


নীলফামারীর সৈয়দপুরে খোলা মার্কেটে বিক্রির (ওএমএস) দোকানে চাল সংগ্রহে ক্রেতাদের প্রচন্ড ভীড় বাড়ছে। ৩০ টাকা কেজি দরে চাল কিনতে পেরে স্বল্প আয়ের মানুষগুলোর সংসারের ব্যয়ে কিছুটা হলেও সাশ্রয় হচ্ছে। এতেই তারা বেশ অনেক খুশী। কিন্তু পরিমাণে কম বরাদ্দের কারণে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও অনেকে চাল কিনতে না পেরে ফিরে যাচ্ছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারিভাবে নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌরসভা এলাকার নিম্ন ও স্বল্প আয়ের পরিবারগুলোর কথা চিন্তা করে খোলা বাজারে ৩০ টাকা দরে চাল বিক্রি করা হচ্ছে। চলতি বছরে গত মধ্য জানুয়ারি মাস থেকে সৈয়দপুর পৌরসভা এলাকার দুইটি পয়েন্টে চাল বিক্রি শুরু হয়েছে। দুইজন ওএমএস ডিলারের মাধ্যমে ওই চাল বিক্রি করা হচ্ছে।
এদের মধ্যে ওএসএম ডিলার আব্দুল গণী মৃর্ধা সৈয়দপুর ক্যান্টনমেন্ট বাজারের উপজেলা সড়কে এবং মো. আলতাফ হোসেন শহরের সাহেবপাড়ায় গির্জার সামনে স্টেশন রোড়ে ওএমএসের চাল বিক্রি করছেন। যদিও শুরুতেই প্রতিজন ওএমএস ডিলার সপ্তাহের রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পাঁচ দিন বিক্রির জন্য প্রতিদিন এক টন (এক হাজার কেজি) করে চাল বরাদ্দ পান। কিন্তু ক্রেতাদের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় গত ২ ফেব্রুয়ারি থেকে ডিলারদের বরাদ্দ এক টন থেকে বাড়িয়ে দেড় টন করা হয়েছে। এতে সৈয়দপুর পৌরসভার ১৫টি ওয়ার্ডের নিম্ন ও স্বল্প আয়ের মানুষগুলো ৩০ টাকা কেজি দরে চাল সংগ্রহ করতে পারছেন।
শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি বাদে সপ্তাহের পাঁচ দিন ওএমএসের চাল বিক্রি অব্যাহত রয়েছে। স্বল্প ও নিম্ন আয়ের মানুষ নিজের মোবাইল ফোন নম্বর ও পরিচয়পত্র তথা ভোটার কার্ড নিয়ে ওএমএস পয়েন্টে গিয়ে ৩০ টাকা কেজি দরে দিনে সর্বোচ্চ ৫ কেজি করে চাল করছেন।
গতকাল সোমবার সরেজমিনে ক্যান্টনমেন্ট বাজারে ডিলার আব্দুল গণী মৃর্ধার ওএমএস দোকানে গিয়ে দেখা যায় চাল নিতে আসা নিম্ন আয়ের মানুষের দীর্ঘ লাইন।
নারী ও পুরুষেরা পৃথক পৃথক লাইনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে ওএমএসের চাল কিনছেন। সেখানে চাল কিনতে আসা শহরের বানিয়াপাড়ার আজিজ রোডের বাসিন্দা মোছা. আর্জিনা বেগমের সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিনিধির। তিনি জানান, তারা গবীর মানুষ। স্বামীর আয়ে পুরো সংসার চলে। বাজারে বর্তমানে ৫০/৬০ টাকার নিচের কোন মোটা চাল নেই। সরকারিভাবে এখানে ৩০ টাকা কেজিতে চাল কিনতে পারছি আমি। এতে বাজারে চেয়ে বেশ কিছু টাকা বেচে যাচ্ছে আমার। আর্জিনা বেগমের মতো ডিলার আব্দুল গণী মৃর্ধার ওএমএস দোকানে ৩০ টাকা কেজি দরে চাল কিনতে এসেছেন শহরের আদানীমোড় মোড় এলাকার আববাস আলী। তিনি জানান, আব্দুল গণী মৃর্ধার ওএমএস এর দোকান তাঁর বাড়ি থেকে একটু দূরে। কিন্তু তারপরও তিনি কষ্ট করে হলেও অর্থ সাশ্রয়ে পায়ে হেঁটে ক্যান্টনমেন্ট বাজার ওএমএসের চাল কিনতে এসেছেন। তিনি ওএমএসের ডিলারের সংখ্যা ও দোকান বাড়ানোর দাবি জানান।
ক্যান্টনমেন্ট বাজারের উপজেলা সড়কের ওএমএস ডিলার আব্দুল গণী মৃর্ধা জানান, আমার সৈয়দপুর পৌরসভার ১৫টি ওয়ার্ড মিলে দুই জন ডিলার ওএমএসের চাল বিক্রি করছি। ফলে আমাদের প্রতিদিন ক্রেতাদের ভীষণ চাপ সামালাতে হচ্ছে। সকাল থেকে শুরু করে দুপুর ১২টার মধ্যে চাল বিক্রি শেষ হয়ে যাচ্ছে। অনেকে আবার দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে চাল কিনতে না পেরে ফিরে যাচ্ছেন। সৈয়দপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. জিয়াউল হক শাহ্ জানান, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গত ১৪ জানুয়ারি সৈয়দপুর পৌরসভা এলাকায় দুইটি পয়েন্টে ওএমএসের চাল বিক্রি শুরু হয়েছে। নিম্ন ও স্বল্প আয়োর মানুষগুলো যাতে ওএমএসের চাল কিনতে পারেন সে জন্য আমার দপ্তর ও উপজেলা প্রশাসন থেকে কঠোরভাবে তদারকি করা হচ্ছে।