1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
সোনাহাট সেতু ৬ বছরে ৪ বার সময়ের আবেদন তবুও শেষ হয়নি ভোগান্তিতে লক্ষাধিক মানুষ | দৈনিক সকালের বাণী
বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৩০ পূর্বাহ্ন

সোনাহাট সেতু ৬ বছরে ৪ বার সময়ের আবেদন তবুও শেষ হয়নি ভোগান্তিতে লক্ষাধিক মানুষ

ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
  • আপলোডের সময় : শনিবার, ১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫
  • ২০৯ জন দেখেছেন

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার দুধকুমার নদের উপর ২য় সোনাহাট সড়ক সেতুটির নির্মাণকাজ দুই বছরের মধ‍্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো শেষ হয়নি। নির্মাণকাজের  ৪ দফা সময়ের আবেদন করে সময় বাড়ানো হলেও এখনো শেষ করতে পারেনি। সময় ও প্রকল্প ব্যয় বাড়লেও সেতুর নির্মাণকাজ হয়েছে মাত্র অর্ধেক। নতুন সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় পুরাতন ও জরাজীর্ণ রেলসেতু দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন। এতে দেশের ১৮তম সোনাহাট স্থলবন্দর হতে পণ্য আমদানি-রপ্তানি এবং ভূরুঙ্গামারী ও নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা থানাসহ এই দুই উপজেলার  কয়েক লাখ মানুষকে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

অপরদিকে কুড়িগ্রাম সড়ক ও জনপথ বিভাগের দাবী  (সওজ) জমি অধিগ্রহণে জটিলতা, নকশা পরিবর্তন ও করোনাকালীন স্থবিরতাসহ ঠিকাদারের কাজে ধীরগতির কারণে সেতু নির্মাণ শেষ করতে চারবার সময় বাড়ানো হয়েছে। প্রকল্প ব্যয় বাড়ানো হয়েছে ৬ কোটি টাকারও বেশি। গত ৬ বছরে কাজ সম্পন্ন হয়েছে মাত্র ৫০ শতাংশ। বাকি কাজ শেষ করে আগামী ২০২৬ সাল নাগাদ সেতুটি জনসাধারণের জন‍্য খুলে দেওয়া হতে পারে।

জানা গেছে, সীমান্তবর্তী ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বঙ্গসোনাহাট, বলদিয়া, চর ভূরুঙ্গামারী, আন্ধারীঝাড় ও তিলাই, নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা, কেদার, বল্লভেরখাস এবং নারায়ণপুর ইউনিয়নের সঙ্গে জেলা শহরসহ দেশের অন্যান্য স্থানের যোগাযোগ রক্ষার জন্য দুধকুমার নদের ওপর নির্মিত সোনাহাট বেইলি সেতু‌টি একমাত্র পথ। ১৮৭৯ সালে তৎকালীন নর্দার্ন বেঙ্গল রেলওয়ে বেঙ্গল ও আসামের সঙ্গে যোগাযোগ সুবিধা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে পাইকেরছড়া ও সোনাহাট ইউনিয়নে প্রান্তে দুধকুমার নদের ওপর সোনাহাট রেলসেতু নামে একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। ব্রিটিশ শাসনামল শেষে ১৯৪৭ সালে পাক-ভারত বিভক্তির পর সেতুটি অকেজো হয়ে পড়ে। ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাক-হানাদার বাহিনী যাতে নদী পার হতে না পারে, সেজন্য সেতুর দুটি স্লিপার ভারতীয় সেনারা ডিনামাইট দিয়ে উড়িয়ে দেয়।

এরপর স্টিলের স্লিপার দিয়ে মেরামত ক‌রে বেইলি সেতু হিসেবে  চালু করা হয়। বর্তমানে এই সেতু দিয়ে  ‌সোনাহাট স্থলবন্দর থেকে পণ্যবাহী যানসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচল করছে। লাখো মানুষ ও বন্দর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের কাছে তাই সেতুটি গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু শতবর্ষ পুরোনো সেতুটি বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। যানবাহন উঠলেই সেতুটির অবকাঠামো কাঁপতে থাকে।

স্থলবন্দর ও দুধকুমার পূর্বপাড়ের মানুষের নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে ২০১৯ সালে পুরাতন বেইলি সেতুটির একটু দক্ষিণদিকে দুধকুমার নদের ওপর ৬৪৫ দশমিক শূন্য ১৫ মিটার দীর্ঘ নতুন সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করে সওজ। এর নির্মাণ ব‍্যায় ধরা হয়েছিল ১৩৬ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। তবে এর সময় বাড়ানো হয়েছে ৪ বার। এতে নির্মাণ ব‍্যায় বড়েছে ৬ কোটী টাকারও বেশী।

এমএম বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড এবং ন্যাশনাল ডেভলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড যৌথভাবে এই সেতুটিরসনির্মাণকাজ করছে। চুক্তিতে শুরু হওয়া সেতু ও সংযোগ সড়ক নির্মাণকাজ ২০২১ সালে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দফায় দফায় সময় বাড়ানো হলেও তা শেষ করতে পারেনি ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এ অবস্থায় পুরোনো ও জরাজীর্ণ বেইলি সেতু দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলাচল করছে। ঝুঁকি এড়াতে সেতুর ওপর একসঙ্গে উভয়মুখী যান চলাচল বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ। একমুখী ও ধীরগতির যাতায়াতের কারণে প্রতিদিন বিড়ম্বনায় পড়ছেন মানুষ ও যানবাহন।

সেতু পারের শফিকুল, শাহজাহান, মাসুদ, জুলহাস ও ফরিদুল বলেন, ‘ভূরুঙ্গামারী কিংবা জেলা শহরে যাতায়াতের একমাত্র পথ এই নড়বড়ে সেতু। সেতুতে উঠলেই কাঁপতে থাকে। একমুখে গাড়ি দাঁড় করায় আরেক দিকের গাড়ি পার করতে হয়। কারও জরুরি কাজ থাকলেও কিছু করার থাকে না। এই ভোগান্তির শেষ কবে হবে জানা নাই। প্রতি বছর শুনি নতুন সেতু চালু হবে। কিন্তু হয় না। কী কাজ হয়, আমরা বুঝি না। এখন পর্যন্ত সেতুর অর্ধেক কাজও শেষ হয়নি।

সোনাহাট স্থলবন্দরের ব‍্যবসায়ী আব্দুল খালেক, মিজানুর রহমান, নুর হোসেন ও জহুরুল ইসলাম বলেন, নতুন সেতুর অভাবে স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি ব্যাহত হওয়ায় সরকারের কাঙ্খিত রাজস্ব আদায় পূরণ হচ্ছে না। পুরনো রেল সেতু দিয়ে পর্যাপ্ত মালামাল পরিবহন করতে না পেরে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে আমরা। গাড়ি লোড করে সময়মতো পার হওয়া যায় না। জানমালের ঝুঁকি নিয়া সেতুর উপর দিয়ে যানবাহনগুলো চলতে হয়। তাই আমরা দ্রুত নতুন সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ করার দাবি জানাই।

কুড়িগ্রামের সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘পুরাতন সেতুটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। নতুন সেতুটির কাজ প্রায় ৫৬ শতাংশ শেষ হয়েছে। পাইলিং শেষ করে কিছু গার্ডার নির্মাণ শেষ হয়েছে। এভাবে কাজ চলতে থাকলে ২০২৬ সালের জুন মাসের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারবো বলে আশা করছি ইনশাআল্লাহ ।’

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )