1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
ঘোড়াঘাটে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পথচারী | দৈনিক সকালের বাণী
সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৩ পূর্বাহ্ন

ঘোড়াঘাটে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পথচারী

ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
  • আপলোডের সময় : সোমবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৫
  • ১৭৪ জন দেখেছেন

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে রানীগঞ্জ বাজার থেকে বিন্যাগাড়ী কদমতলী ঘাট যাওয়ার সড়কটির ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকা ও সংস্কার না করায় গুরুত্বপূর্ণ দুইটি স্থানে অল্প বৃষ্টিতেই হাঁটু পানি জমে গিয়ে পথচারীদের চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। ফলে প্রতিনিয়তই ঘটে কোনো না কোনো দূর্ঘটনা।সোমবার (২১ এপ্রিল) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রানীগঞ্জ বাজারের বিন্যাগাড়ী ভ্যান স্ট্যান্ড থেকে কয়েক’শ ফুট উত্তরে রানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কবর স্থানের সামনে ও সেখান থেকে কয়েক’শ ফুট উত্তরে জিল্লুর মার্কেটের সামনে খানাখন্দে ভরপুর সড়কটি। সড়কের পিচ ও ইটের খোয়া উঠে গিয়ে ছোট বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কাদাযুক্ত বৃষ্টির পানি মাড়িয়ে লোকজন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চলাচল করছেন। পানির মধ্য দিয়ে যানবাহন চলাচলের সময় পানি ছিটে লোকজনের শরীরে যাচ্ছে। সড়কের দুই পাশে স্থাপনা থাকায় পানিনিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে বৃষ্টি হলেই পানি জমে থাকে সড়কে। এ পানি শুকাতে বেশ কয়েক দিন সময় লাগে। এছাড়াও উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল বিদ্যাপীঠে এই সড়ক দিয়েই যেতে হয়। প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয় ‘শ ছাত্র-ছাত্রীর যাতায়াত এই সড়ক দিয়েই। স্কুলে যাতায়াতের সময় সড়কের কাদা পানি শরীরে ছিটকিয়ে আসা নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার। সবসময় অভিভাবকেরা থাকছেন দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। মোটর সাইকেল, অটো ভ্যান, অটো রিক্সা, বাইসাইকেল সহ বিভিন্ন যানবাহন প্রায়শই ছোট বড় দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।

স্থানীয় আরিফুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, উপজেলার বৃহত্তম সাপ্তাহিক সোমবার ও বৃহস্পতিবার বাজার বসে রণীগঞ্জে। এখানে পশু, পাখি, ধান, পাট, কাপড়-চোপড়, সাইকেল সহ সবধরনের জিনিস এই বাজারে বেচা কেনা হয়।

ফলে দুরদুরান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে এই বাজারে। এই বাজার থেকে সরকার প্রতিবছর কোটি কোটি টাকার রাজস্ব পায়। অথচ সামান্য ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টি হলেই পাকা সড়কে পানি জমে থাকছে। উপজেলার অনেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, চেয়ারম্যান, মেম্বার এই সড়ক দিয়ে প্রায়ই যাতায়াত করে। কিন্তু তারা কোনো ব্যবস্থাই নিচ্ছেন না।

উপজেলার আবদুল্লাহপুর গ্রামের মোখলেসুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমি প্রতিদিন আমার ছেলেকে স্কুলে দিয়ে ও নিয়ে আসি। বৃষ্টির সময়তো একদমই চলাচলের অনুপযুগী থাকে। এমনকি বর্ষা মৌসুম ছাড়াও শুষ্ক মৌসুমেও ঝুঁকিপূর্ণ থাকে।

রানীগঞ্জ বাজারে আসা সোনারপাড়া গ্রামের শফিকুল ইসলাম বলেন, সোনারপাড়া, জয়রামপুর, মধ্যপাড়া সহ প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে ১০ থেকে ১৫ টি গ্রামের মানুষের বিভিন্ন কাজে আসা যাওয়া। সাপ্তাহিক সোমবার ও বৃহস্পতিবার বাজারের দিন হওয়ায় বেড়ে দাঁড়ায় ২৫ থেকে ৩০ টি গ্রামে। বর্ষা মৌসুমে এই দুই স্থানে এতো বেশি ভোগান্তি হয় যা বলা বাহুল্য। বর্ষা মৌসুম ছাড়াও খানাখন্দের কারণে বিভিন্ন সময় বাই সাইকেল, মোটর সাইকেল সহ অটোভ্যান গুলো উল্টিয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, যে রানীগঞ্জ বাজার থেকে সরকার প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা রাজস্ব পায়, সেই বাজারে আসা যাওয়ার রাস্তার এমন বেহাল দশা মেনে নেওয়া যায়না। শুধুমাত্র ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকার কারণে আজ এই চরম দুর্ভোগ। তিনি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে এর দ্রুত সমাধানের আবেদন করেন।

বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট ৩নং ইউপি চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, কাজটি যেহেতু উপজেলা এলজিইডি অফিসের আওতাভুক্ত, সেহেতু এলজিইডি অফিসই সংস্কার না হওয়ার সঠিক কারণ বলতে পারবে। তবে সড়কটি সংস্কারের জন্যে উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার অফিসে কয়েকবার আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু তা এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মিজানুর রহমান সরদারের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, পূর্বের আবেদনের বিষয়ে আমার কিছু জানা নাই। তবে আশ্বস্ত করছি, সরেজমিনে তদন্ত করে কি ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করলে সমস্যার সমাধান হবে তাই করবো। তিনি আরও বলেন, যতো দ্রুত সম্ভব এর সংস্কার কাজ শুরু হবে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )