1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
পানির চাপে ভাঙলো স্লুইসগেট, ঝুঁকিতে কৃষিজমি ও শতাধিক পরিবার | দৈনিক সকালের বাণী
রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৪৩ অপরাহ্ন

পানির চাপে ভাঙলো স্লুইসগেট, ঝুঁকিতে কৃষিজমি ও শতাধিক পরিবার

ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধি
  • আপলোডের সময় : রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬
  • ৮ জন দেখেছেন
নীলফামারীর ডোমার উপজেলার হরিডারা নদীর ওপর নির্মিত একটি স্লুইসগেট পানির চাপে ধসে পড়েছে। এতে একটি বসতবাড়ির অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। পাশাপাশি পানি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় শত শত বিঘা কৃষিজমি অনাবাদি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ পরিবারের মানুষ।

রবিবার দুপুরে উপজেলার জোড়াবাড়ী ইউনিয়নের পূর্ব হলহলিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় স্লুইসগেট সংলগ্ন মৃত আবু সাঈদের স্ত্রী হালিমা বেগমের বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

স্থানীয়রা জানান, স্লুইসগেটটি দিয়ে নদীর পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা হতো। রবিবার সকাল থেকে গেটটি ধীরে ধীরে নিচের দিকে বসে যেতে থাকে। একপর্যায়ে পানি চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে পানির চাপ বেড়ে যায়। পরে সেতুর পাশে ইঁদুরের গর্ত দিয়ে পানি প্রবেশ শুরু হলে সেখানে ভাঙনের সৃষ্টি হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করে এবং পাশের একটি বসতবাড়ির অর্ধেক অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মালেক বলেন, সকাল থেকেই ব্রিজটি নিচের দিকে বসে যেতে শুরু করে। এরপর নদীর বাঁধের পাশ দিয়ে ইঁদুরের গর্ত দিয়ে পানি যাওয়া শুরু করে। একপর্যায়ে পাশের বাড়িটির অর্ধেক অংশ নদীতে চলে যায়।

আরেক বাসিন্দা মোছা. রহিমা বেগম বলেন, এই স্লুইসগেট দিয়েই এলাকার পানি নিয়ন্ত্রণ করা হতো। এখন এটি ভেঙে যাওয়ায় বর্ষা ও শুষ্ক-দুই মৌসুমেই কৃষকরা বড় ক্ষতির মুখে পড়বেন। দ্রুত নতুন স্লুইসগেট নির্মাণ করা প্রয়োজন।

স্থানীয় কৃষক মো. আহিনুর ইসলাম বলেন, এই স্লুইসগেটের সামনে শত শত বিঘা জমিতে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের চাষ হয়। স্লুইসগেট না থাকলে পানি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে না। এতে জমি অনাবাদি হয়ে যাবে এবং কৃষকরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন।

জোড়াবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হাবীব বাবু বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। দ্রুত জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্থায়ী সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

ভেঙে যাওয়া বাড়ির মালিক হালিমা বেগম বলেন, এখানে গেটের সঙ্গে পাটের ঝাঁক দেওয়া ছিল। এর ফলে পানি আটকে যায়। আমি গেট খোলার জন্য চিৎকার করছিলাম, গেটটা খুলে দেন। কেউ শুনল না। ১০ মিনিটের মধ্যে আমার বাড়ি ভেঙে চলে গেল। আমি অন্যের বাসায় কাজ করে খাই। কিভাবে বাড়ি ঠিক করব।

ডোমার উপজেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ফিরোজ আলম বলেন, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ইঁদুরের গর্ত দিয়ে পানি প্রবেশের কারণে ভাঙনের সূচনা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। যত দ্রুত সম্ভব নতুন সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হবে।”

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )