বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) বিকেলে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত “রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা ও জনসম্পৃক্তির প্রশিক্ষণকর্মশালা ২০২৫”-এ ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, “আজকের কর্মসূচিতে আমরা তিনটি জেলায়—ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও দিনাজপুরে—কর্মশালার আয়োজন করেছি। এই নামগুলো দেখেই আমার চোখে অনেক স্মৃতি ভেসে উঠেছে। প্রতি শীতেই আমি এসব জেলায় গিয়েছি, গরিব-অসহায় মানুষের জন্য গরম কাপড় নিয়ে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের মাঝে এসব কাপড় বিতরণ করেছি। সেই সময়ের অনেক ঘটনা আজও চোখের সামনে ভাসে।”
তিনি বলেন, “আজকের কর্মশালায় আপনারা সারা দিন কাজ করেছেন, আলোচনা করেছেন। কারণ আপনারা বিশ্বাস করেন, এই দেশে কিছু করার থাকলে সেটা বিএনপি-ই করতে পারবে। এই বিশ্বাস অর্জন করতে আমাদের অনেক সময় লেগেছে। বহু নেতাকর্মী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, কেউ শহীদ হয়েছেন, কেউ পঙ্গু কিংবা অন্ধ হয়েছেন। এই ত্যাগ-তিতিক্ষার মধ্য দিয়েই আমরা মানুষের আস্থা অর্জন করেছি।”
তারেক রহমান বলেন, “আজ যখন বিএনপি মিছিল করে, হাজারো মানুষ অংশ নেয়। কারণ তারা জানে, এই দলটি ভালো কিছু করবে। খাল খনন, কৃষকের পানির সমস্যা সমাধান, খাদ্যশস্য দ্বিগুণ উৎপাদন—এসব বিএনপির অবদান। নারীদের জন্য ফ্রি শিক্ষা ও নারীদের শিক্ষার প্রসারও বিএনপির হাত ধরে এসেছে। বাংলাদেশের গৌরব—গার্মেন্টস এবং রেমিটেন্স সেক্টর—এই দুটি ক্ষেত্রও বিএনপির সময় গড়ে ওঠে।”
তিনি বলেন, “আমরা ঢাকায় বসে ৩১ দফা ঘোষণা করে থেমে থাকিনি। আমরা জেলায় জেলায়, বিভাগে বিভাগে গিয়ে মানুষের কাছে এসব দফা উপস্থাপন করছি। সংস্কারের কথা অনেকেই বলেন, তবে আমাদের সংস্কারের ঐতিহাসিক ভিত্তি আছে। শহীদ জিয়াউর রহমানের সময় থেকেই আমরা সংস্কার করে আসছি—বাকশাল থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র, প্রেসিডেন্সিয়াল থেকে সংসদীয় পদ্ধতিতে পরিবর্তন, শিক্ষা, প্রশাসন, স্বাস্থ্য, খাদ্য ও কৃষি উৎপাদনে ধারাবাহিক সংস্কার।”
তিনি বলেন, “আমাদের সীমাবদ্ধতা আছে, ভুলভ্রান্তিও আছে, তবে বাজে প্রতিশ্রুতি আমরা দিইনি। আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, সেটা বাস্তবায়নের জন্যই বদ্ধপরিকর।”
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রশিক্ষণ কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মোঃ ইসমাইল জবিউল্লাহ, ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সাল আমিনসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীরা।