


কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বাওয়াইরগ্রাম এলাকায় প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হলেও সড়ক নিয়ে জটিলতায় স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বাধার মুখে বন্ধ সংযোগ সড়কের কাজ শুরু করা হয়েছে। শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে বন্ধ থাকা সংযোগ সড়কের কাজ শুরু করান কুড়িগ্রাম-৪ আসনের বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী আজিজুর রহমান।
স্থানীয়রা জানান, উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাওয়াইরগ্রাম এলাকায় নির্মিত এই সেতুর কাজ শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের জুন মাসে। পরে সংযোগ সড়ক নিয়ে তৈরি হয় ব্যাপক জটিলতা। কিন্তু যাদুরচর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি শাহাজাহান মন্ডল ও তাঁর সহযোগীরা সড়কের মাটি ফেলতে বাধা দিচ্ছিলেন বলে অভিযোগ উঠে। একপর্যায়ে ওই বিএনপি নেতার বাধায় কাজ বন্ধ থাকায় সেতুটি ব্যবহার করতে পারছিলেন না কয়েক গ্রামের মানুষ, অটোচালক, কৃষক ও শিক্ষার্থীরা। পরে শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ওই ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে নির্মিত সেতুর সংযোগ সড়কের বন্ধ থাকা কাজটি শুরু করান বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী আজিজুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নেতাকর্মীসহ সমর্থকরা।
কুড়িগ্রাম-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী আজিজুর রহমান বলেন, উপজেলার বাওয়াইরগ্রাম এলাকায় একটি সেতু নির্মাণাধীন। সেতুর মুল কাঠামো শেষ হয়েছে। কিন্তু সংযোগ সড়ক না হওয়ার কারনে মানুষের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। এটা জেনেই আমি এই এলাকায় চলে আসছি। পার্শবর্তী জমির মালিকের (বিএনপি নেতা শাহাজাহান মন্ডল) তাকেও আমি সঙ্গে নিয়ে এসেছি। এখানে আলাপ-আলোচনা করে দেখলাম, তার কিছু জমি রয়েছে। এই সেতুর সংযোগ সড়ক করতে তার কিছু জমি সম্পৃক্ত হচ্ছে। তাকে এই ছাড়টি দিতে হবে, তাকে বুঝিয়ে বলার পরে তিনি রাজি হয়েছেন। অন্তত যেভাবে সেতুর সংযোগ সড়ক করতে মাটি ফেলার দরকার, সেভাবে মাটি ফেলতে পারেনি ঠিকাদার। এতে এই সেতুতে উঠা-নামা করতে সমস্যা হয়ে দাঁড়িছে।
তিনি আরও বলেন, আজকে থেকে কাজটি শুরু করে দেবেন, সেভাবে তাদেরকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ঠিকাদারের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে, তিনিও ওই পরামর্শ মোতাবেক কাজ করে দিতে রাজি হয়েছেন। আমি আশা করি, এই এলাকার মানুষের যে দুরদশা ছিল, এই সেতুতে উঠা-নামা কোনো ব্যবস্থা ছিল না, মাটি কেটে সংযোগ সড়কের কাজ করতে পারলেই মানুষ যথারীতি চলা ফেলা করতে পারবেন। অতিলম্বে ঠিকাদার এই কাজ করে দিয়ে মানুষের চলাচলের সুবিধা করে দেবেন। কেউ-কাউকে যেন দোষারোপ না করে উন্নয়ন কাজগুলো করতে হবে।
ঠিকাদার সামসুদ্দিন হায়দার জানিয়েছেন, সেতুর সংযোগ সড়ক করতে আর সমস্যা মনে করছি না। কুড়িগ্রাম-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী আজিজুর রহমান পরিদর্শনে গিয়ে আমাকে কল করে কাজটি দ্রুত শেষ করার জন্য বলেছেন। যদি কোনো সমস্যা সৃষ্টি আমি যেন তাকে অবগত করি।
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে উপজেলার কর্তিমারী জিসি ভায়া বড়াইবাড়ি বিওপি ক্যাম্প সড়কে ৬০.০৬ মিটার আরসিসি গার্ডার সেতু নির্মাণের দরপত্র আহ্বান করা হয়। কাজটি পান জামালপুরের মেলানহদ এমসিই এমবিই জেভী নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী সামসুদ্দিন হায়দার। ওই বছরই প্রায় ৫ কোটি ৮৯ লাখ টাকা ব্যয়ে এই গার্ডার সেতুর কাজ শুরু হয়। কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৩ সালে। কিন্তু নানা জটিলতায় তা ২০২৫ সালের জুল মাসে শেষ হয়।
রৌমারী উপজেলা প্রকৌশলী মুনছুরুল হক জানিয়েছেন, সেতুর সংযোগ সড়কের মাটি ভরাটের যে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল তা সমাধান হয়েছে। ঠিকাদারকে বলা হয়েছে কাজটি যেন দ্রুত শেষ করেন।