


পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় হাতপা বেঁধে ধর্ষণের ঘটনায় ১৪ বছরের এক কিশোরী স্কুলছাত্রী অন্তঃসত্তা হয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় সুবিচার পেতে অভিযুক্ত আব্দুস সোবহানের (৫৭) বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে তেঁতুলিয়া মডেল থানায় ধর্ষণ মামলা করলে গত শনিবার রাতে তাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আব্দুস সোবহান রওশনপুর এলাকার মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে। ধর্ষণের শিকার ওই কিশোরী শালবাহান বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। কিশোরী ধর্ষণের ঘটনায় ধর্ষকের শাস্তির দাবিতে ফুঁসে উঠেছেন এলাকাবাসী। শনিবার রাতে অভিযুক্ত সোবহানের গ্রেফতার, শাস্তি ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করে এলাকাবাসী। ভুক্তভোগী ওই কিশোরী জানায়, অভিযুক্ত সোবহান সম্পর্কে আমার দাদা হয়।
বাড়িতে প্রায়ই আসতেন। গত এপ্রিলের ৪ তারিখ শুক্রবারে বাড়িতে আমি একা ছিলাম। মা-বাবা মরিচ তুলতে গিয়েছিলেন। ঘরে শুয়ে ছিলাম। হঠাৎ বুঝে উঠার আগেই লোকটা আমাকে হাত-পা বেঁধে মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ঘটনাটি যাতে না বলি সে জন্য নানা ভয়ভীতি দেখায়। বলে দিয়ে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এ কারণে কাউকে কিছু জানাইনি। এর মধ্যে আমার গর্বে সন্তান চলে এসেছে। সাত মাসের অন্ত:সত্তা। আমি এর কঠিন বিচার চাই। ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, আমি পাথর শ্রমিক। গত বৃহস্পতিবার জানতে পেরে মেয়ের বিচার পাব কিনা খুবই দু:শ্চিন্তাবোধ করছি। এর মধ্যে দাদার বয়সি সোবহান লোকটা মেয়েটাকে জোর করে ধর্ষণ করে অন্ত:সত্তা করে ফেলেছে। আমি এর সুবিচার চাই।
ধর্ষক সোবহানের ফাঁসি কিংবা আইনের যথাযথ বিচারের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কামনা করছি। তিরনইহাট ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন বলেন, ঘটনাটি আমি শুনেছি। তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। গ্রেফতার হয়েছে। এ ধরনের সামাজিক অবক্ষয় হতে আগামী দিনে মানুষ বের হয়ে আসতে পারে তার জন্য এলাকাবাসীর পক্ষ হতে অভিযুক্ত ধর্ষকের কঠোর শাস্তি কামনা করছি। তেঁতুলিয়া মডেল থানার কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) নাজির হোসেন নানান, এ ঘটনায় থানায় একটি ধর্ষণ মামলা হয়েছে। অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে।