পরে মরদেহের সুরতহাল করে পুলিশ। এঘটনায় সিআইডি ও পিবিআইয়ের সদস্যরা বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছেন। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সোয়েলের পরনে ছিল সাদা স্যান্ডো গেঞ্জি ও লুঙ্গী।
এঘটনায় সোয়েলের বড় ভাই সুলতান আলী (৩৬) ও স্থানীয় সাইদার রহমান (৪৩) কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। তবে সোয়েলের গলায় কাপড় বেঁধে শ্বাসরোধে হত্যার চিহ্ন দেখা গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে শ্বাসরোধে হত্যার পরে সোয়েলকে পুকুরের পানিতে ফেলে হয়েছে।
তবে এঘটনায় দুপুর ২টা পর্যন্ত নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোন মামলা দায়ের করা হয়নি বলে জানা গেছে।
নিহত সোয়েল ইসলাম ওই এলাকার সাবিরুল ইসলামের ছেলে। তিনি পেশায় একজন দিনমজুর।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে বাড়ির পাশের বেগুন ক্ষেত এলাকায় মোবাইলে ছোট ভাই সোয়েলকে ডেকে নেন বড় ভাই সুলতান আলী। ঘর থেকে বের হয়ে যাবার পরে রাতে আর বাড়ি ফেরেনি সোহেল। পরে বৃহস্পতিবার সকালে সোয়েলের বাড়ির পাশের বাঁশঝাড় সংলগ্ন পুকুরের পাশ দিয়ে ধান ক্ষেতে কাজে যাচ্ছিলেন কয়েকজন শ্রমিক। পরে পুকুরে ভাসমান কিছু দেখতে পান তারা। কাছে গিয়ে একটি মরদেহ দেখতে পান ওই শ্রমিকেরা। পরে তাদের চিৎকারে সোয়েলের পরিবারের সদস্যরা সহ স্থানীয়রা ছুটে আসেন। পরে নিশ্চিত হওয়া যায় মরদেহটি সোহেলের। এরপরে থানা পুলিশে খবর দেয়া হয়।
এর আগে, গত ২৬ আগস্ট বাড়ির পাশের জমির আইল কাটা ও মাছ ধরা নিয়ে চাচা এনামুল হক (সোয়েলের বাবার মামাতো ভাই) কবিরাজের সাথে মারামারি হয় সোয়েল সহ পরিবারের সদস্যদের। তবে জমি নিয়ে মারামারির পূর্বের একটি মামলায় সোয়েলের নামে ওয়ারেন্ট ছিল বলে জানা গেছে। এরপর থেকে গ্রেপ্তার এড়াতে সোয়েল বাড়ির সংলগ্ন সেচপাম্প ঘরে লুকিয়ে থাকতেন বলে জানা গেছে। এরই মাঝে হত্যকান্ডের ঘটনা ঘটল।
বোদা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রেজওয়ানুল হক মন্ডল মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। আমাদের তদন্ত চলছে। তদন্তের পরে বিস্তারিত জানা যাবে কি কারণে কারা হত্যা করেছে। এঘটনায় এখনো কোন অভিযোগ বা মামলার এজহার পাইনি। পেলে আমরা আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।