


কুড়িগ্রামের রৌমারীতে জমাজমি নিয়ে সংঘর্ষে একই পরিবারের তিন জনকে হত্যা মামলা আসামিদের গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ ও মানবন্ধন করেছে নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী। শনিবার সকাল ১১টার দিকে রৌমারী স্থলবন্দর এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে উপজেলার শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে থানা গেইটের সামনে অবস্থান নেন তারা। পরে ওসির আশ্বাসে ফিরে যান বিক্ষোভকারীরা। দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করে ফঁাসি চান বিক্ষোভকারীরা।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, ফজলে রহিমের ছেলে নুর মোহাম্মদ (২২), বক্তার আলীর স্ত্রী কিনেজা বেগম (৫০) ও গোলাম রব্বনীর স্ত্রী মোছা. সাবেনী (৪৫), ছেলে রাজু (৩৫), আপেল (৪৫)। নিহতরা হলেন, ভুলু মিয়া (৬০), ফুলবাবু (৪৫) ও তাদের ভাতিজা নূরুল আমিন (৪২)। আহতরা হলেন, মজিদ মিয়া, মজনু মিয়া, আরিফ হোসেন, ফুলো রানী, আপেল মিয়া ও বুলু মিয়া। তারা উপজেলার সদর ইউনিয়নের ভন্দুরচর সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা।
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে আপেল গংয়ের সঙ্গে একই এলাকার শাহ জামালদের বিরোধ চলে আসছে। এরই জের ধরে গত বৃহস্পতিবার সকালে শাহ জামাল গংয়ের জমিতে পানি দিতে গেলে বাধা দেয় আপেল গং। এ সময় তর্কবিতর্কের এক পর্যায়ে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে শাহ জামাল গংয়ের ওপর হামলা করেন তারা। এতে শাহ জামালের পক্ষের তিনজন নিহত হন। আহত হন উভয়পক্ষের ছয়জন। তাদের মধ্যে চারজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। আর দু’জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়। গত বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়েনের ভন্দুরচর সীমান্ত এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় শুক্রবার ৩৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৮-১০জনের নামে মামলা করেছেন নিহতদের স্বজন শাহ জামাল। এই মামলায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা করেছে পুলিশ।
রৌমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান বলেন, ভারতীয় সীমান্ত সংলগ্ন ভন্দুরচর এলাকায় মারামারির ঘটনায় তিন জন নিহত হন। এ ঘটনায় ৩৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৮-১০ বিরুদ্ধে অত্র থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। এই মামলায় এপর্যন্ত পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে এজাহারভুক্ত চার জন ও তদন্তপ্রাপ্ত এক জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পাঁচ জনের মধ্যে চার জনকে ইতোমধ্যে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। আর এক জনকে পুলিশ পাহারায় ময়মনসিংহ মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছে ও অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।