
রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় ইসলামী ফাউন্ডেশন কার্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ফিল্ড সুপারভাইজার মোঃ আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিয়মিত অফিসে উপস্থিত থাকেন না এবং নিজের ইচ্ছামতো অফিস পরিচালনা করেন। সূত্রে জানা যায়, ঈদুল ফিতরের সরকারি ছুটি শেষ হওয়ার পরেও কাউনিয়া উপজেলা ইসলামী ফাউন্ডেশন কার্যালয়টি রহস্যজনকভাবে বন্ধ রাখা হয়। এছাড়া সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শনের কথা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বাস্তবে ভিজিট না করে কাগজ-কলমেই তা সীমাবদ্ধ রাখছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
রবিবার (৫ এপ্রিল) সকালে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা সাধারণ মানুষ ও ধর্মীয় শিক্ষকরা দাপ্তরিক কাজে এসে অফিসের ফটকে তালা ঝুলতে দেখেন। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি।
ভুক্তভোগীরা জানান, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অনুপস্থিতির কারণে দূর-দূরান্ত থেকে আসা সেবাগ্রহীতারা চরম দুর্ভোগে পড়ছেন। তাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সপ্তাহে এক-দুই দিন অফিসে এলেও দেরিতে আসেন এবং নির্ধারিত সময়ের আগেই চলে যান।
সেবা নিতে আসা মোকছেদ আলী বলেন, “আমি গত দুই-তিন দিন ধরে অফিসে আসছি, কিন্তু প্রতিদিনই তালা ঝুলতে দেখি। কোনো কাজই করতে পারছি না।” সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে সংশ্লিষ্ট ফিল্ড সুপারভাইজারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে পরে তাকে কার্যালয়ে দেখা যায়। ঈদের পর অনুপস্থিত থাকা এবং অফিসে তালা ঝুলে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, কেয়ারটেকারের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তিনি ছুটিতে থাকায় চাবি পাওয়া যায়নি। পরে তিনি নিজেই চাবি এনে অফিস খুলেছেন বলে দাবি করেন।
তবে একই দিন সকাল ৯টার পরিবর্তে প্রায় ১১টায় তাকে অফিসে উপস্থিত হতে দেখা যায়। এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে প্রথমে তিনি জানান, কুশা ইউনিয়নের একটি কেন্দ্র পরিদর্শন করে আসায় দেরি হয়েছে। কিন্তু পরে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের শিক্ষকের যোগাযোগ নম্বর চাইলে তিনি স্বীকার করেন, “আমি মিথ্যা বলেছি, আমার বাইক নষ্ট হওয়ায় দেরি হয়েছে।”
এদিকে অফিসের কেয়ারটেকার শহিদুল ইসলাম জানান, তিনি ছুটিতে থাকলেও তার সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। তিনি বলেন, “স্যারের কাছে এক সেট চাবি আছে। আমার কাছ থেকে চাবি নেওয়ারও কোনো চেষ্টা করা হয়নি।”
এ বিষয়ে রংপুর জেলা ইসলামী ফাউন্ডেশনের পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন রংপুর জেলার ফিল্ড অফিসার জিয়াউর রহমানের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান আপনাদের মাধ্যমে আমি জানতে পারলাম , এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার আশ্বাস প্রদান করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অংকন পাল (অংকন পাল) এর কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, বিষয়টি আমি জানি না, আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম বিষয়টি দেখা হচ্ছে।
Related