


চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি টানা তিনটি আসর ধরে ফিফা বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাচ্ছে না। রবার্তো লেভানডোস্কির পোল্যান্ড কিংবা ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দল ডেনমার্কও এবার বিশ্বকাপে খেলতে পারেনি। আর দুবার ফাইনাল খেলা হাঙ্গেরি তো বিশ্বমঞ্চে নেই সেই ১৯৮৬ সাল থেকেই। দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ খ্যাত ফুটবল বিশ্বকাপে ফিরতে মরিয়া হয়ে আছে ইতালি, পোল্যান্ড কিংবা হাঙ্গেরিসহ বেশকিছু দল।
ইতালি
চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আজ্জুরিদের গল্পটা সবচেয়ে অবিশ্বাস্য। টানা তিনবার বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে ইতালি- যা ১৮টি আসরে অংশ নেওয়া একটি দেশের জন্য এক চরম ধাক্কা। নরওয়ের পেছনে থেকে বাছাইপর্ব শেষ করার পর প্লে-অফে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে পেনাল্টি শুটআউটে হেরে ছিটকে যায় গেন্নারো গাত্তুসোর শিষ্যরা। ২০১৪ সালের পর আর বিশ্বমঞ্চে দেখা যায়নি দলটিকে।
ডেনমার্ক
১৯৯২ সালের ইউরো জয়ী ডেনমার্ক এবারের আসরের বেশ কাছাকাছি গিয়েও শেষ মুহূর্তে খেঁই হারিয়ে ফেলে। বাছাইপর্বে স্কটল্যান্ডের কাছে পরাজয় এবং প্লে-অফ ফাইনালে চেক রিপাবলিকের কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিতে হয় তাদের। কোচের অধীনে নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে প্রস্তুত ড্যানিশরা।
পোল্যান্ড
রবার্তো লেভানডোস্কির পোল্যান্ডকে প্লে-অফ ফাইনালে সুইডেনের কাছে ৩-২ গোলে হেরে বিদায় নিতে হয়েছে। অধিনায়ক রবার্ট লেভানডোস্কির ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে পোল্যান্ড ফুটবল এখন তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে নতুন করে পুনর্গঠনের পথে হাঁটছে।
হাঙ্গেরি
১৯৩৮ ও ১৯৫৪ সালের রানার্স-আপ হাঙ্গেরি ১৯৮৬ সালের পর আর বিশ্বকাপে উঠতে পারেনি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় নিয়মিত পারফর্ম করা দলটি তাদের এই দীর্ঘ ৪ দশকের বিশ্বকাপের খরা কাটাতে ২০৩০ সালকেই পাখির চোখ করছে।
নাইজেরিয়া ও ক্যামেরুন
কনকাকাফ প্লে-অফ পর্বে ডিআর কঙ্গোর কাছে পেনাল্টিতে হেরে বিদায় নেয় তিনবারের আফ্রিকা সেরা সুপার ঈগলরা।
সবচেয়ে বেশি ৮ বার বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া আফ্রিকান দেশ ক্যামেরুনও কঙ্গো ডিআর-এর কাছে হেরে মূল পর্বের টিকিট হাতছাড়া করে।
চিলি ও পেরু
দক্ষিণ আমেরিকান অঞ্চল থেকে সাবেক শক্তিধর চিলি ও পেরু বাছাইপর্বে একেবারেই ছন্দে ছিল না। ১৮ ম্যাচে মাত্র ২টি জয় পেয়ে পয়েন্ট টেবিলের একদম তলানিতে শেষ করে চিলি।
আর আক্রমণভাগের দুর্বলতায় ৯ নম্বর স্থানে থেকে দৌড় শেষ করে পেরু। ২০৩০ সালের জন্য দুটি দলকেই তাদের আক্রমণভাগ ঢেলে সাজাতে হবে।
রোমানিয়া ও কোস্টারিকা
১৯৯৪ সালের কোয়ার্টার ফাইনালিস্ট রোমানিয়া তুরস্কের কাছে হেরে প্লে-অফ থেকে বিদায় নেয়। অন্যদিকে, ২০১৪ সালের চমকজাগানো কোস্টারিকা কনকাকাফ অঞ্চলের শেষ ধাপে হন্ডুরাসের সাথে ড্র করে মূল পর্বে ওঠার স্বপ্ন হারায়।
শতবর্ষী ২০৩০ বিশ্বকাপকে স্মরণীয় করে রাখতে প্রতিটি দলই এখন থেকে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা তৈরি করছে। ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে এই পরিচিত মুখগুলোর প্রত্যাবর্তন দেখতে বিশ্বজুড়ে অপেক্ষা করছেন সমর্থকরাও।