১ লাখ লিটার ধারণক্ষমতার এ ট্যাংক নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২ কোটি ১১ লক্ষ টাকা।
এ প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিকভাবে ঘোড়াঘাট উপজেলার ৩ নং সিংড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ দেবীপুর গ্রাম সহ রানীগঞ্জ বাজারের আশপাশের এলাকার বাসিন্দারা এ প্রকল্পের সুবিধা ভোগ করবেন।
মঙ্গলবার ১৫ সেপ্টেম্বর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানির সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ে পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহের উদ্যোগ হিসেবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বর্তমানে পরীক্ষামূলকভাবে পানি সরবরাহ শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ৩ শত জন গ্রাহক সংযোগ নিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটির আওতায় প্রাথমিকভাবে ৩’শ গ্রাহককে সংযোগ দেওয়া হলেও ১ বছরের মধ্যে কোন বিল গ্রহণ করা হবে না। তবে এ প্রকল্পের জন্য ইউপি চেয়ারম্যান ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সহ পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি পরিচালনা কমিটি চাইলে সার্ভিস চার্জ বা রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ অল্প পরিমাণ খরচ নির্ধারণ করে আদায় করতে পারবে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ৩ নং সিংড়া ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ রেজ্যুলেশনের মাধ্যমে ৬ শতাংশ জমি এ প্রকল্পের জন্য জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে ব্যবহারের জন্য হস্তান্তর করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মাসুদ রানা বলেন, “রানীগঞ্জ বাজারে এলাকায় নিরাপদ পানির জন্য উৎসের অনেক ঘাটতি রয়েছে। এখন বাজারে এলাকায় পাইপলাইনের মাধ্যমে নিরাপদ পানি পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। নিয়মিত ও পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ নিশ্চিত হলে এলাকার মানুষের অনেক উপকার হবে।”
রানীগঞ্জ বাজারে এক টি স্টোরের স্বত্বাধিকারী সুরুজ্জামান মিয়া
বলেন, “পানির এই ব্যবস্থা চালু হওয়ায় আমরা অত্যন্ত খুশি। তবে পানি সরবরাহ যেন নিয়মিত থাকে এবং পানির মান ভালো থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।”
৩ নম্বর সিংড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন,
“এটি আমাদের এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রয়োজন ছিল। বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করতে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে জনস্বার্থে ৬ শতাংশ জমি প্রকল্পের জন্য ছেড়ে দিতে হয়েছে। মানুষের নিরাপদ পানির চাহিদা পূরণ হলে এ জমি দেওয়ার বিষয়টি আমরা সার্থক মনে করব। প্রকল্পটি দ্রুত পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করে আরও বেশি গ্রাহককে এ সুবিধার আওতায় আসবে আশা করছি।
এ বিষয়ে কথা হলে ঘোড়াঘাট জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোকাররম হোসেন বলেন, “ সারাদেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। বর্তমানে পানি সরবরাহ উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ভাবে ৩’শ গ্রাহক দিয়ে শুরু হলেও প্রকল্পের কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে আরও বেশি পরিবার, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে নিরাপদ পানি সরবরাহের আওতায় সুবিধা পাবে বলে আশা করছি।