


দীর্ঘ প্রায় এক বছর পর নীলফামারীর সৈয়দপুরে দুই পাইকারি সবজির মার্কেট নিয়ে চলমান বিরোধের নিষ্পত্তি হয়েছে। এতোদিন দুই মার্কেট কমিটি বিরোধের কারণে পাইকারি সবজি ব্যবসায় চরম অস্থিরতা বিরাজ করছিল। সেই সঙ্গে গ্রাম থেকে আসা সবজি বিক্রেতারা পণ্য বিক্রি নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছিলেন। এতে একদিকে যেমন দামে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছিলেন সবজি উৎপাদকরা, তেমনি উভয় মার্কেটের ব্যবসায়ীরাও বিরোধে জড়িয়ে ব্যবসায় লোকসান গুনছিলেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গেল ২০২০ সালে সৈয়দপুর পৌর পাইকারি কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমিতি শহরের মিস্ত্রিপাড়া বাইপাস সড়কের পাশে নিজস্ব ক্রয়কৃত জমিতে স্থায়ী পাইকারি সবজি মার্কেট চালু করে। এর এক পর্যায়ে ব্যবসায়িক বিরোধে ব্যবসায়ীদের একটি অংশ শহরের বাইপাস সড়কের কুন্দল এলাকায় গত ২০২৪ সালে মধ্যবর্তী সময়ে বিসমিল্লাহ পাইকারি সবজি বাজার নামে আরেকটি মার্কেট চালু করেন।
এতে সৈয়দপুর পৌর পাইকারি কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমিতি ও বিসমিল্লাহ পাইকারি সবজি বাজার সমিতির মধ্যে ব্যবসা নিয়ে চরম বিরোধ দেখা দেয়। ফলে দুই মার্কেটের ব্যবসায়ী নেতারা বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। সে সময় ব্যবসায়ীরা মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলন, সড়ক অবরোধসহ নানা কর্মসূচি পালন করেন। ফলে সবজি ব্যবসায় সৃষ্টি হয় অনিশ্চয়তা। আর সে সময় বিবাদ মেটাতে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ জেলা, উপজেলা ও থানা প্রশাসন একাধিক বৈঠকে বসলেও তা ফলপ্রসূ হয়নি।
কিন্তু পরবর্তীতে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরির্বতনের পর সৈয়দপুর পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. নুর- ই- আলম সিদ্দিকী বিরোধ নিরসনের উদ্যোগ নেন। তিনি বিরোধ নিরসনে দুই মার্কেটের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে দফায় দফায় বৈঠকে করেন।
সম্প্রতি মার্কেট কমিটি ও অন্যান্য ব্যবসায়ী নেতাদের সর্বশেষ বৈঠকে বিদ্যমান বিরোধের নিষ্পত্তি করা হয়। বৈঠকে দুই পাইকারি সবজি মার্কেটের নেতৃবৃন্দ একত্রে মিলে ব্যবসা পরিচালনায় সম্মতি প্রকাশ করেন। তাঁরই আন্তরিক প্রচেষ্টায় পৌর পাইকারি কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমিতি ও বিসমিল্লাহ পাইকারি সবজি বাজার ব্যবসায়ী সমিতির মধ্যকার বিরোধের নিষ্পত্তি করা হয় বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন যথাক্রমে দুই মার্কেটের সাধারণ সম্পাদক তোফায়েল মোহাম্মদ আজম ও মো. মকসুদ আলম গোল্ডেন।
সৈয়দপুর পৌর পাইকারি কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক তোফায়েল মোহাম্মদ আজম ও বিসমিল্লাহ পাইকারি সবজি মার্কেটের সাধারণ সম্পাদক মো. মকসুদ আলম গোল্ডেনের সঙ্গে। তাঁরা জানান, আমরা চাইনা, আমাদের বিরোধের সুযোগ নিয়ে তৃতীয় পক্ষ তাদের স্বার্থ হাসিল করুক। তাই আমরা দীর্ঘদিনের বিবাদ ভুলে একত্রে ব্যবসা করতে ঐক্যমত্যে পৌঁছেছি। শিগগির আমরা দুই মার্কেটের ব্যবসা পরিচালনায় নীতিগত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবো। তাঁরা আরও বলেন, পৌর প্রশাসক ও সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নুর-ই-আলম সিদ্দিকীর বহুপাক্ষিক উদ্যোগের ফলে চলমান বিরোধের শান্তিপূর্ন সমাধান হয়েছে।
এতে দুই মার্কেটের ব্যবসায়ীরাও সন্তোষ প্রকাশ করেন। সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মো. নুর – ই – আলম সিদ্দিকী বলেন, ব্যবসায়ীদের মাঝে ঐক্য বজায় রাখাসহ সৈয়দপুরের স্বার্থে সকলের সহযোগিতায় দুই মার্কেটের দ্বন্দ্ব নিরসন করা হয়েছে। তিনি বলেন দুই মার্কেট কমিটির নেতৃবৃন্দের আন্তরিকতা ছিল বলেই বিরোধের নিষ্পত্তি হয়েছে। ভবিষ্যতে তাদের ঐক্যের বন্ধন অটুট থাকবে বলে আশাব্যক্ত করেন তিনি। এ নিয়ে দুই মার্কেটের ব্যবসায়ীরা নিজ নিজ অবস্থানে থাকার যৌক্তিকতা তুলে নানা কর্মসূচি পালন করে।