এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন একাধিক প্রার্থী। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, গত মাসের ২২ জুলাই থেকে ২৯ জুলাই আবেদন গ্রহন যাচাই-বাচাই ও ব্যাবহারিক পরিক্ষা হয়েছে। শুক্রবার গভীর রাতে ফলাফল প্রকাশ করে কর্তৃপক্ষ।
নাম প্রকাশ করতে অনইচ্ছুক একাধিক প্রার্থী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড শুমারির তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে নিয়োগ পাওয়ার আশায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভা থেকে বিপুলসংখ্যক বেকার যুবক-যুবতী আবেদন করে।
পরে তাঁদের ভাইভা ও ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ কয়েক দফা পরিবর্তন করা হয়। একপর্যায়ে শুক্রবার ছুটির দিন ও গভীর রাতেও ইউএনওর ওয়েবসাইটে ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। প্রকাশিত ফলাফলের বিভিন্ন তালিকায় একই ব্যক্তির নাম নির্বাচিত, অপেক্ষমাণ ও রিজার্ভ হিসেবে দেখা গেছে।
কাবিলপুর ইউনিয়নের প্রার্থী আরফানুল হক বলেন, ভাইভা ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় আমি সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি। এরপরও আমাকে অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখা হয়েছে। নিশ্চয়ই অনিয়ম হয়েছে। তা না হলে আমার নাম নির্বাচিত তালিকায় থাকত।
রামনাথপুর ইউনিয়নের প্রার্থী হাবিব বলেন, পরীক্ষা দেওয়ার পর আমরা আশা করেছিলাম মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে ফলাফল হবে। কিন্তু ফল প্রকাশের পর নানা অসংগতি দেখা যাচ্ছে।
সবড় আলমপুর ইউনিয়নের প্রার্থী মাহমুদুল হাসান বলেন, আমরা স্বচ্ছভাবে নিয়োগের আশা করেছিলাম। ফলাফল নিয়ে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিষয়টি পুনরায় যাচাই করা প্রয়োজন।
রায়পুর ইউনিয়নের প্রার্থী রুহুল আমিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জামায়াত ও আওয়ামী লীগের লোকজনকে নেওয়া হয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। আমরা পরীক্ষার নামে এ ধরনের তালবাহানা চাই না।
মদনখালী ইউনিয়নের প্রার্থী মনিরা বলেন, আমরা পরীক্ষা দিয়েছি, কিন্তু ফলাফল নিয়ে যে অসংগতি দেখা যাচ্ছে, তা পরিষ্কার হওয়া দরকার। আমরা স্বচ্ছভাবে ফলাফল প্রকাশের দাবি জানাই।
পৌরসভার প্রার্থী মরিয়ম বলেন, আমরা অনেক আশা নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছি। ফলাফল নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, সেটির সুষ্ঠু ব্যাখ্যা ও পুনরায় যাচাই করা প্রয়োজন।
এদিকে নিয়োগে রাজনৈতিক পরিচয়কে প্রাধান্য দেওয়ার অভিযোগও করেছেন এক ছাত্রদল নেতা।
তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড শুমারির নিয়োগে মেধা ও যোগ্যতার পরিবর্তে রাজনৈতিক পরিচয়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের লোকজনকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে আমরা অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, অনিয়ম হয়নি তবে ওয়েবসাইডে ভুল হয়েছে তা সংশোধন করে দেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান জানান, ফ্যামিলির্কাড শুমারীর বিষয়ে আমি কারো কোন তকবির রিকুয়েস্ট শুনিনাই। শতভাগ সচ্ছতা হয়েছে।