


যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, তৃণমূল পর্যায়ে ক্রীড়ার উন্নয়নে মিনি বিসিবি তৈরি করা হচ্ছে। রংপুর বিভাগ হলেও এখানে বিভাগীয় স্টেডিয়াম নেই। অচিরেই এখানে বিভাগীয় স্টেডিয়াম তৈরি করা হবে। ভবিষ্যতে ক্রীড়াকে এগিয়ে নিতে বেশি বেশি খেলাধুলার আয়োজন করা হবে। বুধবার সন্ধ্যায় রংপুর স্টেডিয়ামে জুলাই ৩৬ গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের মেগা ফাইনাল খেলার বিজয়ী ও বিজিত দলের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি তুলে দেন।
এরআগে দেয়া বক্তব্যে ক্রীড়া উপদেষ্টা বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ে মানুষের খেলার প্রতি আগ্রহ রয়েছে, আর সেই আগ্রহকে শক্তি হিসাবে ব্যবহার করে আমরা সব ধরনের খেলাকে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে চাই। উপজেলাভিত্তিক টুর্নামেন্টের আয়োজনের মাধ্যমে নতুন খেলোয়োড়দের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এমন টুর্নামেন্ট প্রতিটি জেলায় হলে স্থানীয় সংস্কৃতি ও খেলাধুলার প্রসার ঘটবে এবং প্রান্তিক পর্যায় থেকেই জাতীয় দলে প্রতিনিধিত্ব করার মতো প্রতিভাবান খেলোয়াড় উঠে আসবে। স্থানীয় খেলোয়াড়দের উৎসাহিত করতে এধরনের প্রতিযোগিতা আয়োজনের জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।
বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে শেষ হয় ‘৩৬ জুলাই গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’। রোদ্রময় বিকেলে রংপুর স্টেডিয়ামে ফাইনাল খেলায় রংপুর সদর উপজেলা দলের মুখোমুখি হয় গঙ্গাচড়া উপজেলা দল। ফাইনাল খেলা দেখতে মহানগরের পাশাপাশি গঙ্গাচড়া ও রংপুর সদর উপজেলাসহ জেলার আট উপজেলা থেকে ট্রাক, বাস, অটোরিক্সা, ভ্যান, মোটরসাইকেল, সাইকেলে হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত হন। রংপুর স্টেডিয়ামের ইতিহাসে এত পরিমাণ দর্শক গত দ্ইু দশকেও কখনো হয়নি। দর্শকদের উপস্থিতিতে গ্যালারিতে যেন তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। ধারণা করা হচ্ছে, অন্তত ২৫ হাজার দর্শক মাঠে উপস্থিত ছিলেন।
মাঠে খেলোয়াড়দের ক্রীড়া নৈপুন্যের সাথে সাথে দর্শকরা হাততালি, বাঁশি বাজিয়ে উৎসাহ প্রদান করেন। অনেক দর্শক ‘রংপুর বিভাগীয় স্টেডিয়াম চাই’, ‘বছরব্যাপী টুর্নামেন্ট চাই’ নানা লেখা সম্বলিত ফেস্টুন হাতে নিয়ে এসেছিলেন।
ফাইনাল খেলায় গঙ্গাচড়া দলের পক্ষ হয়ে খেলোয়াড় ইউনুস প্রথম গোল করে দলকে এগিয়ে নেয়। ম্যাচের ২০ মিনিটে সদর উপজেলার খেলোয়াড় জুয়েল গোল করে খেলায় সমতা ফেরান। এরপর ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে ৬০ মিনিটে গঙ্গাচড়া দলের হয়ে ইয়াসিন গোল করে দলকে জয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যান। খেলায় ম্যান অব দ্যা ম্যাচের পুরস্কার জিতেন গঙ্গাচড়া দলের খেলোয়াড় মানিক এবং টুর্নামেন্টে সেরা হন সদর উপজেলার মেহেদী। খেলা শেষে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে শহীদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন, রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রমিজ আলম, জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মাসুদ রানা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, বিকেলে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন নগরীর পার্কের মোড়ে শহীদ আবু সাঈদ স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন স্থানীয় সরকার, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভুঁইয়া।
এসময় ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনে সরকার সকল ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করছে বলেন উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জুলাই সনদের বিষয়ে রাজনৈতিক দল ঐক্যমত কমিশনের বৈঠকে ঐক্যমত হলে অন্তর্বতীকালীন সরকার আরও দৃঢ়ভাবে নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যেতে পারবে।
এসময় সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মজিদ আলী, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. মো, হারুন-অর রশিদ উপস্থিত ছিলেন।
উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেন, পাঁচ আগস্টের পর ইউনিয়ন পরিষদে যে সকল কট্টর আওয়ামীপন্থী চেয়ারম্যান ছিলেন তারা পালিয়ে গেছেন। এর ফলে জনগণকে দৈনন্দিন সেবা দিতে পারছে না স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলো। জন্ম নিবন্ধন, এনআইডি কার্ড থেকে শুরু করে সকল ধরনের দৈনন্দিন সেবার জন্য মানুষ স্থানীয় সরকারের উপর নির্ভরশীল। যার কারণে আমরা চেয়েছিলাম স্থানীয় সরকার নির্বাচন আগে দিতে, কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলো এ বিষয়ে একমত না হওয়ায় সেটা করা সম্ভব হয়নি। এ সমস্যা নিরসনের জন্য যত দ্রুত সম্ভব স্থানীয় সরকার কাঠামো পূর্নগঠন করা।
তিনি বলেন, বিগত সময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও ভোট চুরি হয়েছে, কেন্দ্র দখল করা হয়েছে, সে কারণে উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভাগুলোকে ভেঙ্গে দিতে হয়েছে। কিন্তু সেই জায়গাগুলো ফাঁকা হয়ে গিয়েছে। সে জায়গাগুলো পূরণে সরকারি অফিসাররা এক এক জন দুইটা তিনটা অতিরিক্ত দায়িত্ব পর্যন্ত পালন করছে। সে ক্ষেত্রে তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তবে ইউনিয়ন পরিষদ যদি আমরা ভেঙ্গে দেই তাহলে সেটা পরিচালনা করার জন্য আমাদের পর্যাপ্ত পরিমাণ অফিসার নেই এবং এটা একটা বড় জাতীয় সংকট তৈরি হবে। সে জায়গা থেকে আসলে ইউনিয়ন পরিষদ ভেঙ্গে দেয়া হয়নি।
তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যেই স্থানীয় সরকার থেকে আমরা আঞ্চলিক বৈষম্য নিরসনের জন্য প্রয়োজনীয় ২৯টি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা সংশোধন করেছি। আঞ্চলিক বৈষম্য তো একদিনে বা এক রাতে নিরসন করে ফেলা সম্ভব নয় বা সমাধান হয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। অবশ্যই সদিচ্ছা থাকলে আস্তে আস্তে যত সময় যাবে এগুলো সমাধান হয়ে আসবে।
উপদেষ্টা আরও বলেন, শহীদ আবু সাঈদ শুধু একজন ব্যক্তি নন, তিনি ছিলেন একটি আদর্শের নাম। তাঁর আত্মত্যাগ আমাদের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। নতুন প্রজন্মের কাছে এই ইতিহাস পৌঁছে দেওয়া আমাদের দায়িত্ব।
এসময় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ইনডোর ও আউটডোর স্টেডিয়াম নির্মাণ এবং পরিবহন সমস্যা নিরসনে বাসের দাবি তুলে ধরে উপদেষ্টাকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে আহ্বান জানান সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
এর আগে, দুপুরে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভুঁইয়া গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর ইউনিয়ন ও কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার রমনা ইউনিয়নের সংযোগকারী তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত ১৪৯০ মিটার দীর্ঘ ‘মওলানা ভাসানী সেতু’ উদ্বোধন করেন।