রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা গেছে, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বিভিন্ন অঙ্গের এক্স-রে করাতে এসে সাধারণ রোগী থেকে শুরু করে জরুরি রোগীরাও বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। স্বাস্থ কমপ্লেক্সের পুরোনো এক্স-রে মেশিনে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা সম্ভব না হওয়ায় অনেককেই বাইরে থেকে পরীক্ষা করিয়ে রিপোর্ট নিয়ে পুনরায় চিকিৎসকের কাছে যেতে হচ্ছে।
এতে নিম্নআয়ের রোগী ও তাদের পরিবারের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ কমপ্লেক্সের বাইরে গিয়ে পরীক্ষা করাতে অতিরিক্ত সময় লাগায় জরুরি রোগীদের চিকিৎসা কার্যক্রমেও সময়ক্ষেপণ হচ্ছে বলে অভিযোগ রোগী ও স্বজনদের।
স্বাস্থ কমপ্লেক্সের এক্স-রে রুমের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (এক্স-রে) শমশের আলী জানান, দিনাজপুর জেলার অন্যান্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন থাকলেও ঘোড়াঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এখনো ১৯৯৪ সালে কেনা প্রায় ৩২ বছর আগের মেশিন দিয়েই সেবা দিতে হচ্ছে। তার দাবি, পুরোনো ওই মেশিনে বর্তমানে শুধু হাত ও পায়ের এক্স-রে করানো সম্ভব।
তবে স্বাস্থ কমপ্লেক্সের কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ভিন্ন। কর্তৃপক্ষ বলছেন, হাত-পায়ের পাশাপাশি বুকের এক্স-রেও করানো যায়। তবে যক্ষ্মার ক্ষেত্রে বাইরে থেকে পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।
একে তো ৩২ বছরের পুরোনো মেশিন তার উপর একই স্বাস্থ কমপ্লেক্সের একটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাসেবা নিয়ে কর্তৃপক্ষ ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (এক্স-রে) এর এমন ভিন্ন তথ্যে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। কোন ধরনের এক্স-রে স্বাস্থ কমপ্লেক্সে করা সম্ভব এবং কোনটি সম্ভব নয়—এ বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য না পাওয়ায় রোগীদের হয়রানি আরও বাড়ছে বলে অভিযোগ কয়েকজন রোগীর স্বজনের। একাধিক রোগী ও স্বজনরা বলছেন, একই প্রতিষ্ঠানের একটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাসেবা নিয়ে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের তথ্যে যদি ভিন্নতা থাকে, তাহলে রোগীরা সঠিক তথ্য পাবেন কীভাবে? এ ধরনের পরিস্থিতি স্বাস্থ কমপ্লেক্সের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার ঘাটতির ইঙ্গিত কি না, তা নিয়েও তাঁদের মনে প্রশ্ন উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে পুরোনো মেশিন দিয়ে সীমিত পরিসরে সেবা চললেও নতুন মেশিন স্থাপনের উদ্যোগের অগ্রগতি কী, তা নিয়েও রোগী ও স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।
তাঁদের দাবি, ৫০ শয্যার একটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে পুরোনো মেশিন দিয়ে সীমিত এক্স-রে সেবা চালিয়ে না রেখে দ্রুত আধুনিক ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন স্থাপন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে স্বাস্থ কমপ্লেক্সের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে রোগীদের নির্ভুল তথ্য ও প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা জরুরি।
জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা আসমা বেগম (৪৫) বলেন, চিকিৎসক তাকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বুঁকের এক্স-রে করার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু এক্স-রে করাতে এসে তিনি জানতে পারেন এই পুরোনো মেশিনে বুঁকের এক্স-রে হয়না। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, চিকিৎসা নিতে এসে এমন অব্যবস্থাপনা ও দায়িত্বহীন আচরণ অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।
১৯৯৪ সালে কেনা মেশিনটির পরিবর্তে আধুনিক ডিজিটাল এক্স-রে মেশিন স্থাপনের বিষয়ে স্বাস্থ কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নিয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. প্রিয়াঙ্ক কুন্ডু (রূপম) বলেন, উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে এপর্যন্ত পাঁচবার লিখিতভাবে অবহৃত করা হয়েছে। আমরা আশ্বাসের উপর আছি। কবে কি হবে জানা নাই।
এক্স-রে সেবা নিয়ে স্বাস্থ কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (এক্স-রে) এর দুই ধরনের তথ্যের বিষয়ে ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) প্রিয়াঙ্ক কুন্ডু (রূপম) এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষ প্রতিটি সেবার বিষয়ে স্বাস্থ কমপ্লেক্সের স্টাফদের সঠিক নির্দেশনাই দিয়ে থাকে। কিন্তু মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (এক্স-রে) ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা না মেনে মিথ্যা তথ্য দিয়ে রোগীদের হয়রানি করছেন। আমরা তাকে পর্যবেক্ষনে রেখেছি। প্রয়োজনে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।