গণসংযোগ শেষে বিএনপির প্রার্থী আজিজুর রহমান বলেন, ‘এখানে এই দুই এলাকার মানুষ, অধ্যষিত এলাকা। এখানে জনবসতি ব্যাপকভাবে গড়ে উঠেছে। এই এলাকার মানুষ ধানের শীষের প্রার্থীকেই নির্বাচিত করতে চান। ২০১৮ সালে তারা বিপুল পরিমাণে ভোট দেওয়ার জন্য ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত হয়েছিলেন, ভোট দিতেও শুরু করেছিল; কিন্তু বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সকাল ১০-১১ মধ্যে তাদের ভোট বন্ধ হয়ে যায়।
এ সময় যতগুলো ভোট তারা দিয়েছে, সবে ধানের শীষের প্রার্থীকেই দিয়েছিলেন। সেই দিন তাদের পছন্দের প্রার্থী ছিলাম আমি আর সেই সাথে তাদের প্রতীক ছিল ধানের শীষ। এলাকার জন্য উন্নয়নের জন্য তারা আশা করেছিল; কিন্তু তারা আশাহত হয়েছেন, তাদের সেই কাজটি হয়নি। হায়েনা সরকার এই ভোটগুলো ছিনিয়ে নিয়ে তাদের প্রাথীকে অবাঞ্চিতভাবে তারা বিজয়ী ঘোষণা করে সংসদ সদস্য করেছিল।
মানুষ দীর্ঘ দিন থেকে সেই অপেক্ষা করছেন, আবার যদি তারা সুযোগ পান, আজ অন্তবর্তী সরকার যেহেতু নির্বাচন করার আশ্বাস দিয়েছেন, সেই আশ্বাসে তারা ভর করে আবারও বিপুলভাবে নারী, পুরুষ এবং সকল শ্রেণী পেশার ভোটারগণ ভোট কেন্দ্রে গিয়ে আশ্বস্ত করছেন, আমাকে তারা আশ্বাস দিচ্ছেন, যে বিগত দিনের যে বিপলতা সেটা সাফিয়ে আমরা আগামী দিনে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে আপনাকে পেয়েছি। তাই আপনাকে ভোট দিয়ে সংসদ সদস্য বানাতে চাই, আমাদের এলাকার উন্নয়ন করতে চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘কুড়িগ্রাম-৪ আসনের রৌমারী, রাজীবপুর ও চিলমারীবাসী নদী ভাঙনের কবলে তারা অনেক দুর্ভোগ ভুগছেন। সেই সাথে এখানে যোগাযোগ ব্যবস্থার অনেক আমূল পরিবর্তন প্রয়োজন।
এমনকি এই পাখিউড়া বাজার থেকে যাতায়াতের জন্য কোমড়ভাঙ্গী সেতু এবং রাজীবপুরের খঁাজারঘাট সেতুটি অত্যান্ত প্রয়োজন। তাই আল্লাহতালা এই সুযোগ দেয়, এই এলাকা মানুষ ভোট দিয়ে যদি সংসদ সদস্য বানায়, তাহলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আমি এই সমস্যা সমাধান করবো ইনাশআল্লাহ। সেই সাথে নদী ভাঙন স্থায়ীভাবে যাতে প্রতিরোধ করা যায়, নিয়ন্ত্রণ করা যায়, এটার জন্য রাষ্টীয় সহযোগিতা নিয়ে সেই ব্রহ্মপুত্র নদে উৎসমুখে যদি আমরা বঁাধ সৃষ্টি করতে পারি, তাহলে এটি একটি স্থায়ীভাবে সমাধান করা সম্ভব।
সেই সাথে এখানে শিক্ষার অব্যবস্থা রয়েছে। এখানে এলাকার মানুষ স্বাস্থ্যের সেবা পাচ্ছেন না। স্বাস্থ্যসেবা থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছে। এখানকার যুবকেরা কাজের সুযোগ পাচ্ছেন না। এখানে কোনো কলকারখানা-ইন্ডাস্ট্রি নেই। এখানে যদি সেগুলোর সুযোগ সৃষ্টি করা যায়, তাহলে দেখা যাবে এই এলাকার যুবক শ্রেণিরা তাদের কাজে সংস্থান হবে।
তাই আমরা আশা করি, এই কুড়িগ্রাম-৪ আসনটি একটি অবহেলিত এলাকা। এখানে মানুষের আকাঙ্খা আছে, বিএনপি ভোট দিয়ে তারা সংসদ সদস্য বানাতে চান। তাই আগামী নির্বাচনে আমি আকুল আহবান জানাবো এই পাখিউড়াবাসীর মত আপনার সকল এলাকার মধ্যে থেকে ঐক্যবন্ধ হন। এই বিএনপির পতাকাতলে একত্রিত হন।
বিএনপির প্রার্থীকে বিজয়ী করে আগামী দিনের সরকার গঠন করবার জন্য যেমন উপহার দেবেন, তেমনি এই এলাকার জন্য সেই সুযোগটি সৃষ্টি হবে আর আমি যদি সেই সুযোগটি আল্লাহর রহমত আপনাদের দোয়া, আপনাদের ভোটে যদি হতে পারি তাহলে একে একে ধাপে ধাপে এই মৌলিক চাহিদাগুলো আমি আন্তরিকতা দিয়ে, আমার যোগ্যতা, আমার শ্রম দিয়ে আমার সময় বাস্তবায়ন করবো। সবার কাছে দোয়া চান তিনি।
নির্বাচনী গণসংযোগকালে উপস্থিত ছিলেন
রৌমারী উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক সাজ্জাদুল হক সুজন, উপজেলা বিএনপির সদস্য ও যাদুরচর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মতিউর রহমান, উপজেলা বিএনপির সদস্য ও যাদুরচর ইউপি চেয়ারম্যান সরবেশ আলী, রাজীবপুর উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব (ভারপ্রাপ্ত) মিজানুর রহমান লিমন, যাদুরচর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক আবিদুল ইসলাম হিরো, যাদুরচর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসান সজিব, সহসভাপতি মো. শামীম ও সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল ইসলামসহ অনেকে।