


নীলফামারীর সৈয়দপুরে পল্লীতে এক ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ১২টি পরিবারের সর্বস্ব পুড়ে ছাঁই হয়ে গেছে। সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের কাশিরাম ব্রহ্মত্তর পশ্চিমপাড়া ওই অগ্নিকান্ড সংঘটিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সদস্যরা শুধুমাত্র পরণের কাপড়-চোপড় ছাড়া আর কোন কিছু রক্ষা করতে পারেনি।
আগুনের হাত থেকে ঘরের জিনিসপত্র বাঁচাতে গিয়ে বেশ কয়েকজন আহত হন। এদের মধ্যে গুরুতর আগত হাফিজুল ইসলাম বজুর স্ত্রী ইসমততারা লতাকে (৩০) রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা চলতি শেষ মাঘ মাসের শীতে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত সোমবার সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ছয়টার দিকে উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের কাশিরাম ব্রহ্মত্তর পশ্চিমপাড়ার মো. সাইদুল ইসলামে খড়ের ঘর থেকে প্রথমে আগুনের সূত্রপাত হয়।
আর মুর্হুতের মধ্যে এ আগুনের লেলিহান শিখা আশেপাশের থাকা আব্দুল কাদের টিটুৃ, সাদেকুল ইসলাম, হাফিজুল ইসলাম বজু, আমিজুল ইসলাম চুকু, নয়ন ভুকু, ওয়াহেদ আলী কাইল্টা, মো. বাদশাহ, আলেব উদ্দিন, আলেকজোন বেওয়া, সেকেন্দার আলী এবং মো. আলাউদ্দিনের বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। এতে উল্লিখিত ব্যক্তিদের বাড়ির ৩৩টি খড়ের কাঁচা ও সেমিপাকা ঘর আগুনে পুড়ে যায়।
আগুনে পরিবারগুলোর ঘরের মধ্যে থাকা নগদ অর্থ, মূল্যবান কাপড় চোপড়, আসবাবপত্র, তৈজসপত্র, গরু-ছাগল, হাঁস- মুরগী, ধান-চালসহ সর্বস্ব ভস্মীভূত হয়েছে। এ আগুনের খবর পেয়ে সৈয়দপুর ও রংপুরের তারাগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স বাহিনীর সদস্যরা ছুুঁটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
কিন্তু তাঁর আগে আগুনে ১২টি পরিবারের সর্বস্ব পুড়ে ছাঁই হয়ে পড়ে। এ আগুনের সঠিক কারণ জানা যায়নি। তবে বৈদ্যূতিক সট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়। বর্তমানে আগুনের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন।
আগুনের খবর পেয়ে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. নুর-ই-আলম সিদ্দিকী ঘটনাস্থল পরিদর্শন আসেন। এ সময় সৈয়দপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মির্জা মো. আবু সাইদ, উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার নুর মোহাম্মদ, হাজারীহাট স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. লুৎফর রহমান চৌধুরী, কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা ফেরেজুল শাহ, ইউপি সদস্য আব্দুল হক, মো. আজমল হোসেন, আব্দুল জলিলসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
গতকাল মঙ্গলবার উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের মাঝে তাৎক্ষনিকভাবে ২০টি কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও হাজারীহাট স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. লুৎফর রহমান চৌধুরী তাঁর ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে লুঙ্গি,শাড়ী ও ছোটদের পোষাক বিতরণ করেন।
সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. নুর-ই-আলম সিদ্দিকী বলেন, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের যত দ্রুত সম্ভব সরকারিভাবে সব রকম সাহায্য-সহযোগিতা করা হবে।