চাকরি

পেনশনারদের দুর্ভোগ কমাতে রংপুর  ডিসিএ কার্যালয়ে নানামুখী উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক   রংপুর

০১ মার্চ ২০২৪


| ছবি: 

চাকুরী শেষে পেনশনের টাকা তুলতে হয়রানিসহ ঘুষ বাণিজ্য এখন ইতিহাস। পেনশনারদের দুর্ভোগ কমিয়ে আনতে রংপুর ডিভিশনাল কন্ট্রোলার অব একাউন্টস (ডিসিএ) কার্যালয়ে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আন্তরিকতার সঙ্গে সেবাগ্রহীতাদের লাইফ ভেরিফিকেশন, পেনশন চালুকরণ, আনলইন ও অফলাইনে যে কোনো সমস্যা সমাধানসহ মাত্র এক কর্মদিবসে পেনশন নিষ্পত্তি করে আনুতোষিকের চেক প্রদান করা হচ্ছ। এছাড়া অন্যান্য দপ্তরগুলো থেকে পেনশন মঞ্জুরী ও পেনশন কেইস আসতে যাতে বিলম্ব না হয় সেজন্য জনসচেতনতামুলক প্রি-পেনশন ডিসকাশন সেশন প্রবর্তন করা হয়েছে। চাকুরী শেষ করার পর জীবনের পড়ন্তবেলায় এসে সহজেই দ্রুত সময়ে পেনশনের টাকা পেয়ে খুশি পেনশনাররাও।
ডিসিএ রংপুর কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, একটি কক্ষে ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করা হয়েছে। সেখানে কর্মকর্তাগণ পেনশনারদের নানা সমস্যা সমাধানে ব্যস্ত। ‘আপনার পেনশন, আমাদের টেনশন’ স্লোগানকে ধারণ করে অডিট এন্ড একাউন্টস অফিসার আবদুল্লা মিঞা ও সুপার নুর বানুসহ দু’জন অডিটর পালাক্রমে পেনশনারের লাইফ ভেরিফিকেশনসহ আনলইন ও অফলাইনে নানা সমস্যার সমাধান করছেন আন্তরিকতার সঙ্গে। সরকারি এই অফিসে ত্বরিত সেবাদানের পাশাপাশি পেনশনারদের জন্য রয়েছে চা, কফি, বিস্কুটসহ আপ্যায়নের ব্যবস্থা। সম্প্রতি অবসর গ্রহণ করা মাহফুজা বেগম নামের একজন শিক্ষক পেনশনের আনুতোষিকের চেক নিতে ডিসিএ কার্যালয়ে এসেছিলেন। তিনি বলেন, ‘সারাজীবন চাকুরী করেছি। কিন্তু চাকুরী শেষে পেনশনের টাকা নিতে এসে এক নতুন অভিজ্ঞতা হল। সরকারি অফিসে এত আন্তরিকতার সঙ্গে দ্রুত সময়ে পেনশন নিষ্পত্তি করে আনুতোষিকের চেক পাবো বিশ্বাসই হচ্ছিল না।’ সঙ্গে থাকা তার স্বামী পীরগঞ্জ মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আলমগীর মো. সাইফুল্লাহ বলেন, আমার স্ত্রীর জিপিএফ চুড়ান্ত ও ল্যাম্পগ্রান্টের চেক হাতে তুলে দিয়ে ডিসিএ মহোদয় একসঙ্গে মধ্যাহ্নভোজের অফার দিলে ইমোশনাল হয়ে যাই, কোনো কথা বলতে পারিনি। সরকারি অফিসে পরম যত্নে সেবাপ্রদানের সাথে আতিথেয়তা! এ যেন এক নতুন দেশ, নতুন সরকারি অফিস।
অন্যদিকে পেনশন মঞ্জুরী, পেনশন কেইসের সাথে যথাযথ প্রমানক বা অর্ডার সংযোজনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু তারতম্য পরিলক্ষিত হচ্ছে। সে কারণে পেনশন সহজীকরণ সেবা ও বিভিন্ন তথ্য সরকারি কর্মচারীগণের কাছে পৌছে দেওয়ার লক্ষে জনসচেতনতামুলক ‘প্রি-পেনশন ডিসকাসন সেশন’ প্রবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে ডিসিএ। গত ৩১ জানুয়ারি প্রথম অতিরিক্ত পরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, রংপুর-এর হলরুমে এই সেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর-এর নিয়ন্ত্রণাধীন অফিসসমুহের কল্যাণ কর্মকর্তাসহ  সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এ ব্যপারে রংপুর বিভাগীয় হিসাব নিয়ন্ত্রক (ডিসিএ) মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, চাকুরী শেষে দ্রুততম সময়ে অনুতোষিক ও পেনশন প্রাপ্তি সরকারি কর্মচারীর মৌলিক অধিকার। এক্ষেত্রে কোনরুপ শৈথিল্য মেনে নেওয়া যায়না। মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএন্ডএজি) নূরুল ইসলাম একজন সেবার ফেরিওয়ালা। তার নির্দেশনা ও দেখানো পথেই হাঁটার চেষ্টা করছি। আমরা পেনশনারদের জিপিএফ চুড়ান্ত, গ্র্যাচুইটি ও ল্যাম্পগ্রান্টের চেক পেনশন ম্যাচুরিটি ডে-তে প্রদান করতে বদ্ধ পরিকর। নানা সীমাবদ্ধতার পরও অনেকাংশে আমরা তা করতেও পেরেছি। তবে পেনশনারের পেরেন্ট অফিস হতে নানা কারণে পেনশন মঞ্জুরী ও পেনশন কেইস আসতে দেরি হওয়াসহ সাথে সকল প্রমাণাদি-কাগজপত্র সংযুক্ত না থাকার ফলে স্বদিচ্ছা থাকা সত্বেও শতভাগ পেনশন কেইস সময়মত নিষ্পত্তি করা যাচ্ছেনা। এ সমস্যা থেকে উত্তরণে চলতি বছরের শুরুতেই জনসচেতনতামুলক ‘প্রি-পেনশন ডিসকাসন সেশন’ প্রবর্তন করা হয়েছে। যার মাধ্যমে ডিসিএ, রংপুর এর নিরীক্ষাধীন অফিসসমুহের কল্যাণ কমকর্তা, ডিডিও এবং অফিস প্রধানের সমন্বয়ে পেনশন কেইসের সকল ধাপ সম্পন্ন করার বিষয়ে সম্যক ধারণা দেওয়া হয়ে থাকে বলেও জানান তিনি।

 

88