুটবল বা খেলাধুলার সামগ্রী বিতরণের বিষয়টি আমার জানা নেই। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু সাঈদ মো. আরিফ মাহফুজ বলেন, আমার কাছে প্রতিষ্ঠানের তালিকা চেয়েছিলেন। আমি তালিকা দিয়েছি, এরপর এবিষয়ে আমি আর কিছু জানি না।
এলজিইডি উপজেলা প্রকৌশলী জয়া স্যানাল বলেন, বিতরণ এখনো কমপ্লিট হয়নি। মাস্টার রোল এখনো হাতে পাইনি। মাস্টার রোল অনুযায়ী বিতরণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, ক্রীড়া সামগ্রী এখনো বিতরণ করা হয়নি। আমরা এগুলো বিতরণ করব।
উল্লেখ্য, উপজেলা প্রশাসনের ভাষ্য মতে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের লক্ষ্যেই তিনটি প্রকল্পে মোট ৫ লাখ ৯৭ হাজার ৫৪২ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অর্থবছর শেষ হওয়ার ২ মাস পরও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ না হওয়ায় এখন প্রশ্ন উঠছে, বরাদ্দের অর্থের বিপরীতে সামগ্রী কেনা হয়ে থাকলে অর্থ বছর শেষ হওয়ার দুই মাস পেরিয়ে গেলেও তা বিতরণ করা হয়নি কেন? তাহলে সরকারি অর্থে কেনা এসব ক্রীড়া সামগ্রী কেনার স্বার্থকতা কোথায়?