স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, জোড়াতালি দিয়ে নদীর সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হচ্ছে। এই নদীর বালু ও মাটি দিয়ে ব্লকের কাজ করা হয়েছে। বৃষ্টির পানির কারণে তিন ভাগ নদীতে ধসে গেছে। এছাড়াও ডাইস মেশানো ইটের খোয়া বেডে বিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ওই কাজে কোথাও দেড় ইঞ্চি, কোথাও আড়াই ইঞ্চির ওপর ব্লক বসানোর কারণে ব্লক ভেঙে ও দেবে গেছে।
আশ্রয়ণ প্রকল্পে ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। আখিরা নদীর তীব্র ভাঙনে ইতোমধ্যে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ২টি ঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এখনো টিকে থাকা প্রায় শতাধিক ঘরও রয়েছে চরম ঝুঁকিতে। যেকোনো সময় এসব ঘরও নদীগর্ভে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় কাফী মন্ডল জানান, স্থানীয রাজনৈতিক নের্তৃবৃন্দর সাথে যোগসাজশ করে এই নদী থেকে বালু তুলেই মেরামতের কাজ করছে। এ কারনেই নদীর গভীরতা বাড়ার ফলে দু পাড়ে ধসে পড়ছে তীরবর্তী দুই পাড়। ধসে যাচ্ছে আশ্রায়ন প্রকল্পের ঘরগুলো।
স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম ও বাচ্চু মিয়া বলেন, “আমরা অভাবী মানুষ। দিনমজুরি করে জীবিকা চালাই। এ কারণেই সরকারের দেওয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে থাকতাম। আমাদের মাথা গোঁজার একমাত্র জায়গা ছিল এই ঘর। এখন নদী সব কেড়ে নিচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আকতার জাহান বিথী জানান, ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করলে আশেপাশের আবাদী জমি ও আশ্রায়ন প্রকল্পের
চতরা এলাকার কাওছার রহমান কাফী বলেন, এ পর্যন্ত নদীর বাম সাইটের প্রায় ২০০ মিটার ব্লক দুইবার ধসে পড়েছে এবং ঠিকাদারের লোকজন সঙ্গে সঙ্গেই তা মেরামত করছে। নদীর পানিতে ব্লক ডাম্পিং করা হয়নি। এ কারণে পানির তোড়ে ব্লক ঢলে পড়ছে। পাথর সিমেন্টের কাজ বাঁশ দিয়ে করা যায় না।
ভাঙন প্রতিরোধে বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হলে তাঁরা আশায় বুক বেঁধেছিলেন। কিন্তু কাজ শেষ না হতেই বাঁধের ব্লক ধসে পড়েছে। কাজ নিম্নমানের হয়েছে বলেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
নদী তীরবর্তী আশ্রয়ণ কেন্দ্রের বাসিন্দা রাসেদা বেগম বলেন, নদীর বাম তীর পুরোটা ধসে যাওয়ার ভয়ে আছি। কারণ, এই সাইটের অনেক ব্লক এমনিতেই দেবে ও ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। এখানে দু পরিবারের দুটি ঘরের অর্ধেক ভেঙে নদীতে গেছে, ঠিকাদারের লোকজন ঘর ঠেকাতে বাশের ঢোকা দিয়েছে। ঠিকাদারের লোকজন প্রায়ই এসে দেখে যায় আর বলে আপনাদের ঘরের কোন সমস্যা নেই, আগের চেয়ে মজবুত করে দেয়া হবে ঘর।
এ কাজটি রংপুরের হাসিবুর রহমান নামে এক ঠিকাদার পেলেও সেটি বাস্তবায়ন করছেন রংপুরের শুল্কা এন্টারপ্রাইজের সত্বাধিকারী ভরদ প্রসাদ জানান, স্থানীয় রাজনৈতিক নের্তৃবৃন্দর পরামর্শ করে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে সংস্কার কাজ করছি।
পাউবোর রংপুর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, আখিরা শাখা নদী রক্ষায় চতরা ইউনিয়নের ইকলিমপুর এলাকায় ৮০০ মিটার বাঁধ নির্মাণের জন্য কাজ পান হাসিবুল হাসান নামে এক ঠিকাদার। এ কাজে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এ কাজ শুরু এবং ওই বছরের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। অথচ স্থানীয়রা বলছেন, কাজ গত বছর শেষ হওয়ার কথা থাকলেও শুরু হয়েছে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে।
সংশ্লিষ্ট রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুল হককে মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি(০১৩১৮২৩৫৪৬৪)
২০২১ সালের ১৬ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলায় ‘রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার নদীতীর সংরক্ষণ, ছোট নদী, খাল-বিল পুনঃখনন ও জলাবদ্ধতা নিরসন’ শিরোনামে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে আখিরা শাখা নদীর তীর সংরক্ষণে বাঁধ নির্মাণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শুরু হয়।