1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
ঘোড়াঘাটে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার ঘাটতিতে রোগীদের চরম ভোগান্তি | দৈনিক সকালের বাণী
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১৮ অপরাহ্ন

ঘোড়াঘাটে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার ঘাটতিতে রোগীদের চরম ভোগান্তি

ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
  • আপলোডের সময় : রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৩১ জন দেখেছেন
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে একই সেবা নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (এক্স-রে) এর ভিন্ন তথ্য অপরদিকে ডিজিটাল প্রযুক্তির যুগে এসেও ৩২ বছর আগে কেনা মানধাতা আমলের এক্স-রে মেশিন দিয়ে কাজ চালানো নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়ছেন রোগী ও স্বজনরা। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করাতে না পেরে অনেক রোগীকে বাড়তি টাকা খরচ করে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে এক্স-রে করিয়ে আনতে হচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তির পাশাপাশি জরুরি রোগীদের চিকিৎসাতেও ব্যাঘাত ঘটছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা গেছে, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বিভিন্ন অঙ্গের এক্স-রে করাতে এসে সাধারণ রোগী থেকে শুরু করে জরুরি রোগীরাও বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। স্বাস্থ কমপ্লেক্সের পুরোনো এক্স-রে মেশিনে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা সম্ভব না হওয়ায় অনেককেই বাইরে থেকে পরীক্ষা করিয়ে রিপোর্ট নিয়ে পুনরায় চিকিৎসকের কাছে যেতে হচ্ছে।

এতে নিম্নআয়ের রোগী ও তাদের পরিবারের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ কমপ্লেক্সের বাইরে গিয়ে পরীক্ষা করাতে অতিরিক্ত সময় লাগায় জরুরি রোগীদের চিকিৎসা কার্যক্রমেও সময়ক্ষেপণ হচ্ছে বলে অভিযোগ রোগী ও স্বজনদের।

স্বাস্থ কমপ্লেক্সের এক্স-রে রুমের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (এক্স-রে) শমশের আলী জানান, দিনাজপুর জেলার অন্যান্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন থাকলেও ঘোড়াঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এখনো ১৯৯৪ সালে কেনা প্রায় ৩২ বছর আগের মেশিন দিয়েই সেবা দিতে হচ্ছে। তার দাবি, পুরোনো ওই মেশিনে বর্তমানে শুধু হাত ও পায়ের এক্স-রে করানো সম্ভব।

তবে স্বাস্থ কমপ্লেক্সের কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ভিন্ন। কর্তৃপক্ষ বলছেন, হাত-পায়ের পাশাপাশি বুকের এক্স-রেও করানো যায়। তবে যক্ষ্মার ক্ষেত্রে বাইরে থেকে পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।

একে তো ৩২ বছরের পুরোনো মেশিন তার উপর একই স্বাস্থ কমপ্লেক্সের একটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাসেবা নিয়ে কর্তৃপক্ষ ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (এক্স-রে) এর এমন ভিন্ন তথ্যে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। কোন ধরনের এক্স-রে স্বাস্থ কমপ্লেক্সে করা সম্ভব এবং কোনটি সম্ভব নয়—এ বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য না পাওয়ায় রোগীদের হয়রানি আরও বাড়ছে বলে অভিযোগ কয়েকজন রোগীর স্বজনের। একাধিক রোগী ও স্বজনরা বলছেন, একই প্রতিষ্ঠানের একটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাসেবা নিয়ে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের তথ্যে যদি ভিন্নতা থাকে, তাহলে রোগীরা সঠিক তথ্য পাবেন কীভাবে? এ ধরনের পরিস্থিতি স্বাস্থ কমপ্লেক্সের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার ঘাটতির ইঙ্গিত কি না, তা নিয়েও তাঁদের মনে প্রশ্ন উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে পুরোনো মেশিন দিয়ে সীমিত পরিসরে সেবা চললেও নতুন মেশিন স্থাপনের উদ্যোগের অগ্রগতি কী, তা নিয়েও রোগী ও স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।

তাঁদের দাবি, ৫০ শয্যার একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে পুরোনো মেশিন দিয়ে সীমিত এক্স-রে সেবা চালিয়ে না রেখে দ্রুত আধুনিক ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন স্থাপন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে স্বাস্থ কমপ্লেক্সের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে রোগীদের নির্ভুল তথ্য ও প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা জরুরি।

জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা আসমা বেগম (৪৫) বলেন, চিকিৎসক তাকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বুঁকের এক্স-রে করার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু এক্স-রে করাতে এসে তিনি জানতে পারেন এই পুরোনো মেশিনে বুঁকের এক্স-রে হয়না। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, চিকিৎসা নিতে এসে এমন অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীন আচরণ অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।

১৯৯৪ সালে কেনা মেশিনটির পরিবর্তে আধুনিক ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন স্থাপনের বিষয়ে স্বাস্থ কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নিয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. প্রিয়াঙ্ক কুন্ডু (রূপম) বলেন, উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে এপর্যন্ত পাঁচবার লিখিতভাবে অবহৃত করা হয়েছে। আমরা আশ্বাসের উপর আছি। কবে কি হবে জানা নাই।

এক্স-রে সেবা নিয়ে স্বাস্থ কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (এক্স-রে) এর দুই ধরনের তথ্যের বিষয়ে ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) প্রিয়াঙ্ক কুন্ডু (রূপম) এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষ প্রতিটি সেবার বিষয়ে স্বাস্থ কমপ্লেক্সের স্টাফদের সঠিক নির্দেশনাই দিয়ে থাকে। কিন্তু মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (এক্স-রে) ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা না মেনে মিথ্যা তথ্য দিয়ে রোগীদের হয়রানি করছেন। আমরা তাকে পর্যবেক্ষনে রেখেছি। প্রয়োজনে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )