স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মতভেদ থাকবে, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকবে। কিন্তু জাতীয় প্রশ্নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বিভেদমূলক বক্তব্য কেবল স্বৈরাচারের ফিরে আসার পথই প্রশস্ত করবে। আমরা আর কখনো চাই না গণতন্ত্রের জন্য এ দেশের মানুষকে রক্ত দিতে হোক। তাই সংসদীয় গণতন্ত্র ও জাতীয় ঐক্যকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।
বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত না করে বিচারকদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা সমীচীন হবে না উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় প্রশাসন ও আইনসভা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সংসদ আইন প্রণয়ন করবে, আর প্রশাসন তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবে। তবে প্রকৃত অর্থে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে বিচার বিভাগের হাত ধরেই। এ মুহূর্তে বিচার বিভাগকে নিয়ে আমরা কঠোর সমালোচনা করতে চাই না। কারণ বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত হলে তখনই তাদের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যৌক্তিক হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য শুধু আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়। রাষ্ট্র কাঠামোর কাঠামোগত পরিবর্তনের জন্য সাংবিধানিক সংশোধন অপরিহার্য। এ কারণেই সরকার রাষ্ট্র কাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কারের অঙ্গীকার করেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা প্রায় ১৩৩টি অধ্যাদেশের অধিকাংশই বর্তমান সরকার আইনে পরিণত করেছে। যেগুলোতে আরও সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে, সেগুলো অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে সংশোধন করা হবে।
তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে বিরোধী দলকে আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল। কিন্তু তারা ওয়াকআউট করেছে। অথচ জাতীয় স্বার্থে ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি টেকসই সাংবিধানিক সংস্কার প্রয়োজন।
গণভোট প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু মৌলিক বিষয়ে সংশোধন আনা হলে গণভোটের বিধান রয়েছে। তবে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত গণভোট সাংবিধানিক গণভোট ছিল না। এটি প্রশাসনিক আদেশের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যার সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গুম প্রতিরোধ, মানবাধিকার কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশনসহ বিভিন্ন আইন আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখেই দেশের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রণয়ন করা হবে।
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।






















